২০ লাখ টন চালের রেকর্ড মজুদ নিয়ে বিপাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়

0
32

নিজস্ব প্রতিবেদক :  এবারে ধান-চালের দাম পায়নি কৃষক। উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দাম পাওয়ায় কৃষক হতাশ ক্ষুব্ধ। বিস্ময়করভাবে তারপরও খাদ্য মন্ত্রণালয় রেকর্ড পরিমান খাদ্যশস্য মজুদ করেছে। প্রায় বিশ লাখ মে.টন সর্বকালীন সর্বোচ্চ মজুদ গড়ে তুলেছে। সরকারি খাদ্যগুদামগুলো এখন চাল, ধান, গমে ঠাসা। বস্তা ভর্তি ঠাঁসা করে রাখা এই বিপুল পরিমান খাদ্যশষ্যের একটা অংশ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার এই প্রতিবেদককে বলেন, গুদামে কোন খাদ্যশষ্য যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। গাদাগাদি করে রাখা বস্তাগুলো উপর-নিচ করে রাখা হবে। ওলটপালট করে রাখা হলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকেনা। পোকামাকড় থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও ছিটানো হবে।
খাদ্যমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ মে.টন চাল ও ৪ লাখ মে.টনেরও বেশি গম মজুদ রয়েছে। আমন সংগ্রহের সময়সীমা ১৫ দিন বাড়ানোর ফলে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার আশা করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। আগামী দু’মাসের মধ্যে এক লাখ মে.টন চাল ও দুই লাখ মে.টনেরও বেশি গম বন্দরে এসে পৌছাবে। সরকারি খাদ্যশস্য ভান্ডারগুলোর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করাই সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। মন্ত্রী সাধন মজুমদার বলেন, বিপুল পরিমান খাদ্যশষ্য সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষনের  জন্য গুদাম কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও ব্যাপক বন্যা এবারে মওসুমের শুরুতেই খাদ্যশষ্য সংগ্রহ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ করে। কৃষকরা দারুণভাবে হতাশ হয়ে পড়ে নায্যমূল্য না পাওয়ায়। মনপ্রতি ২শ, ৩শ টাকা লোকসান দিয়ে ধান, চাল বিক্রি করতে হয়। এ অবস্থাটা সরকারকেও দারুণভাবে বিব্রতকার পরিস্থিতিতে ফেলে। এই সময়ে ধান-চাল সংগ্রহেও নিদারুনভাটা পড়ে। নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, চাপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত । আগষ্টের গোড়ার দিক পর্যন্ত সংগ্রহ কার্যক্রম ছিল হতাশাজনক। আশঙ্কা ছিল ১৫ লাখ টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কিনা। কিন্তু বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতিও পাল্টে যায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ও সংগ্রহের সময়সীমা পনের দিন বাড়িয়ে দেয়। সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়েছে।
এ দিকে খাদ্যশষ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় খোলাবাজারে খাদ্যশষ্যের দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মোটা চালের দাম এখন কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৪ টাকা। সরু চাল ৪৬ টাকা। মাঝারি মানের চালের কেজি ৩৪ টাকা। আটার কেজি খুচরা ২৭ থেকে ৩০ টাকা। চালের দাম স্থিতিশীল এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কিছুটা কমের দিকে থাকায় সরকারও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here