বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক বিদেশি সরকার প্রধান, রাজনীতিবিদ যোগ দেবেন

0
34

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী দেশে বিদেশে উদযাপনে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্তত বিশটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান ছাড়াও অর্ধ শতাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বাংলাদেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা যায়, আগামীবছরের ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হবে বছর ব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কর্মপরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত করেছেন এবং সামগ্রিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মতো সমাপনী অনুষ্ঠানও হবে প্রানকাড়া। অনুষ্ঠানসমূহ সুচারুভাবে মানুষের হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন ও পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম নিয়োগ করা হবে। কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে সম্পৃক্ত করা হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ভ‚টান, ভারত, নেপাল, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, কানাডা, রাশিয়া, জাপানসহ বিশ্বের প্রায় অর্ধশতাধিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান ও রাজনৈতিক দলকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসসমূহ এ ব্যাপারে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, আমন্ত্রিতদের অধিকাংশই বাংলাদেশের আমন্ত্রনে সাড়া দেবেন। রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানদের সকলে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। দেশে বিদেশে বিভিন্ন চিত্তাকর্ষক কর্মসূচি নেয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসসমূহ কনফারেন্স সেমিনার, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষের জীবন ভিত্তিক, পর্যটন শিল্প সর্ম্পকিত প্রদর্শনী, কফি টেবিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো বা তাদের প্রতিনিধিদের আগমন নিশ্চিত করা এবং হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা স্থির করা হচ্ছে। এসব অনুষ্ঠানে দেশগুলোর সরকার ও রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে।
অভ্যন্তরীনভাবে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। জমকালো উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়াও নগরসজ্জা, আলোকমালা, ওয়ার্কসপ, সেমিনার, কনফারেন্স, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মারকগ্রন্থ, বইসহ বিভিন্ন প্রকাশনা ভিডিও ডকুমেন্টারি, বিভিন্ন প্রকার স্মারক প্রকাশ করা হবে। রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন ভবন ও এলাকা, স্থাপনা বর্ণিল সাজে সাজানো হবে। সন্ধ্যায় থাকবে আলোকসজ্জা। বিজিবি, পুলিশ, স্কাউট দল আনসারের বাদক দল রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাদ্যযন্ত্র বাজাবে ও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আকষর্নীয় কর্মসূচি নেয়া হবে। প্রতিটি মহানগর জেলা এবং উপজেলা শহর ও পৌর সভায় বর্নাঢ্য কর্মসূচি নেয়া হবে। আলোকসজ্জা. প্রদর্শনী, লোকগানের আসরসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির তত্ত¡াবধানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানাদি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। জাতিরজনকের জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখার কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১শ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রায় বাইশ কোটি টাকা এরিমধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here