আসামে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ : অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে ১৯ লক্ষ পরিবার

0
33

নিউজ ডেস্ক: গতকাল প্রকাশিত হল আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা। নতুন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৩ কোটি ১১ লক্ষ মানুষ। আসামের এনআরসি তালিকায় ১৯ লাখ মানুষকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেয়া হয়েছে।এই ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষের ভবিষ্যত এখন অথৈ জলে।  খসড়া তালিকায় এই সংখ্যাটা ছিল ৪১ লক্ষ।   চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম উঠেনি তারা এখন আর ভারতীয় নয়, রাষ্ট্রহীন হয়ে গেছেন। তবে নাগরিকত্ব প্রমাণে আপিলের সুযোগ রয়েছে তাদের। বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের বহিষ্কার করার লক্ষ্যে এক সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য দাবি করে থাকে যে আসামে বাংলাদেশের কোন নাগরিক নেই।
১২০ দিনের ভেতরে আপিল করতে হবে তাদের। যদিও আগের চেয়ে আপিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে চূড়ান্ত ঘোষণাতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। মোট আড়াই হাজার এনআরসি সেবাকেন্দ্র আগলাতে শুরু করেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দিসহ স্পর্শকাতর ১৪ জেলার ওপর বিশেষ নজর রেখেছে প্রশাসন। রাজ্যের ৬০ হাজার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এ উপলক্ষে আসামে ২০ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠিয়েছে। জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। থমথমে পরিস্থিতি। একসঙ্গে চারজনের বেশি জমায়েতে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
অবৈধ অভিবাসীদের ভারত থেকে বের করতে আসাম রাজ্যের নাগরিক তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রæতি দিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর একেই মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৪ সালের পর থেকে শুরু হয় এনআরসি প্রক্রিয়া। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, অসমের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করা। তারাই কেবল নিজেদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে সক্ষম হবেন, যারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে আসামে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে পারবেন; যা আসামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্যে খুবই কঠিন। এ বছরের জুনে প্রকাশ করা হয় এনআরসির খসড়া তালিকা। সেখানে বাদ পড়ে ৪২ লাখ মানুষের নাম। যাঁদের অধিকাংশ বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলমান।
অনেকেই এনআরসি-র পদ্ধতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিজেপির বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীও। তাঁদের আশঙ্কা, বহু বাঙালি হিন্দুর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। অনেক বিদেশি এই তালিকায় ঢুকে পড়তে পারেন। গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এনআরসি নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। তিনি পরে জানান, তালিকা থেকে বিদেশিদের বাদ দিতে কেন্দ্র আইন আনারও চিন্তাভাবনা করছে যাতে সঠিক নাগরিকরা তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। আসামের মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাও এই এনআরসি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাতিল করার ক্ষেত্রে এই তালিকা কতটা সহযোগী হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ লাগোয়া জেলা দক্ষিণ সালমারা ও ধুবুরিতে তালিকা থেকে বাদ পড়ার হার সর্বনি¤œ। অথচ ভূমিপুত্র জেলায় প্রচুর মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এটা কী ভাবে সম্ভব? আমরা এই তালিকায় ভরসা রাখছি না।”
কীভাবে এই বিতর্কের শুরু?
বাংলাদেশ থেকে আসা তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের ইস্যুটি কিন্তু কোন নতুন ঘটনা নয়। আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বা এনআরসির প্রথম তালিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে। সেটা ছিল ভারত ভাগের চার বছর পর। সে সময় তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ হওয়ার পর লক্ষ লক্ষ লোক সীমান্ত অতিক্রম করে নবগঠিত ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
শুধুমাত্র আসাম রাজ্যে এনআরসির মতো প্রথা শুধু চালু আছে
বিপুল সংখ্যক মুসলমানদের আগমন হিন্দু-প্রধান আসামের জনসংখ্যার ভারসাম্যকে বদলে দিতে পারে এই আশঙ্কায় সেখানকার অসমীয়া জাতীয়তাবাদী দলগুলো আন্দোলন শুরু করে এবং নাগরিকত্বের প্রথম তালিকাটি তৈরি হয়। এই সমস্যা আবার দেখা দেয় ১৯৭০-এর দশকে যখন বাংলাদেশে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ পালিয়ে ভারতে চলে যায়। এদের একাংশ আসামে আশ্রয় নেয়। অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) ১৯৭৯ সালে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৩ সালে এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেয় যাতে ২০০০ সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী প্রাণ হারান। এদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলমান। আসু এবং কয়েকটি আঞ্চলিক দল এই প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত ১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে একটা চুক্তিতে আসে। চুক্তিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ আগে থেকে আসামের বাসিন্দা কেউ এমনটা প্রমাণ করতে না পারলে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে এবং তাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু চুক্তিটি কখনই বাস্তবায়ন করা হয়নি।
আসামে অভিবাসন নিয়ে বহু দশক ধরে বিতর্ক হয়েছে। তাহলে এ বছর এ নিয়ে কেন এত হৈচৈ? অভিজিৎ শর্মা নামে এক ব্যক্তি ২০০৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোটের কাছে এক পিটিশন দায়ের করেন এবং এনআরসি তালিকা হালনাগাদ করার আবেদন করেন। দু’হাজার চৌদ্দ সালে আদালত ঐ তালিকা ২০১৬ সালের ৩১শে জানুয়ারির মধ্যে হালনাগাদ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আদেশ দেয়। তবে দু:সাধ্য এই কাজ- যাতে তিন কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দলিলপত্র যাচাই করার ব্যাপার রয়েছে-তা সম্পন্ন করে সরকার ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। যাচাই বাছাইয়ের পর ঐ খসড়ার দ্বিতীয় তালিকাটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের ৩০শে জুলাই।
কারা আছেন এই তালিকায়?
