মিন্নির স্বীকারোক্তি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

0
23

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান সাক্ষী থেকে আসামী বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আদালত । গতকাল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদনের শুনানিকালে এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার এ মামলার বৃত্তান্ত সম্পূরক আকারে দাখিল করতে বলেছেন আদালত। মিন্নিকে কখন পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগে নাকি পরে মিন্নি দোষ স্বীকার করেছেন, কখন বরগুনার পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং করেছিলেন তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসপি কী বলেছেন তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মঙ্গলবার সম্পূরক আবেদন করতে মিন্নির আইনজীবীদের নির্দেশ দেন আদালত। আদালত বলেন, সম্পূরক আবেদন দাখিল করুন। মঙ্গলবার বেলা ২ টায় শুনানি হবে। জামিন আবেদনের শুনানিতে মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, মিন্নি ১৯ বছরের একটি মেয়ে। সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। হত্যাকাÐের ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ১১ টি ক্লিপে বিভক্ত করে পুলিশ দাবি করছে মিন্নি এতে জড়িত। তিনি বলেন, ডিআইজি মিজানকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আর মিন্নিকে ৫ দিনের রিমান্ডে পুলিশ লাইনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিন্নি আদালতে বলেছে তাকে পুরুষ পুলিশ কর্তৃক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছে। ইতোমধ্যে ওই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন তিনি। আদালত বলেন, রিমান্ডে নেওয়ার আগেই কি তাকে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে? আইনজীবী বলেন, প্রথমে তাকে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। পরে রিমান্ডে নেয়া হয়। যা সংবিধান পরিপন্থী। আদালত বলেন, পত্রিকায় এসেছে মিন্নিকে প্রথমে পুলিশ লাইনে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিন রাতেই তাকে আসামি করা হয়েছে। পরদিন রিমান্ডে নেয়া এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পূর্বেই বরগুনার পুলিশ সুপার প্রেস-কনফারেন্স করে বলেছে মিন্নি দোষ স্বীকার করেছে। এগুলো কি জামিন আবেদনে উল্লেখ করেছেন। আইনজীবী বলেন, আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন আদালত বলেন, আবেদনের কোথাও তো তা দেখতে পাচ্ছি না। এরপরই হাইকোর্ট এসব তথ্য যুক্ত করে সম্পূরক আবেদন দাখিলের জন্য মিন্নির আইনজীবীকে নির্দেশ দেয়।
মিন্নির পক্ষে জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী। এর আগে ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানির পর জামিন পাওয়ার আশা না দেখে মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না আবেদনটি ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ওই আবেদনটিই রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে দাখিল করা হয়েছে। মিন্নির এক আইনজীবী জানান, জামিন আবেদন করা হয়েছে। সোমবার এটি কার্যতালিকায় উঠবে। আদালতে ১৬৪ ধারায় মিন্নিসহ আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না আনতে পারলে জামিন হবে না, হাইকোর্টের এমন শর্তের পর ৮ আগস্ট আবেদনটি ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেন, ‘আমরা ১৬৪ ধারা পাইনি। আর এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, ১৬৪ নিয়ে আমাকে জামিন আবেদন করতে হবে। চার্জশিট না হলে আমাকে ১৬৪ কেন দেবে পুলিশ। চার্জশিট হওয়ার আগে ১৬৪ দেয়ার বিধান নেই।’

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here