কাফকোর পিছনে হাজার কোটি টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে

0
44

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুক্তি অনুযায়ী কাফকো’র কাছ থেকে ইউরিয়া সার বাধ্যতামূলকভাবে কিনতে গিয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনকে আটশ থেকে হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে।
কাফকো’ থেকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন এ’ বছর সাড়ে পাঁচ লাখ মে.টন ইউরিয়া ক্রয় করছে। এ বছরে ইউরিয়ার মোট চাহিদা নিরুপিত হয়েছে সাড়ে ছাব্বিশ লাখ মে.টন। এর বাইরে ৮ লাখ মে.টন সার রাখা হবে সমাপনী মজুদ হিসেবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটাতে কাফকো’ থেকে তাদের নির্ধারিত দামে সার কিনতে হচ্ছে। কাফকো’ থেকে ২৭০ মার্কিন ডলার প্রতিটনে সাড়ে ৫ লাখ টন ইউরিয়া কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম টনপ্রতি ২৬৭ থেকে ২৬৮ মার্কিন ডলার। কাফকো’ ব্যাগ প্রতি পাঁচ মাকিৃন ডলার করে ব্যাগিং চার্জ রাখছে। অথচ ব্যাগিংসহই বিদেশ থেকে উল্লেখিত রেটে ইউরিয়া কেনার সুযোগ রয়েছে। এজন্য পৃথক ব্যাগিং চার্জ রাখা হয়না। বাড়তি দামও ব্যাগিং চার্জসহ সাড়ে পাঁচ লাখ মে.টন ইউরিয়া ক্রয়বাবদ বিসিআইসিকে আটশ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জানা যায়, কাফকোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছরই বাংলাদেশকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি মেনে নিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাকালে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাফকো নজিরবিহীন সুবিধা দেয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী যেকোন পরিস্থিতিতে কাফকোকে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। যান্ত্রিক, কারিগরি ক্রুটি মজুদ সংকটসহ যে কোন বিপর্যয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হলে গ্যাসের কারনে কাফকোর উৎপাদন ব্যহত বা বন্ধ থাকলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণের পরিমান বিশাল অঙ্কের। ক্ষতিপূরণবাবদ বছরে কাফকো’কে চারশ কোটি টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কাফকো চুক্তি বাতিল করারও কোন সুযোগ নেই। এ’নিয়ে বিসিআইসি ও শিল্প মন্ত্রণালয় এক মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here