জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছেনা

0
112

নিজস্ব প্রতিবেদক :  জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সরকারি ঘোষণা রাজনৈতিক ময়দানের কথায়ই সীমাবদ্ধ থাকছে। রাজনেতিক স্বার্থেই সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছেনা। বরং দলটির একটি অংশের প্রতি সহানুভ‚তির হাত প্রসারিত রেখেছে। আইনমন্ত্রীসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী দুবছর ধরেই রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ। করার কথা বলে আসছেন। জামায়াতের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন আগেই বাতিল করেছে। কিন্তু দলটি নিষিদ্ধ নয়। যদিও এর কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলার অফিস তালাবদ্ধ। নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেন গোপনে জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রীট করা হয় এক দশক আগে। এখনও তা অনিষ্পন্ন। দ্রæত রীট নিষ্পত্তির ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ কখনওই নেয়া হয়নি। আইনমন্ত্রী সংসদে নতুন আইন করার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জঙ্গিদের নব-উত্থান ও তৎপরতার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এবং প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপিকে দুর্বল করার লক্ষে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা থেকে সরকার সরে এসেছে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে দলটির নেতা-কর্মীদের বড় অংশ বিএনপিতে ঢুকবে। সেখানে তারা রাজনৈতিক-সাংগঠনিক অবস্থান করে  নেবে। বিএনপির শক্তি বৃদ্ধির কোন সুযোগই দিতে চায়না সরকার। জামায়াতকে বিএনপির সাথে তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অথবা কর্ণেল (অব:) ড. অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় মুক্তি মঞ্চের সাথে দেখতে চান তারা। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং মাঠের নেতা-কর্মীরা এব্যাপারে বিভক্ত। একটি অংশ চায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে সামিল থাকা। দলটির তরুন নেতৃত্ব মনে করেন বিএনপির কাছ থেকে তারা কোন সুবিধা পায়নি। বরং বিএনপি তাদের ব্যবহার করেছে। চরম দু:সময়ে ন্যূনতম সহানুভুতিও পায়নি তারা। এই ক্ষোভ ও ক্লেদে তারা বিএনপির সাথে সম্পর্ক চুকিয়ে ড. অলির নেতৃত্বাধীন জাতীয় মুক্তি মঞ্চে শরিক হওয়া এবং সরকারের সাথেও বিরোধ না বাড়িয়ে সমঝোতায় চলার পক্ষে।
আসন্ন সিটি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের পরীক্ষা হবে। জামায়াত ঢাকার একটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচন এবং তিন সিটি কর্পোরেশনের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশে কাউন্সিলর পদে জোটগত মনোনয়ন চাইবে। বিএনপি তাদের ছাড় না দিলে জামায়াত দলীয় লোকদের স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী দেবে। বিএনপির পরাজয় নিশ্চিত করতে সরকারি দলও এতে মদদ যোগাচ্ছে বলে জানা যায়।
রাজনৈতিকভাবে সরকারি দল ও বিএনপি উভয়েই জামায়াতকে ব্যবহার করে আসছে বলে দলটির নেতাদের অভিযোগ। এবারে তারা নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ডিসেম্বরে তাদের কাউন্সিল। এতে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয়া হবে। দলের নতুন নামকরণও করা হবে। ডিসেম্বরের আগেই কাউন্সিলে নতুন আমির, জেনারেল সেক্রেটারি, সহকারি জেনারেল সেক্রেটারিসহ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতকে বিলুপ্ত করা হবেনা। সামাজিক, ধর্মীয় কর্মকান্ডের মাধ্যমে জিইয়ে রাখা হবে। প্রকাশ্য কর্মকান্ড চালানো হবে নতুন নামে। নতুন দল মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া হবে। জামায়াত প্রকাশ্য কার্যক্রম চালানোর সুযোগ না পেলেও গোপনে তারা দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তারা সাংগঠনিক দশক পালন করেছে। প্রতিটি শহর, জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে রোকন সংগ্রহ কার্যক্রমও সম্পন্ন করেছে। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারাও অংশ নেন। সরকার ও সরকারি দল তাদের গোপন এই কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিয়েছে। জামায়াত নিষিদ্ধ হলে এর কর্মীরা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়বে আশঙ্কায় সরকার কিছুটা নমনীয়তা নিয়েছে বলে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here