বিআরটিএর সার্কেল অফিসগুলোতে দুর্নীতি লাগামহীন : কয়েক লাখ মোটরযানের নথির হদিস নেই

0
159

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিআরটিএ’র সার্কেল অফিসগুলোতে দুর্নীতি, হয়রানি ও জনভোগান্তির অবসান হলোনা। বরং বেড়েই চলেছে। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষীয়ভাবে কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে একশ্রেনীর কর্মকর্তা-কর্মচারির অনিয়ম, দুর্নীতি, ্েস্বচ্ছাচারের সামনে চরম অসহায় যানবাহনের মালিকেরা।
বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ সারাদেশে মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৫৪ লাখ। এরমধ্যে রেজিষ্ট্রি করা মোটরযানের সংখ্যা ৪২ লাখের মত। ঢাকা শহরের তিনটি সার্কেল অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত মোটর যানের সংখ্যা ১৮ লাখ। রেজিষ্ট্রি না করে রাজধানী  ও জেলা শহরগুলোতে অসংখ্য প্রাইভেট কার, বাস, মিনিবাস, সিএনজি চালিত অটো রিক্সা, মোটর সাইকেল চলাচল করছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া ও ভ‚য়া কাগজপত্র দেখিয়ে তারা পাড় পেয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ অবস্থার জন্য বিআরটিএ কর্তৃপক্ষই প্রধানত্ব দায়ী। সরকার মোটরযানের রেজিষ্ট্রেশন ব্যবস্থা ডিজিটিলাইজড করেছে। কিন্তু এর সুযোগ মানুষ পাচ্ছেনা। রেজিষ্ট্রেশনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরবর্তীতে সম্পাদিত বিভিন্ন কাজের জন্য জমা করা কাগজপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার কথা থাকলেও তা করা হয়না। মোটরযান রেজিষ্ট্রেশন করা, রেজিষ্ট্রেশনের পর মালিকানা পরিবর্তন, প্রতিলিপিসহ বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে মোটরযানের কাগজপত্র যাচাই করা নিয়মিত কার্যক্রম। বিআরটিএ ও তার আওতাধীন সার্কেল অফিসগুলো এসব কাজ দ্রæততা ও স্বচ্ছাতার সাথে সম্পাদন করেনা। দুর্নীতি, অনিয়ম এখানে বাসা বেঁধে আছে। ডিজিটাল পদ্ধতির পরিবর্তে ম্যানুয়েলি একাজগুলো করা হয়। ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে নথি সংরক্ষণের সুযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারিরা দুর্নীতির অবারিত সুযোগ পান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বলেন যে, ম্যানুয়েলি রাখা নথির স্তুপের মধ্যে কাঙ্খিত নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। আবার অবৈধ পাওনা পেলে দ্রæততার সাথেই তা খুঁজে পাওয়া যায়।
বিআরটিএর মিরপুর, উত্তরা ও ইকুরিয়ায় সার্কেল অফিস রয়েছে। প্রতিটি অফিসই দুর্নীতির আখড়া বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তিনটি সার্কেলে যানবাহনের মালিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত কয়েক লক্ষাধিক আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করতে না পারায় গাড়ির মালিকেরা অবাঞ্চিত হয়রানি, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোটরযানের কাগজপত্র সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে দ্রæত মনিটরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হলে অর্থাৎ ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড স্টোরি সিসটেম (ডিএমএসএস) চালু করা হলে এ নৈরাজ্যের অবস্থার অবসান ঘটানো সম্ভব। তাতে মানুষের হয়রানিও হবেনা। অর্থাৎ কর্মকর্তা কর্মচারিদের অবৈধ কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার এই ডিএমএসএস পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় গত মেয়াদেই। কিন্তু এখনও এর প্রাথমিক পর্যায়ের কাজও শুরু করা হয়নি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here