গ্রাম পুলিশদেরও রেশন দেয়ার চিন্তা করছে সরকার

0
29

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রাম পুলিশদের মাসিক রেশন দেয়ার প্রস্তাব সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। ওএমএস-এ চালের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে। এর একটা ইতিবাচক প্রভাব খোলাবাজারেও পড়বে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে। জানা গেছে, শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি তোলার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।
২৬ লাখ মেট্রিক টন ধান, চালের মজুদ নিয়ে খাদ্র মন্ত্রণালয় বিপাকে পড়েছে। সরকারি গুদামগুলোতে ঠাঁসাঠাসি করে রাখা খাদ্যশস্য বিনষ্ট হয়ে যাওয়া, পোকা-মাকড়ের পেটে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় গুদাম থেকে দ্রæত খাদ্যশস্য খালাস করা এবং গুদামের মধ্যে বস্তা ওলটপালট করে রাখা, নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করেছে মন্ত্রণালয়।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি এ প্রতিনিধিকে বলেন, সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার-দফাদারদের রেশন দেয়ার চিন্তা করছি। প্রতি ইউনিয়নে নয়জন চৌকিদার একজন দফাদার রয়েছেন। সারাদেশে এদের সংখ্যা ৪৫ হাজার। গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নিম্নবেতনভোগী এইসব সরকারি লোক সমস্যা-সংকটেই দিন কাটায়। তারা সরকার নির্ধারিত হ্রাসকৃত মূল্যে রেশন পেলে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি গুদামগুলোও কিছুটা হালকা হবে। মন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে।
অপরদিকে খোলাবাজারে চাল বিক্রির কার্যক্রমও আশাব্যঞ্জক নয়। ডিলাররা খাদ্যগুদাম থেকে চাল উঠাচ্ছেন না। কারণ খোলাবাজারে তারা বিক্রি করতে পারছেন না। দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকায় বাজারে দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শ্রমজীবী, সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ, গার্মেন্টস শ্রমিকরা ওএমএস-এর চালের প্রধান ক্রেতা। ভোক্তা সাধারণকে আকৃষ্ট করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ওএমএস-এ চালের দাম কমানোর পক্ষে। খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার বলেন, ওএমএস-এ চালের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। দাম কমিয়ে ২৫ টাকা করতে চাই আমরা। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর পরই তা কার্যকর করা হবে।
সরকারি খাদ্যগুদামগুলোর ধারণ ক্ষমতা পনের লাখ মেট্রিক টন। সেখানে রাখা হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এবারের টানা বর্ষণ ও ব্যাপক বন্যায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যর্থ হবে বলে মাঠকর্মীদের একটা ভীতি ছিল। কিন্তু বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। খাদ্যমন্ত্রী, স্থানীয় প্রশাসনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ সংগ্রহ অভিযান সফল করতে বিশাল ভ‚মিকা রাখে। সর্বকালীন সর্বোচ্চ পরিমাণ খাদ্যশস্য এখন সরকারি মজুদ ভাÐারে রয়েছে। খাদ্যশস্য সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণই মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য মাথাব্যথা হয়ে আছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here