শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামুল্যের নিম্নমানের পুস্তক তুলে দেয়া হবে

0
72

নিজস্ব প্রতিবেদক : বছরের প্রথম দিবসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক হাতে তুলে দেয়ার অনন্য নজির স্থাপন করেছে সরকার। সরকারের এই কার্যক্রম প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের যেমনি বিপুলভাবে উৎসাহিত করে, অভিভাবক, সাধারন মানুষেরও ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কিন্তু আগামী (২০২০) শিক্ষা বর্ষে এই ধারা বজায় রাখা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরাই সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে মুদ্রিত পুস্তকের মান নিয়ে তারা শঙ্কিত।
প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষা বর্ষে প্রাথমিক স্তরের বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ৯৮টি লটে ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৫ টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাঠ্য পুস্তক মুদ্রন, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য দরপত্রে ৮৯টি ছাপাখানা থেকে ৮৭০ টি দরপত্র পাওয়া যায়। মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নের ১০১ টি দরপত্র নন-রেসপনসিটভ হয়। ৭৬৯টি দরপত্র রেসপনসিভ হয়। এই ছাপাখানাগুলোর রেট অস্বাভাবিক কম বলেই সংশ্লিষ্টদের সংশয় ও শঙ্কা। নির্দিষ্ট মান সম্পন্ন কাগজের দাম, মুদ্রন খরচ, বাঁধাই, পরিবহন, মুনাফাসহ বাজারমুল্য ধরেই কর্তৃপক্ষ মূল্য প্রাক্কলন করে থাকেন। কিন্তু রেসপনসিভ ঘোষিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কম রেট দিয়েছে। প্রাক্কলিত রেট অপেক্ষা এত কম রেটে তারা কি করে নির্ধারিত মান সম্পন্ন পুস্তক সরবরাহ করবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দুই বছর আগের রেটই কোট করে। যা অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। কাগজের দাম, বর্ধিত বিদ্যুত বিল, শ্রমিকের মুজুরি, কভারসহ ভিতরে রঙিন পাতাসহ প্রতিটি উপকরনের অস্বাভাবিক মুল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তারপরও অপেক্ষাকৃত অনেক কমরেটে তারা কিভাবে উন্নত মানসম্পন্ন পুস্তক সরবরাহ করবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ডেমরার ভাই ভাই প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান ৭৮ নম্বর লটে ৯ লাখ ১৮ হাজার ২৫৭টি পুস্তক সরবরাহের জন্য দরপত্রে অংশ নেয়। তাদের কোট করা রেট হচ্ছে ২ কোটি ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। অথচ কর্তৃপক্ষ এই লটের প্রাক্কলিত মূল্য ধরেছেন ৩ কোটি ৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা। বাজারমূল্যের ভিত্তিতে স্থিরকৃত খরচ অপেক্ষা ৩৪ শতাংশ কম রেট দেয়া হয়। নোয়াখালীর চৌমুহনীর অগ্রনী প্রিন্টিং প্রেস ৮২ নম্বর লটে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৩টি পুস্তক সরবরাহের জন্য রেট দেয় ২ কোটি ২০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। অথচ কর্তৃপক্ষ এই বইয়ের প্রাক্কলিত মূল্য ধরেন ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এদের রেট প্রাক্কলিত রেট অপেক্ষা ৩৩ দশমিক ৯৯ ভাগ কম। রেসপনসিভ ঘোষিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এরকম কম রেট দিয়েছে। এতটা কম রেটে উন্নত মান সম্পন্ন কাগজে আকর্ষনীয় রঙ্গিন মোড়কে পুস্তক ছাপানো সম্ভব নয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে নিম্নমানের কমদামের কাগজ দেয়া হবে। শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে ভাল কাগজে আকষর্নীয় উন্নত ছাপা পুস্তক কোনসময়ই সরবরাহ করা হয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা বর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পুস্তক পৌছে দেয়া নিশ্চিত করাকেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখে থাকে। মান নিশ্চিত করা হয়না।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here