একজন মায়াবতী তিশার গল্প…

0
12

বিনোদন প্রতিবেদক :  মধ্য দুপুরে বনানীর ৬ নম্বর রোডের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছিলাম। কিছুক্ষণ পরে নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে আড্ডা শুরু হবে। সেখানে লক্ষ্য করলাম কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের রিপোর্টারও অপেক্ষা করছেন। তিশার বাইট নেবেন তারা। লিফট থেকে নেমে সোজা সদর দরজা। ঘরে ঢুকে চোখে পড়ল পরিপাটি ড্রইংরুম। বেশ সাজানো-গোছানো। ঘরটি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন তিশা। রুমের সিলিংয়ে এক কোণে তিনটি বড় বাতি ঝুলছে। দিনের আলোয় জ্বল জ্বল করছে। এই বাতির সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়ে আলো ছড়ানো হাসি নিয়ে সামনে এলেন তিশা।
এক গাল মিষ্টি হেসে বলেন, ‘সব ঠিকঠাক তো?’ আমি রেডি। বাড়ির ছাদে হবে আড্ডা ও ফটোশুট। তখন শরতের আকাশে ছিল কিছু কালো মেঘ। হঠাৎ বৃষ্টি নামল। শরতের বৃষ্টি। স্থায়িত্ব কম। তাই তো ফাঁকে ফাঁকে রোদেরও উঁকিঝুঁকি। যেন মেঘ-রোদ্দুর খেলায় মেতেছিল প্রকৃতি। এই ফাঁকে ‘মায়াবতী’র আড্ডা পর্ব সেরে নিলে কেমন হয়? প্রশ্ন রাখেন তিশা। মায়াবতীর খোঁজে শুরু হলো নন্দনের সঙ্গে জম্পেশ আড্ডা। তবে তিশার পক্ষ থেকে শর্ত ছিল একটাই, আড্ডার অভিমুখ যেন মায়াবতী থেকে সরে না যায়।
তবে তার মধ্যে চেষ্টা করা হয়েছে এই ছবির বাইরেও কিছু কথা বলার। আড্ডায় ‘মায়াবতী’ ছবির নায়ক ইয়াশ রোহানের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তার আসতে দেরি হওয়ার কারণে একাই আলাপ শুরু করলেন তিশা। প্রতিনিয়ত ছবির অফার আসে। কিন্তু ‘মায়াবতী’ ছবির কাজে আগ্রহী হলেন কেন? জবাবে বলেন, “আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে গল্প, চরিত্র, নির্মাতা- এই তিন বিষয়ে আমি কখনও ছাড় দিইনি। মায়াবতী ছবির শক্তি, পরিচালক অরুণদা’র গল্প। গল্পটা আমার মন ছুঁয়ে গেছে। গল্প শুনে মনে হয়েছে ছবিতে প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি আনন্দ-বেদনাও রয়েছে।
আর ছবির মধ্যে একটি শক্তিশালী বক্তব্য রয়েছে, তা হলো মানুষের ‘না’ বলার অধিকার আছে। এই ‘না’কে সবারই শ্রদ্ধা করা উচিত। সর্বোপরি ‘মায়া’ চরিত্রটি আমাকে বেশ টেনেছে। তাই অভিনয়ে একবাক্যে রাজি হয়েছি।”
তিশা কখনোই চরিত্র বাছাইয়ে ভুল করেন না। এর প্রমাণ তিনি বহুবারই দিয়েছেন। নানা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভাঙতে দারুণ পারদর্শী তিনি- এ কথা তার ভক্তরা বলে থাকেন। ‘একুশের চিঠি’ ‘নুরুল হুদা একদা ভালোবেসেছিল’, ‘ক্যারাম’, ‘আজকের দেবদাস’, ‘৪২০’, ‘বৃষ্টি অথবা কান্না’, ‘বিউটি বোর্ড’, ‘ফিরে আসো সুন্দরীতমা’, ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’, ‘দূরের মানুষ’, ‘লেট নাইট শো’, ‘নীলাঞ্জনা’, ‘তবুও বসন্ত’, ‘ভালোবাসি তাই’, ‘অ্যাংরি বার্ড’, ‘ইট কাঠের খাঁচা’, ‘ভালোবাসার উল্টো পিঠ’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘বাবার হোটেল’, ‘টু এয়ারপোর্ট’, ‘মনের মতো মনন’, ‘মন ফড়িংয়ের গল্প’, ‘আয়েশা’, ‘ফেয়ার প্লে’, ‘মাহিনের রূপবান বিয়ে’, ‘মেঘের আকাশ’, ‘পারুল লতা’, ‘সুগন্ধি বোর্ডিং’, ‘তুমি’সহ তিশা অভিনীত নাটক-টেলিছবি এবং আরমান ভাই ও সিকান্দার বক্স সিরিজের একাধিক নাটকসহ নানা ওয়েব সিরিজ দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। দর্শকরা সেখানে তিশার প্রতিভা নতুন করে আবিস্কার করেছেন। তিশা ভক্তদের কথায় এটাই প্রমাণ হয়, এক যুগের বেশি সময় ধরে তিশা যেসব নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন, প্রতিবারই নিজেকে ভাঙার প্রয়াস ছিল নন্দিত এই অভিনেত্রীর।
ছোটপর্দার মতো ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘অস্তিত্ব’, ‘টেলিভিশন’, ‘রানা পাগলা’, ‘ডুব’, ‘হালদা’- সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ চলচ্চিত্রে তিশা নিজেকে নানারূপে তুলে ধরেছেন। আর এ কারণে তিশা আজ অগণিত দর্শকের প্রিয় অভিনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। ভাষা আন্দোলনের ওপর নির্মিত ছবিতে অভিনয়ের পর এবার তিশা বড় পর্দায় আসছেন ‘মায়াবতী’ নিয়ে। অরুণ চৌধুরী পরিচালিত সিনেমাটি আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে সারাদেশে। ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ব্যাপ্তির এ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে ‘ওমেন ট্রাফিকিং’-এর মতো বিষয়কে ঘিরে। ‘মায়া’ নামের এক কিশোরীকে ছোটবেলায় চুরি হয়ে বিক্রি করা হয় দৌলতদিয়ার রেডলাইট এরিয়ায়। সেখানে বেড়ে ওঠা, সঙ্গীত গুরু খোদাবক্সের সঙ্গে গুরু-শিষ্য সম্পর্ক ও ব্যারিস্টারপুত্রের সঙ্গে মায়ার প্রেম নিয়ে সঙ্গীতনির্ভর ছবি ‘মায়াবতী’।
ইতিমধ্যে ট্রেলার বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
তিশা অভিনয় করেছেন নাম-ভূমিকায়। অর্থাৎ ‘মায়া’ চরিত্রে। তিশা থেকে ‘মায়া’ হয়ে ওঠার জার্নিটি কেমন ছিল? যে কোনো চরিত্রে অভিনয়ের আগে সে চরিত্রের জীবনধারা সম্পর্কে আগেই জানার চেষ্টা করি। যে গল্প আমাকে ভাবায় সে গল্পে কাজ করতে ভালোবাসি। এ জন্য দু’তিন মাস পর্যন্ত সময় নিই, যাতে অভিনীত চরিত্রটি বাস্তব বলে মনে হয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here