যশোরে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কর্মশালা

0
146

যশোর প্রতিনিধি : তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পার্কের অডিটরিয়ামে বুধবার এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘তথ্যপ্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা ও সম্ভাবনা’। এতে যশোর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষক ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩০০ জন অংশ নেন। সফটওয়্যার পার্কে বিনিয়োগকারী আইটি/আইটিইএস কোম্পানিসমূহের উৎপাদিত উদ্ভাবনী সেবাসমূহ ব্র্যান্ডিং এবং এক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম এনডিসি। এরপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর্মশালার প্রধান আলোচক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে আইসিটি সেক্টরে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও অনেক সমৃদ্ধ হতে পারে। দেশের ১২টি জেলায় হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পে ভারত সরকার অর্থায়ন করছে।’অদূর ভবিষ্যতে ভারত বাংলাদেশে তাদের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো প্রসারিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী পলক।প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতি রীভা গাঙ্গুলী দাস। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন পিএইচডি এবং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর রিসোর্স পারসন সৌম্য বসু।শ্রীমতি রীভা গাঙ্গুলী দাস তাঁর বক্তব্যে সফটওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশের দ্রæত অগ্রগতির প্রশংসা করেন। এ শিল্পে বাংলাদেশ ও ভারত আগামীতে যৌথভাবে কাজ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্যানেল আলোচনার পর ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বিনিয়োগ, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।পরে ‘বাংলাদেশে স্টার্ট-আপ কালচার’ :সমস্যা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মিস টিনা জাবিন। তিনি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য স্টার্টআপদের মেন্টরিং ও আন্তর্জাতিক পরিমÐলে ফান্ড পেতে করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন।যশোর জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম এনডিসি। তিনি আইটি/হাই-টেক শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। এ শিল্পের সাথে জড়িত কোম্পানি এবং উদ্যোক্তাদের প্রদত্ত প্রণোদনা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন তিনি।কর্মশালার শেষ পর্যায়ে মাল্টি টেন্যান্ট বিল্ডিং (এমটিবি)- এর নিচ তলায় আইটি কোম্পানিসমূহের উদ্ভাবনী সেবার প্রদর্শনী ও স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সাথে বিজনেস টু বিজনেস সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আইসিটি শিল্পের সুষম বিকাশ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।পার্কে সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ১৫ তলা মাল্টি টেন্যান্ট বিল্ডিং, আন্তর্জাতিক থ্রি-স্টার মানের আবাসন ও জিমনেসিয়ামের সুবিধা আছে। এছাড়া ১২ তলা ডরমিটরি বিল্ডিং, একটি ক্যান্টিন ও অ্যাম্ফিথিয়েটার, ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাব-স্টেশন, ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট লাইন এবং অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিস দেওয়া হয়।২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধন করেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here