কাবুলে বিয়েবাড়িতে বিধ্বংসী বিস্ফোরণ: নিহত ৬৩

0
73

নিউজ ডেস্ক: বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। এক বিধ্বংসী বোমা বিস্ফোরণে সেখানে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬৩ জনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।আহতের সংখ্যা অন্তত ১৮২। আততায়ীরা বিস্ফোরণের জন্যে একটি বিয়েবাড়িকে বেছে নিয়েছিল। কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীই এখনও পর্যন্ত এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। বিয়ের অনুষ্ঠান স্থলে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের শরীরে থাকা বিস্ফোরণ দিয়ে উড়িয়ে দেয়। শহরের পশ্চিমে শিয়া অধ্যুষিত একটি এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে তালেবান এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং অন্য আর কেউ এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
যদিও কথিত ইসলামিক স্টেট গ্রæপ ও তালেবানসহ সুন্নি মুসলিম জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া স¤প্রদায়কে লক্ষ্য করে অতীতে বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়েছিল। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিয়ের অনুষ্ঠান স্থলে মৃতদেহগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।আফগানিস্তানে বিয়েতে অনেক অতিথি থাকে ও তারা একটি বড় হলঘরে সমবেত হয় যেখানে পুরুষদের থেকে নারী ও শিশুরা আলাদা অবস্থানে থাকে।
বিয়েতে আসা একজন অতিথি মোহাম্মদ ফারহাদ বলছেন পুরুষরা যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে যখন প্রচÐ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় তখন তিনি ছিলেন নারী ও শিশুদের অবস্থানের কাছে। “সবাই চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে দৌঁড়ে বেরিয়ে যায়,”। “প্রায় বিশ মিনিট ধরে পুরো হলরুমটি ছিলো ধোয়ায় ভর্তি। পুরুষদের প্রায় সবাই হয় নিহত কিংবা আহত। ঘটনার দু ঘণ্টা পরেও সেখান থেকে মৃতদেহ নেয়া হচ্ছে”।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালায় এবং তারা অনেক লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসরাত রাহিমি বোমা হামলায় বহু মানুষের হতাহতের খবর নিশ্চিত করলেও তিনি সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি। তবে কাবুলের পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৬৩ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছে।কোনো কোনো সূত্র এ ঘটনায় ৫০ জনের নিহত হওয়ার খবর দিলেও তা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার খবর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম কাবুলের শিয়া অধ্যুষিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ‘শাহরে দুবাই’ হোটেলে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা হল বরাদ্দ ছিল এবং পুরুষদের হলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এখনো কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান ও দায়েশ (আইএস) আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের শিয়া হাজারা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে। শুক্রবার পাকিস্তানের কোয়েটা শহরের কাছে একটি মসজিদে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা’র একজন ভাই নিহত হন। হামলার সময় হাইবাতুল্লাহর ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার কথা ছিল এবং তাকে লক্ষ্য করেই বোমা পেতে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে। পাকিস্তানে তালেবান নেতার ভাই নিহত হওয়ার একদিন পর কাবুলের শিয়া অধ্যুষিত এলাকার হোটেলে বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ এ হামলা চালানো হলো। আফগানিস্তানে গত কয়েক বছরে জঙ্গিদের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আনন্দ অনুষ্ঠানগুলিই। নিরাপত্তার কড়াকড়ি কম থাকায় এই জায়গাগুলিকে বেছে নেয় জঙ্গিরা। গত ১২ জুলাই পূর্ব আফগানিস্তানের নানগর এলাকায়ও আত্মঘাতী জঙ্গিরা একটি বিয়েবাড়িকেই বেছে নেয়। প্রাণ যায় ছয় জনের।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here