বুয়েট এখনও উত্তাল ।। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আল্টিমেটাম

0
16

নিজস্ব প্রতিবেদক:  বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনৈতিক কার্যক্রমসহ সব ছাত্র সংগঠন স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধকরণসহ নতুন করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। এসময় তারা  সন্ধ্যায় সারাদেশের সব শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গতকাল বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বুয়েটের শহীদ মিনার চত্বরে  সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো-
১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্তকৃত সকলকে আগামী ১১ অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫টার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবেু।
৩. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ ৫ টার মধ্যে প্রদান করতে হবে।
৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রæত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করার জন্য বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।
৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে।
৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোস্ট ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় যেকোনো হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোরপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এহেন কর্মকাÐে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ক্ষুব্ধ, তাই আগামী ৭ দিনের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে বুয়েটে সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি এবং পরবর্তীতে ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন, তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ (০৯/১০/১৯) দুপুর ২ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।
৮. আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিং নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে । এ ধরণের সন্ত্রাসে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একই সাথে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।
৯. পূর্বে ঘটা এ ধরণের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম (কোনো সাইট বা ফর্ম) থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রæততম সময়ে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস একাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫ টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে এবং পরবর্তী ১ মাসের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবগুলো হলের প্রত্যেক ফ্লোরের সবগুলা উইংয়ের দুইপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে। ১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। এর আগে , ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করে বুয়েট  শিক্ষক -শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে দশ দফা দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এদিকে  বুয়েটের কর্মসূচিতে একাত্ত¡তা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবরার হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এদিকে, ছাত্রলীগের নেতাদের মারধরে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তাঁর বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, যে রাজনীতি ছাত্রদের জন্য ক্ষতিকর সে রাজনীতি তো আমাদের দরকার নেই। রাজনীতি হওয়া দরকার ছাত্রদের কল্যাণে। আবরার হত্যার বিচার দাবিতে এক মৌন মিছিল শেষে বক্তৃতায় শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল সকালে বুয়েট ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেছে আবরার ফাহাদের বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে ‘তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল পরিবার’ ব্যানারে পলাশী থেকে মিছিল বের করে তারা। মিছিল শেষে বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের পাদদেশে এসে সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয় ওই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেখানে অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমার জানা মতে, এই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটা কোনো ধরনের নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পাইনি আমরা। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আগে থেকে সতর্ক হতে পারি কিংবা এসব ঘটনার বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি।’
‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই। কারণ আগে আমরা দেখতাম ছাত্রদল কিংবা ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা একই রুমে ঘুমাত। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি আপনারা জানেন। এই রাজনীতি কোনো শিক্ষার্থীর কল্যাণে আসে না। বরং ক্ষতি করে। তাহলে যে রাজনীতি ছাত্রদের জন্য ক্ষতিকর সে রাজনীতি তো আমাদের দরকার নেই। রাজনীতি হওয়া দরকার ছাত্রদের কল্যাণে।’ রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে তাঁর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গভীর রাতে হলের সিঁড়িতে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার পরের দিন সোমবার চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা। মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। এদিকে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপদপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, দুই সদস্য মুনতাসির আল জেমি ও এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির ও মো. আকাশ হোসেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here