অভিযান চলছে চলবে : ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

0
36

নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় গত দু’দিনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো জুয়া ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান পরিচালনা এবং কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেফতারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ অভিযান চলবে। কেউ পার পাবে না।  গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠান করতে চান। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি রোধ করাটা আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে বা অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অথবা অপরাধ করার চেষ্টা করছে, তাদের দমন করা হবে।
তবে, দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সব নেতারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। গতকাল সকালে ছাত্রদলের নির্বাচিত দুই নেতাকে নিয়ে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে  বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু দুর্নীতি নয় সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করে ফেলেছে সরকার। এর আগে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ মসজিদের শহর ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহরে পরিণত করেছে।
বিএনপি’র নেতার অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলের মূখপাত্র ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকায় ক্যাসিনো চালু করেছে বিএনপি। শেখ হাসিনার সরকার বরং এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জনগণের প্রশংসা পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সরকারি দলের এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলুর করিম সেলিম বলেছেন, যুবলীগ বা আন্য কোন সহযোগী সংগঠনের কেউই  অপরাধ করে পার পাবে না।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) রাজধানীর চারটি  স্পোটিং ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জামাদি, বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য, নগদ অর্থ, জাল টাকা এবং অবৈধ অস্ত্র জব্দ করে। এ অভিযানে মতিঝিলের একটি ক্লাবের কর্তা ব্যক্তি  যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদসহ শতাধিক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে, ক্লাবটির গভার্নিং বডির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন এ প্রসঙ্গে তার দায়দায়িত্বের কথা বেমালুম অস্বীকার করেন।
এদিকে গত শুক্রবার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে র‌্যাব। অবৈধ অস্ত্র বহন ও ক্লাবে ইয়াবাসহ ক্যাসিনো খেলার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পাওয়ায় কলাবাগান ক্রীড়া ক্লাবের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য শফিকুল আলম ফিরোজসহ তার চার সহযোগীকে গত শুক্রবার রাতে আটক করে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে শফিকুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-২ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যার পর কলাবাগান ক্লাবে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ পিস্তল ও কয়েকটি গুলি এবং হলুদ রংয়ের ইয়াবাসহ ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। পরে র‌্যাব বাদী হয়ে ধানমÐি থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেছে।  কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও মনোয়ন পাননি। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া শুক্রবার রাজধানীর নিকেতনে অভিযান চালিয়ে, ৭ জন দেহরক্ষীসহ আটক করা হয় যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে। উদ্ধার করা হয়, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং প্রায় দুইশো কোটি টাকা এফডিআরের নথি। জিকে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তা অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া যুবলীগের দক্ষিণের সাংগাঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত থাকায় সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here