মায়ারমার ফেরা নিয়ে সংশয় সন্দেহ : রোহিঙ্গা শিশুদের বার্মিজের স্থলে বাংলা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে

0
28

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার জন্য লার্নিং সেন্টার ও প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের বাংলা শিক্ষা না দেয়ার কঠোর নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে তাদের বাংলায় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এরা যাতে বাংলাদেশের মূল ধারায় মিশে যেতে পারে, এ উদ্দেশ্যেই এটা করা হচ্ছে। বিদেশী সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলো এ কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এদিকে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে মায়ামার কর্তৃক ফেরত নেয়ার কথা বলা হলেও এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রথম দফায় যদি নেয়াও হয় পরবর্তীতে তারা পর্যায়ক্রমে সকল রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ঘনীভ‚ত হয়ে আছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিসেফ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসমূহের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে লার্নিং সেন্টার ও প্রাইমারি স্কুলে বাংলা শিক্ষা অবিলম্বে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তারপরও তাদের নির্দেশ প্রতিপালিত হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় থেকে প্রদত্ত গাইড লাইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শিশুদের মাতৃভাষা বার্মিজ। তাদেরকে বার্মিজ ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই বাংলা ভাষায় শিক্ষাদান না করতে বলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ লার্নিং সেন্টার ও প্রাথমিক স্কুলে বার্মিজ শিক্ষা দেয়া হয় না। গত এক বছর এভাবে চলে আসছে। বিষয়টি ধরা পড়ে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা, উপজেলার সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নজরে আসেনি বিষয়টি। এসব লার্নিং সেন্টার ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনও করেন না তারা। এর সুযোগে এনজিওগুলো পরিকল্পিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে।
জানা যায়, কুতুপালংসহ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরসমূহের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে দুই হাজার লার্নিং সেন্টার খোলা হয়েছে। এগুলো নন-রেজিস্ট্রার্ড। এসব লার্নিং সেন্টারে প্রায় ৭০ হাজার শিশু শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দেয়া হয়। রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে একশ আশিটি। এগুলোও পরিচালিত হয় ইউনিসেফ নির্ধারিত এনজিওর মাধ্যমে। দুই শতাধিক এনজিওকে এ’কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক, জাইকাসহ কয়েকটি বিদেশী সংস্থা এ জন্য আর্থিক সহযোগিতা করছে। ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কোডাক নামক একটি এনজিও ত্রিশটি লার্নিং সেন্টার ও বিশটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করছে। সবগুলো সেন্টার ও স্কুলে বার্মিজের স্থলে বাংলা শেখানো, পড়ানো হচ্ছে। কিন্তু তাদের মাতৃভাষা বার্মিজ। পঁচিশটি এনজিও একই কাজ করছে।
জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে ইউনিসেফ-এর ঢাকাস্থ কার্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। জানতে চাওয়া হয় গাইড লাইন করে দেয়ার পরও বার্মিজের পরিবর্তে কেন বাংলা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ইউনিসেফ-এর ঢাকাস্থ কার্যলয় থেকে এর জবাব আসেনি।  মন্ত্রণালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে, অনতিবিলম্বে এই কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে সরকার বিষয়টি ইউনিসেফ সদর দপ্তরকে জানাতে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলতে বাধ্য হবেন। বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। বিশেষ উদ্দেশে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই এটা করা হেেচ্ছ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মূল ধারার সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করা। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা ছড়িয়ে আছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here