এনআরসিতে যাদের নাম রয়েছে তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চের আগে তারা আসামে এসে হাজির হয়েছেন। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য রাজ্যের সব অধিবাসীকে তাদের জমির দলিল, ভোটার আইডি এবং পাসপোর্টসহ নানা ধরনের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হয়েছিল। যারা ১৯৭১ সালের পর জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের প্রমাণ করতে হয়েছে যে তাদের বাবা-মা ঐ তারিখের আগে থেকেই আসামের বাসিন্দা। খসড়া তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট তিন কোটি ২৯ লক্ষ বাসিন্দা তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে সমর্থ হন। কিন্তু ৪০ লক্ষ মানুষ এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান। নাগরিকত্বের বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেয়া হতে পারে। এরপর নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হয় এবং ৩৬ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য দলিলপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। চলতি বছর ২৬শে জুন আসাম সরকার ঘোষণা করে যে এক লক্ষ বাসিন্দাকে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং তাদের আবার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। এনআরসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছে যে তালিকা থেকে বাদ পড়া বহু লোকের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছে এবং কাছের অফিস বাদ দিয়ে বহু দূরের অফিসগুলোতে গিয়ে তাদের কাগজপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কেমন প্রতিক্রিয়া ছিল আসামে?
নাগরিকত্বের তালিকা নিয়ে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ভারত জুড়ে বহু হিন্দু আসামের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রশংসা করে বলেছেন, অন্য রাজ্যগুলো সেটা করার ‘সাহস’ পায় নি, আসাম সেটাই করে দেখিয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এই প্রক্রিয়ার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার বহু পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ও লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাতারাতি রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত করেছে। বিরোধীদল কংগ্রেস পার্টির নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই তালিকা মানুষের মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই তালিকার সবচেয়ে সরব সমালোচকদের একজন। তিনি আশঙ্কা করছেন, এই প্রশ্নে ‘রক্তগঙ্গা’ বয়ে যাবে এবং এই প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটা পরিহাস। কিন্তু স্থানীয় ভারতীয় কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, তারা ‘মুসলমানদের লক্ষবস্তুতে’ পরিণত করছেন না। তবে ইতিমধ্যে এনআরসির প্রধান প্রতীক হাজেলা বিবিসি উর্দুর কাছে স্বীকার করেছেন যে যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা ‘ভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ’। স্থানীয়ভাবে আসামের আদি বাসিন্দা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ অসমীয়ারা এই প্রক্রিয়াকে জোরালোভাবে সমর্থন করছেন। অসমীয়াদের মধ্যে নানা ধরনের জাতি ও ভাষা গোষ্ঠী এবং উপজাতি রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোর সবার ভাষা অহমীয়া হলেও তাদের ধর্মীয় পরিচয় বিভিন্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বড় অংশ হিন্দু এবং মুসলমান। স্থানীয় হিন্দুরা বিপুলভাবে এনআরসির সমর্থক। কিন্তু স্থানীয় মুসলমানরা এনিয়ে কিছুটা নীরব। কারণ তাদের ভয় এ নিয়ে মুখ খুললে তাদেরও বাংলাদেশী হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। আর তাদের এই আশঙ্কার মূলে রয়েছে আসামের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার প্রধানের বক্তব্য যেখানে তিনি খোলাখুলিভাবে বলেছেন যে তিনি মুসলমান অভিবাসীদের চেয়ে হিন্দু অভিবাসীদের প্রাধান্য দেবেন।
এনআরসি প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল?
নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রক্রিয়া থেকে চমকে যাওয়ার মতো ফলাফল দেখতে পাওয়া গেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা, বর্তমান রাজনৈতিক নেতা এমনকি কিছু সরকারি কর্মকর্তাও ঐ তালিকায় তাদের নাম খুঁজে পাননি। সামান্য বানান ভুলের জন্য আবেদনকারীদের দলিলপত্র খারিজ করে দেয়া হয়েছে। দেখা গেছে, কোন পরিবারের এক সদস্যের নাম তালিকায় রয়েছে। কিন্তু বাদ পড়েছেন অন্য সদস্য। আসাম নিয়মিতভাবে বন্যার শিকার হয়। একারণে বহু পরিবারের সরকারি কাগজপত্র নষ্ট হয়েছে। দলিলপত্র সংরক্ষণের দুর্বলতা, অশিক্ষা এবং অর্থ না থাকায় মামলা করতে পারেনি বহু পরিবার। পরিবার ও আন্দোলনকারীরা বলছে, এই অনিশ্চয়তার চাপ নিতে না পেরে অনেকেই আত্মহত্যা করেছে। আসামের প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস-এর নেতা জমির আলী বলছেন, ‘মানসিক আঘাত ও চাপ’ সইতে না পেরে আসামে ৫১ ব্যক্তির আত্মহত্যার তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। বেশিরভাগ আত্মহত্যা ঘটনা ঘটেছে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের পর, যেসময়ে নাগরিক তালিকার প্রথম খসড়াটি প্রকাশিত হয়েছিল।
গণবহিষ্কারের ঘটনা কী আদৌ ঘটবে?
এটা এখনও পরিষ্কার না, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও যে বহিষ্কার ঘটবে তার সম্ভাবনাও কম। এনআরসি তালিকা থেকে যারা বাদ পড়বেন তাদের নাগরিকত্বও সাথে সাথে বাতিল হয়ে যাবে না। এর বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য তারা ১২০ দিন সময় পাবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহুবার বলেছেন যে আসামের অবৈধ মুসলমান অভিবাসীদের রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হবে। তবে এ্টা প্রায় নিশ্চিত এসব মানুষকে  বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। এর পরিবর্তে ভারত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো ‘নতুন একদল রাষ্ট্রবিহীন নাগরিক তৈরি করে ফেলতে পারে’ এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। অবৈধ অভিবাসী হস্তান্তরের প্রশ্নে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোন চুক্তি নেই। ঐ অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ শেষাদ্রি চারি বলছেন, বাংলাদেশ বরাবরই এই ইস্যুটিকে ভারতের “অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বিবেচনা করে এবং বলে যে এটা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক কোন বিষয় নয়।” “এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তেরই প্রমাণ পাওয়া যায় যে ভারত পাঠাতে চাইলেও একজন অবৈধ অভিবাসীকেও বাংলাদেশ গ্রহণ করবেন না,”।
সহিংসতার আশঙ্কা
এই তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়ছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আসাম সরকার তালিকার বাইরে থাকা লোকেদের ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য প্রকাশ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে এদের বেশিরভাগই বাংলা-ভাষী মুসলমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির একটা সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে, ৩১শে অগাস্টের পর যদি কিছু ঘটে সেটা মোকাবেলার কোন প্রস্তুতি সরকারের নেই। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য রাজ্য সরকার বন্দি শিবির তৈরি করছে, কথিত অবৈধ অভিবাসীদের জন্য শত শত ট্রাইবুনাল গঠন করছে এবং যারা বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হবেন তাদের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করছে। তবে আসাম-ভিত্তিক সাংবাদিক রাজীব ভট্টাচার্য্য লিখেছেন: এনআরসি-পরবর্তী আসামের জন্য ‘দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির’ প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলছেন, সরকার বিদেশিদের ব্যাপারে কোন পরিকল্পনা নেয় নি, কারণ তারা জানে এদের বাংলাদেশে ‘ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
তাহলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কী ঘটবে?
বিবিসির সংবাদদাতা নিতিন শ্রীবাস্তব জানাচ্ছে, “সব আপিল এবং চ্যালেঞ্জ দূর হওয়ার পর এই তালিকাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা শুরু হতে পারে।” “আর সেটা শুরু হবে যখন এরা তাদের জমি, ভোটের অধিকার এবং মুক্তির প্রশ্নে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠবে।”

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here