ব্রেক্সিট না পেছানোর সিদ্ধান্তে অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

0
17
Foreign Secretary Boris Johnson arrives for the last day of the Conservative Party Conference at the Manchester Central Convention Complex in Manchester.

নিউজ ডেস্ক : ব্রিটিশ পার্লামেন্টে টানা দুই দফা হারের পরও ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজের অবস্থানের পক্ষে অনড় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) কোনো চুক্তি ছাড়াই নির্ধারিত তারিখে কার্যকর করা নিয়ে বরিস বলেছেন, তিনি খাদের কিনারে গিয়ে যদি মারাও যান, তবুও ব্রেক্সিট পেছাবেন না।
বরিস বলেছেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদে পুরোপুরি প্রস্তুত তিনি। কিন্তু বরিসকে হারিয়ে সংসদীয় কার্যবিধির নিয়ন্ত্রণ পাওয়া বিরোধীদল লেবার পার্টি বলছে, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট আটকাতে তারা বদ্ধপরিকর।
২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চার দশকের সম্পর্কচ্ছেদের পক্ষে রায় দেয় যুক্তরাজ্যবাসী। কিন্তু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই জোট থেকে কোন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য আলাদা হবে এবং এরপর ইইউভুক্ত বাকি ২৭টি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে, সেসব বিষয়ে ব্রিটিশ এমপিরা একমত হতে না পারায় ইইউ থেকে এখনও ‘মুক্তি’ মেলেনি ব্রিটেনের।ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেঁধে দেওয়া সর্বশেষ সময় অনুযায়ী, বিচ্ছেদ প্রশ্নে ব্রিটেন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারুক বা না পারুক, ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে বিচ্ছেদ হবে হুট করেই, বিচ্ছেদ পরবর্তী সম্পর্ক কেমন হবে, ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর কাঠামো কেমন হবে, ক‚টনৈতিক সম্পর্কের ধরনই বা কী হবে- সেসব বিষয় অনির্ধারিতই থেকে যাবে। এটাকেই বলা হচ্ছে ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’।
গত জুলাইয়ের শেষে টেরিজা মের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রিত্ব বুঝে নেওয়া বরিস জনসন ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে অবিচল। ব্রিটেনকে তিনি ‘নো ডিলের’ দিকেই নিতে চাচ্ছেন, যা নিয়ে বিরোধীদলের পাশাপাশি জনসনের নিজের দলেরও অনেকের আপত্তি জানান। এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই গ্রীষ্মের ছুটি শেষে গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন বসে। চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ আটকাতে অধিবেশনের শুরুতেই সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব আনে বিরোধী দল। কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীসহ কনজারভেটিভ পার্টির মোট ২১ জন এমপি ওই প্রস্তাবের পক্ষে যোগ দেন। ওই বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ এক ভোটাভুটিতে হেরে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তারপর বিরোধীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন বরিস। বৃহস্পতিবার ওয়েকফিল্ডের পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেয়া বক্তৃতায় বরিস বলেছেন, তিনি খাদের কিনারে গিয়ে যদি মারাও যান, তবুও ব্রেক্সিট পেছাবেন না। ব্রেক্সিট কার্যকরে নিজের এমন দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, যদি নির্ধারিত তারিখ ৩১ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে আরও দীর্ঘায়িত করা হলে পদত্যাগ করবেন কিনা তখন তিনি সে সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। অনুষ্ঠানে ফের তার আগাম নির্বাচনের কথা আবারও জানান তিনি। বরিস চান আগামী ১৫ অক্টোবর ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তিনি এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি (ব্রেক্সিট) সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এটাই একমাত্র পথ।’ এদিকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ছোট ভাই জো জনসন ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ও তার ভাইয়ের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ভাই বরিস জনসন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী হলেও ২০১৬ সালের গণভোটে তিনি যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। জো জনসন বলেছেন, পারিবারিক আনুগত্য এবং জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সংঘাতের কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক টুইটে ভাই বরিস জনসনের মন্ত্রিসভার বাণিজ্যমন্ত্রী জো জনসন বলেন, তিনি এক অপরিসীম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। তার স্থানে এখন অন্য কারো আসার সময় হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here