শতভাগ সরকারি কর্মকর্তা তথ্য দিতে চান না : টিআইবি

0
31

নিজস্ব প্রতিবেদক : জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে। কিন্তু এই আইনের সুফল আমরা পাচ্ছি না। শক্তিশালী আইন হলেও এটির প্রয়োগ হচ্ছে না। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য পেতে অনেককে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। কেননা শতভাগ সরকারি কর্মকর্তা তথ্য দিতে চান না।
গতকাল বৃহস্পতিবার  টিআইবির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস-২০১৯ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য পেতে গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের মাঝে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাজ করছে। তাদের মাঝে এক ধরনের ভয়ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে তারা অনেক সময় সঠিক তথ্য পেতে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছেন না।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘অধিকাংশ কমিশনগুলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ায় সেখান থেকে তথ্য পাওয়া জটিল হয়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তার এ বিষয়ে সহযোগিতা না করলে এ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কৌশলপত্র থাকা উচিৎ। যেখানে স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা থাকবে।’ টিআইবি আয়োজিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ডি নেটের সদস্য ড. অনন্য রায়হান।
অধ্যাপক আফসান চৌধুরী একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ জানেন না। ২৫ শতাংশ মানুষ এই আইন সম্পর্কে জানলেও এর মধ্যে ২০ শতাংশ মানুষের এ বিষয়ে সঠিক ধারণা নেই। তাই তথ্য অধিকার সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে।’ এই গবেষক বলেন, ‘আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। কারণ যাদের কাছে অভিযোগ দাখিল করবে তারা নিজেরাই দুর্নীতিবাজ। এ জন্য জনমানুষ এ বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখায় না।’ সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনে বেসরকারি খাতের তথ্য পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি এ আইনের একটি বড় দুর্বলতা। তার চেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। দেশের সব মেগা দুর্নীতি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়া ছাড়া করা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা জন্য তাদের কাছ থেকে অবাধ তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’ সুজন সম্পাদক আরও বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে হচ্ছে তথ্য কমিশন নিজেই। মানুষ তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কমিশনে গিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। ডিনেটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডক্টর অনন্য রায়হান বলেন, ‘নাগরিক সমাজসহ সবাই আমরা বিভিন্ন স্বার্থের কারণে এমনভাবে জড়িয়ে গেছি। স্বার্থের কারণে আমরা আজ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছি। স্বার্থের কারণে আমরা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন পরিপালন না করা হলেও এ আইনে সরকারের কোনো জবাবদিহিতার সুযোগ রাখা হয়নি। এটি আইনের একটি বড় দুর্বলতা। তবে আইনের অনেক ভালো দিক থাকলেও তার ব্যবহার নেই।’

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here