বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ

0
92

নিজস্ব প্রতিবেদক: গতকাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি এবং রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি থাকবে না। আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং মামলার খরচ বুয়েট কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিচারকাজ দ্রæত শেষ করতে সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। বুয়েটে র‌্যাগিং বন্ধ হবে। উপাচার্য জানান, সরকার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আশ্বস্ত করেছে। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যায় ঘটনায় শিক্ষার্থীদের টানা ৫ দিনব্যাপী আন্দোলনের মুখে হত্যাকাÐে জড়িত ১৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সবধরণের রাজনীতি। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এ কথা জানান। এর আগে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে উপাচার্য মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। বৈঠকে উপাচার্য ছাড়াও ডিএসডবিøউ পরিচালকসহ সাতজন মঞ্চে বসেছেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫, ১৬ ও ১৭তম ব্যাচের সব শিক্ষার্থী অংশ নেন। এদিন শুক্রবার সকালে ব্রিফিংয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবির দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখছি না, দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোন সদিচ্ছাও দেখছি না। উপাচার্য স্যারকে আমাদের সঙ্গে বসার আহŸান জানালেও তিনি আমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা বলেছি, যেহেতু আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের, তাই শুধু প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে হবে না। সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিতেই কথা বলতে হবে। সেই প্রেক্ষিতেই এ বৈঠক। বিকেল ৫টার দিকে বুয়েটের অডিটরিয়ামে উপস্থিত হন উপাচার্য। বৈঠক শুরুর আগে আবরার ফাহাদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ভিসির ঘোষণায় যা থাকছে:
বুয়েটে কোন ধরনের সাংগঠনিক রাজনীতি থাকবে না। উপাচার্য এ বিষয়ে নিজের ক্ষমতাবলে ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি এবং রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ক্যাম্পাসে সব ধরনের র‌্যাগিং ও নির্যাতন বন্ধ করা হবে। ড. ইসলাম বলেছেন, এধরনের নির্যাতন প্রতিরোধে একটি ‘কমন প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তোলা হবে যেখানে পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানাতে পারবে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ত্বরিত ব্যবস্থা নেবে। আবরার ফাহাদের হত্যার দ্রæততম বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে সরকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ১৯ জন ছাত্রকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর এদের চিরতরে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এই হত্যা মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েটের আন্দোলনকারীরা ১০ দফা দাবি পেশ করেছিল।
প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতারা তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।
তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাÐের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন। আবরার ফাহাদ হত্যাকাÐের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছেন। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, অনীক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশারেফ, বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, মোহাজিদুর রহমানকে, শামসুল আরেফিন, মনিরুজ্জামান ও আকাশ হোসেন, মিজানুর রহমান (আবরারের রুমমেট), ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা এবং হোসেন মোহাম্মদ তোহা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here