কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরুতেই বাধাপ্রাপ্ত

0
32

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যমান ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট রানওয়েকে ৯ হাজার ফুটে সম্প্রসারণ, এর শক্তিবৃদ্ধি, রানওয়ের লাইটিং ব্যবস্থা উন্নয়নে ২ হাজার ১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৪ শত ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পিসিবক্স, গার্ডার ব্রীজ ও ৩ দশমিক ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। জটিল এ কাজ করতে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিক‚লতা ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে পরিকল্পনা মাফিক নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হতে পারে।
জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার সদর উপজেলার বাঁকখালি নদীর উপর কস্তুরিঘাটে ৫৯৫ মিটার দীর্ঘ পিসিবক্স, গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করছে। ব্রীজ নির্মাণ সাইট বঙ্গোপসাগরের অতি সন্নিকটে। এখানে জোয়ার-ভাটার প্রভাব খুব বেশি। ব্রীজ নির্মাণস্থলে নির্মাণ সামগ্রী, সরঞ্জামাদি, যন্ত্রপাতি পরিবহন কষ্টসাধ্য ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এখানে প্রয়োজনীয় সকল মালামাল নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। কার্যাদেশ দেয়ার চার মাসেও কাজের তেমন কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার কাজেও কাঙ্খিত অগ্রগতি সাধন সম্ভব নয়।
জানা যায়, হল্লা- মীর আখতার নামক প্রতিষ্ঠানকে যৌথ উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।
এ’প্রকল্পের জন্য আহুত আন্তর্জাতিক দরপত্রে দেশি বিদেশি চারটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিদেশি দু’টি কোম্পানি ও ক্ষমতাসীন দলের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতার মালিকানাধীন নির্মাতা কোম্পানিটিও এতে অংশ নেন। কিন্তু দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে এদের নন-রেসপনসিভ ঘোষনা করে। হল্লা-মীর আখতার জয়েন্ট ভেঞ্চার এর অফার গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয় এবং তাদেরকেই কাজ দেয়া হয়। যদিও তাদের রেট প্রাক্কলিত দর অপেক্ষা বেশি।
তাদের রেট অনেক বেশি এবং তারা কাজ এখনও শুরু করতে পারেনি, নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারবেনা আশঙ্কা ব্যক্ত করে কার্যাদেশ বাতিল করে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা তদবির করা হচ্ছে। আগ্রহী কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত কাজ করার নিশ্চয়তাও দিয়েছে। কিন্তু পিসি বক্স গার্ডার ব্রীজ নির্মাণে তাদের অভিজ্ঞতা না থাকায় উক্ত নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের আবেদন কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নেননি। তারপরও নানাভাবে প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here