বর্ষাকালের ফল আমড়ার গুণাগুণ

0
39

রনি অধিকারী : বাংলাদেশে আমড়া চাষ বেশ জনপ্রিয়। বর্ষাকালে পাওয়া যায় এমন ফলগুলোর মধ্যে আমড়া অন্যতম। বাংলাদেশের মূলত দুই ধরনের আমড়া চাষ হয়। একটি দেশি প্রজাতি ও অপরটি বিলাতি আমড়া। তবে বর্তমানে দেশি আমড়ার চাষ একেবারে কমে এসেছে। আমড়া গাছ প্রায় ২০-৩০ফুট উঁচু হয়। প্রতিটি যৌগিক পাতায় ৮ থেকে ৯ জোড়া পত্র থাকে। পত্রদÐ ৮ থেকে ৯ ইঞ্চি লম্বা এবং পত্রগুলো ২ থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। আমড়া কাঁচা অবস্থায় টক ও পাঁকলে মিষ্টি স্বাদযুক্ত। আমড়া গাছ ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে ফল দেয়। আমড়া অতি পরিচিত একটি ফল। এটি কষ ও টক স্বাদযুক্ত ফল এবং সহজেই পাওয়া যায় । আমড়া ফল কাঁচা ও পাঁকা রান্না করে বা আচার বানিয়ে খাওয়া যায়। দামে সস্তা হলেও মুখে রুচি বৃদ্ধিসহ অসংখ্য গুণাগুণ রয়েছে এ ফলের। এ ফল আগস্ট মাসে বাজারে আসে আর থাকে অক্টোবর পর্যন্ত। আমড়া ফলে রয়েছে পুষ্টির সমারোহ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, লোহা, আয়োডিন ও আঁশযুক্ত। যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রুচি ও হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়াও আমড়া ফল, পাতা, ছাল শিকড় ও ফুলে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঔষধি গুণাগুণ। তাই আমড়া গাছ থেকে শুরু করে শিকড় পর্যন্ত কোনো কিছুই ফেলে দেয়ার মতো নয়। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি’ থাকায় এটি ফ্রি রেডিক্যাল দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি হার্টের দূর্বলতা কমায়, ত্বকের ক্ষত, স্কার্ভি, জ্বালাপোড়া, ফুসকুড়ি ও ঘাঁ ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। এটি ত্বকের কোলাজেন বৃদ্ধি করে, লিগামেন্ট টেন্ডন ও অস্থিকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও শরীরের গিঁটে ব্যথা, বাত ব্যথা, জ্বর উপমশ করে। শিশুদের দৈহিক গঠনে আমড়া খুবই উপকারী। তাই শিশুদের আমড়া খেতে উৎসাহিত করতে পারেন।আমড়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লোহা ও ক্যালসিয়াম।এটি পিত্তনাশক ও কাশি দূর করে। আমড়া খেলে হজম শক্তি ও স্বাদ বৃদ্ধি পায়। আমড়া অ্যান্টি-ব্যক্টেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে ও ক্ষত স্থান ভালো করে। এছাড়াও আমড়া খেলে রক্তের কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে ও হার্টের দূর্বলতা কমায়। আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে লৌহ থাকায় এটি রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে ও রক্ত সংরক্ষণ করে। ত্বকের ইনফেকশন ও ব্যথানাশ করে আমড়া। প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় ১.১গ্রাম প্রোটিন, ১৫ গ্রাম শ্বেতসার, ০.১০ গ্রাম স্নেহ জাতীয় পদার্থ এবং ৮০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন আছে। আরো আছে ০.২৮ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.৪ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন, ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিনসি, ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৩.৯ মিলিগ্রাম লৌহ। আমড়ায় খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালোরি।খনিজ পদার্থের পরিমাণ শূন্য ০.৬মিলিগ্রাম। কাঁচা আমড়া বেশ সুস্বাদু। আমড়া দ্বারা নানা স্বাদের আচার, চাটনি, জুস ও জেলি প্রস্তুত করা হয়। আমড়ার কিছু পুষ্টিগুণ বিষয়ে জেনে নিই : ১. ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ: ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের রোগ, মাংস পেশীর খিঁচুনিসহ অনেক রোগ হতে পারে। তাই প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে আমড়ার খাওয়া যেতে পারে। ২. ত্বক ভাল রাখতে: ত্বকের ব্রণ কমাতে এবং ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে আমড়া দারুণ উপকারী। আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, যা ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। ৩. রক্তস্বল্পতা রোধে: আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা রোধে কার্যকরী। আয়রন রক্তে হিমোগেøাবিনের মাত্রাও ঠিক রাখে। ৪. বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে: আমড়ায় বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। তাই বদ হজম, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত আমড়া খেতে পারেন। ৫. সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুঞ্জার বিরুদ্ধে কাজ করে: আমড়া বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করে এবং সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। তাই আমড়ার সিজনে প্রতিদিন এই ফল খেলে আপনি নানান সংক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা পেতে পারেন। ৬. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: আমড়ায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব হয়। ৭. রুচি বাড়ায়: অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে আমড়ার দারুণ কার্যকর। আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় ও ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। তাই রুচি বাড়াতে নিয়মিত ফলটি খাওয়া যেতে পারে। ৮. স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: আমড়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই আমড়া খেলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here