গ্রামে বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি

0
21
Modern, contemporary layered skyscraper, high rise building, flat vector illustration isolated on city background. Flat skyscraper, business center, high rise building, modern urban cityscape design

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীন জনগনকে শহুরে জীবনের স্বাদ, নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা দিতে পল্লী জনপদ নামে নেয়া প্রকল্পটি ছয় বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার এ প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৪ সালে। শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০১৭ সাল। দীর্ঘ সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় এবং নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রকল্প ১শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি বিভাগে একটি করে সাতটি বহুতল ভবন বিশিষ্ট পল্লী জনপদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়। বিশেষ ধরনের এ কর্মসূচি বাংলাদেশে এই প্রথম। ফ্ল্যাট ভিত্তিক ভবনগুলোর মালিকানা গ্রামের সুবিধা ভোগীদেরই থাকবে। ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করা হবে সমবায় ভিত্তিতে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার দেবে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সুবিধাভোগীরা দেবেন ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। একসঙ্গে ২শ ৭২ টি পরিবারের বসবাসের জন্য আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসহ চারতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে ২৭টি হাঁস-মুরগী, কমপক্ষে একটি গরু পালনের জন্য পাশেই তিনতলা ক্যাটেল হাউজ নির্মাণ করে দেয়া হবে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। বিকল্প বিদ্যুত ব্যবহারের জন্য ‘বিদ্যুত’ রান্নার জন্য বায়োগ্যাস ও উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার উৎপাদন, লেক/পুকুর খনন করা হবে। সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন আয় বর্ধনমূলক কাজের প্রশিক্ষণ, আরডিএ ঋন সুবিধার মাধমে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র, লাইব্রেরি, খেলার মাঠ, ডিপার্টমেন্টাল সপ, অতিথিশালা, প্রাণি সম্পদ চিকিৎসাকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন করা হবে।  সরকারি উদ্যোগে এগুলো নির্মাণ করা হলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে সমবায়ের মাধ্যমে। সরকারের পক্ষে দায়িত্বে রয়েছে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি।
জানা যায়, যারা ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ জমি প্রকল্পের জন্য দান করবেন তারাই ফ্ল্যাট পাবেন। গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলার যেসব পরিবারের সদস্যরা বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সংশ্লিষ্ট উপজেলার ও পাশ্ববর্তী উপজেলার অধিবাসী ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাবেন। গ্রামের স্বল্প আয়ের, নিম্নবিত্তরা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাবেন না। কারণ তাদের সে সামথ্যই নেই। ফ্ল্যাটের মোট নির্মাণ ব্যয়ের ত্রিশ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আকারে অগ্রিম জমা দিতে হবে। দুই বছরের মধ্যে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হবে। চাবি হস্তান্তরের পর অবশিষ্ট সত্তর শতাংশ অর্থ সর্বোচ্চ পনের বছরের মধ্যে পাঁচ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ পরিশোধ করতে হবে।
সরকারের এ পরিকল্পনা গ্রামের মানুষের জন্য আকর্ষণীয় হলেও তাদের অধিকাংশই এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন। অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন, ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। অনেকেই নির্ধারিত পরিমান টাকা জমা দিলেও ফ্ল্যাটে উঠার ভাগ্য হয়নি। কারণ কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজই শুরু করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে গ্রামে একসাথে জমি পাওয়া।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here