বহুমুখী সংকটে বিএনপি

0
139

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুবিধ সমস্যা-সংকটে বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। রাজনৈতিক, সাংগঠনিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা। ডিসেম্বরে কাউন্সিল বিরাজমান সংকটের উত্তরণ ঘটাবে না নতুন করে আরেক সংকটের জন্ম দেবে তা নিয়েও সংশয়-শঙ্কা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবর্তমানে তাদের  নির্দেশমত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, না তা করতে গিয়ে দল বিভক্তির মুখে পড়ে সে শঙ্কাও হাল্কা করে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপির দুর্বল অবস্থা দল ও জোটের মধ্যে যেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সাধারণ মানুষদের মধ্যেও আস্থাহীনতা সৃষ্টি করছে। তড়িঘড়ি করে ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে তাঁকে ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অতিমাত্রায় প্রাধান্য দেয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের দারুনভাবে হতাশ ও বিস্মিত করে। তাদের নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম দেশের মানুষকেও বিতশ্রদ্ধ করে তোলে। ড.কামালের এই ঐক্যফ্রন্ট এখন অনানুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত প্রায়। ২০ দলীয় জোটকেও আর ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করা যাবে কিনা সংশয় রয়েছে। ২০ দলীয় জোটের কয়েক শরিক কর্ণেল ড. অলির জাতীয় মুক্তি মঞ্চে শরিক হয়েছেন বা ঘনিষ্ট যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ব্যরিস্টার আন্দালিব রহমান তার বিজেপি নিয়ে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছেন। মেজর জেনারেল (অব:) ইবরাহিমের কল্যান পার্টি, প্রয়াত সফিউল আলম প্রধানের জাগপা, ২০ দলীয় জোট থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেয়ার অপেক্ষায়। জামায়াতে ইসলামী কর্ণেল অলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। সামনে তাদের কাউন্সিল। কাউন্সিলের পর তারা ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে অলির জাতীয় মুক্তি মঞ্চে শরিক হতে পারেন। নেজামী ইসলাম, খেলাফত মজলিসসহ বিশ দলীয় জোটভুক্ত তিনটি ইসলামী দলও জাতীয় মুক্তি মঞ্চে যোগ দিতে পারে। তবে এরমধ্যে ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিলুপ্ত করা হলে বা এই ফ্রন্ট থেকে বিএনপি বেরিয়ে এলে রূপটা ভিন্নতরও হতে পারে।
সরকারি উচ্চতর পর্যায় থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা বহুবার বলা হলেও তারা কার্যত্ব দলটিকে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সরকারি দল চাচ্ছে জামায়াত নতুন করে সংগঠিত হয়ে বিএনপির শক্তিহীনতার স্থান পূরণ করুক। ড. কামালের নেতৃত্ব অস্বীকার করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিলুপ্ত বা এখান থেকে বেরিয়ে না এলে জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসবে। ডিসেম্বরে বিএনপির কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তারা।
জোটগত দুর্বল অবস্থার পাশাপাশি দলীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। অনেক জেলা, মহানগর কমিটির নেতৃত্বের দ্ব›দ্ব বিরোধের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। দেশে-বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিজেদের লোকদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বিরোধ জিইয়ে রাখছেন। তারেক রহমানের হস্তক্ষেপও তেমন একটি ফল দিচ্ছেনা। মহাসচিব মির্জা আলমগীরের পক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তি করে মহানগর, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ড.কামালের নেতৃত্ব মেনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা এবং ২০ দলীয় জোট দুর্বল হয়ে পড়া নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মাঠের নেতা-কর্মীদেরও  হতাশা অসন্তোষ রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক-সাংগঠনিক দৈন্যদশা কাটিয়ে উঠা সহজ নয়। ঝিমিয়েপড়া কর্মীদের উজ্জীবিত করতে বিএনপি জেলা পর্যায়ে কর্মসূচি নিয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এতে কিছুটা হলেও প্রাণশক্তি ফিরে পাচ্ছে। তবে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করার মতো শক্তি, মনোবল সঞ্চয় হয়নি। কাউন্সিলকে সামনে রেখেই বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক তৎপরতা। কাউন্সিল পরবর্তীতে অর্থাৎ আগামী বছরের প্রথম দিকে রাজপথের কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা তাদের। তবে তার আগে কাউন্সিলে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে বিরাজমান চাপা দ্ব›দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিলে তা সামাল দেয়া কঠিন হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here