পর্যটন খাত পিছিয়ে আছে :বিদেশি পর্যটক আগমন কমে গেছে

0
35

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বিদেশি পর্যটক আগমন কমে গেছে। বিদেশিদের বাংলাদেশ ভ্রমনে আকৃষ্ট করা এবং এখানে তাদের অবস্থান নিরাপদ, কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে পর্যটন কর্পোরেশন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও যথাযথ ভ‚মিকা রাখছেনা। যারফলে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আসা বাড়ছেনা। বরং কমছে। আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি পালনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী ব্যাপক কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ যে পর্যটনের এক নিরাপদ আকর্ষনীয় স্থান সে সংক্রান্ত প্রচারনা বিদেশে একেবারেই নেই। অথচ দূতাবাসগুলোতে এব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা, অর্থও বরাদ্দ রয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো নির্জীব, নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সমূহের লাগাতার জোরালো অভিযান তাদের অনেক দুর্বল করে ফেলেছে। বিদেশি পর্যটকরা কোন দেশ ভ্রমনে জঙ্গি হামলার সম্ভাবনার দিকটি সর্বাগ্রে দেখে থাকে।  হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়া হামলার ঘটনা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছিল। বিদেশিদের এখানে আসাও কমে যায়। মেট্রোরেলে কর্মরত জাপানিদের বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যটন শিল্পের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে আসে। সরকারের দ্রæত কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটায় দেশে সুন্দর নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকার পরও পর্যটন খাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, চীন, ইতালীসহ বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো এব্যাপারে কোন ভ‚মিকাই রাখছেনা। অথচ এ ব্যাপারে তাদের প্রতি সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশে উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদীরা নিষ্ক্রিয়, কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও এদের ঘৃনা করে। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। বিদেশিদের কাছে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়নি। তাদের উৎসাহিত করার মতো কোন প্রচার প্রচারনা বিদেশি দূতাবাসসমূহ ও পর্যটন কর্পোরেশনেরও নেই।
কক্সবাজার, মহাস্থানগড়, ময়নামতি দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। কক্সবাজার ছাড়া উন্নত আবাসন ব্যবস্থা কোথাও নেই। কক্সবাজারে মানসম্পন্ন হোটেল থাকলেও কয়েকদিন অবস্থানের উপযোগী অন্যান্য কোন ব্যবস্থা নেই। গত বছর দেশে পর্যটক এসেছেন ৫ লাখের কিছু বেশি। এদের মধ্যে প্রায় ১ লাখই বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট। আগে জাপান ও ইতালী থেকেই বছরে ৬০ হাজারের বেশি পর্যটক এসেছে। গত দু’বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার। ২০১৫ সালে বিদেশি পর্যটক এসেছিল প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা কমে হয় ৫ লাখের কিছু বেশি। ২০১৭ সালে আরো কমে হয় ৫ লাখের কাছাকাছি। বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ প্রতিবছর ভ্রমন করে থাকে। ১৯৫০ সালে বিশ্বে পর্যটক ছিল মাত্র আড়াই কোটি। ১৯১৬ সালে তা ১২৫ কোটিতে উন্নীত হয়। জাতিসংঘের সংস্থা ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পর্যটন খাত থেকে বিভিন্ন দেশের আয় হয় বছরে ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রধানত প্রচার-প্রচারনার অভাবে বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও বাংলাদেশ বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here