ছয়মাস ধরে চলবে শুদ্ধি অভিযান

0
35

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে পরিচালিত শুদ্ধ অভিযান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দল ও সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। এ অভিযান ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগাতার চলবে। পাশাপাশি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলের দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ-বিত্তের রাতারাতি মালিক বনে যাওয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবানী এ অভিযান। সরকারের এই তৎপরতা দলকে বড় রকমের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছে। দেশের সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে। দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা কাটিয়ে শক্তি যোগাচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের, কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে পরিচালিত  অভিযান অব্যাহত রাখা হলে রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অবক্ষয় গ্রাস করেছে তা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠতা অসামান্য অবদান রাখবে।
অনিয়ম, দুর্নীতির ক্ষমতার, রাজনৈতিক অবৈধ প্রভাবের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল তার অঙ্গ সংগঠনের স্বল্প সংখ্যক নেতা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী এদের অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারি। কিন্তু অনুপ্রবেশকারি বলে কি তারা দায় এড়াতে পারবেন? দলে ঢুকানো ও বড় বড় পদ-পদবী দেয়ার সময় কি এদের রেকর্ড যাচাই করা হয়নি? অনেক বড় নেতার সঙ্গেই তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল। কেন তারা তাদের লালন করেছেন।  ক্যাসিনো সম্রাট বলে পরিচিত দুই শীর্ষস্থানীয় গত সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নও চেয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় কোন কোন নেতা কি ক্যাসিনো বাণিজ্যের ভাগ না মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগের অনেক নেতার মধ্যেই একটা ভীতি ছিল যে শুদ্ধি অভিযান দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। দলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। কিন্তু তা হয়নি। কারণ সাধারণ নেতা, কর্মীরা আদর্শনিষ্ঠ, অসামাজিক, অনৈতিক কর্মকান্ডের সুবিধাভোগী নন। বরং চিহ্নিত কিছু লোকের বেআইনি অবৈধ কর্মকান্ডের জন্য তারা এবং দলও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। যতটা জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অবস্থাটা মেনে নিতে পারছিলেন না। একাধিকবার সতর্কও করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্যরে প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোরহস্ত হয়েছেন। বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তার সঙ্গে অনিয়ম, অবৈধ, অসামাজিক কার্যকলাপ রোধ ও এসবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। কিছু সংখ্যক লোকের জন্য দল ক্ষতিগ্রস্থ হোক তা তিনি মেনে নিতে পারেননি। গত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে যারা বিপুল অর্থ-বিভের মালিক হয়েছেন শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর রাখা হচ্ছিল। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগরগুলোতেও জেলা শহরগুলোতে সহস্রাধিক জুয়ার আড্ডা, অবৈধ মদের দোকান, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানে অসামাজিক, অবৈধ কার্যক্রম চালানোর তালিকা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান, সাবেক এমপি রাজনৈতিক নেতা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রশাসনের সাবেক ও কতিপয়  বর্তমান কর্মকর্তাও এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিজাত ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের অনেক বিদেশিকেও এসব স্থানে দেখা যায়। প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকায় থানা পুলিশ এদের বিরুদ্ধে কখনও ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশের অনেকের সাথে গোপন বোঝাপাড়া থাকার অভিযোগও রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় প্রভাব প্রতিপত্তি বিবেচনায় না নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ এ কাজে পরোক্ষভাবেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানা যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মহানগরগুলো ও জেলা শহরের তালিকাভুক্ সবকটি ক্লাব, ক্যাসিনো হাউজি, হোটেল, আবাসিক হোটেল, বাসায় অভিযান চলবে।  ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিযান জোরালো ভাবে চলবে। আগামী অন্ত ছয়মাস এই অভিযান চলমান রাখা হবে। ক্ষমতাসীন দলের যেকোন স্তরের পদাধিকারি এসব অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here