‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’ সংকলনের প্রকাশনা উৎসব নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত

0
97

নিইজ ডেস্ক : বাংলা কবিতার ইংরেজি অনুবাদ। যুক্তরাষ্ট্রে এটি সফল হয়েছে ‘শব্দগুচ্ছ’ কবিতা পত্রিকার মাধ্যমে। বাইশ বছর ধরে প্রকাশিত দ্বিভাষিক এই পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিও জুটিয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় পত্রিকা সম্পাদক, কবি হাসানআল আব্দুল্লাহর অনুবাদে এ বছর প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের কবিতার একটি নির্ভরযোগ্য অনুবাদ সংকলন, কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি। নিউইয়র্ক কালচারাল এফেয়ার্সের বিশেষ অনুবাদ গ্রান্টে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মূল ধারার দুটি স্মলপ্রেস, ক্রস-কালচারাল কমিউনিকেশন্স ও নিউ ফেরাল প্রেস। গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসব হয়ে গেলো ১২ অক্টোবর, ২০১৯ নিউইয়র্কে বাঙালীদের প্র্রাণ কেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস-এর বাংলাদেশ প্লাজায়। ‘শব্দগুচ্ছ’ পত্রিকার ব্যানারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন কবি ও প্রকাশক স্ট্যানলি এইচ বারকান। তিনি বলেন, “টেগোর ও নজরুলের ধারাবাহিকতায় হাসানআল আব্দুল্লাহকে কবিতার ভেতর দিয়ে আমি চিনি। তিনি শুধু নিজের কবিতাই নয়, অনেকক্ষেত্রে নিজেকে সরিয়ে রেখে তার দেশের কবিতাকে উপস্থাপন করতেই ভালবাসেন।” কবি হাসানআল আব্দুল্লাহর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তিনি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “দু’হাজার সালে আমি তার প্রথম বই ‘বেথ অব বেঙ্গল’ প্রকাশ করি। হাসানআল বাংলা কবিতাকে কতোটুকু ভালবাসেন তার অন্যতম নির্দশন ‘কনটেম্বোরারি বাঙালী পোয়েট্রি’।” বারকান পড়েন তার লেখা ‘ঢাকা-কুইন্স’ কবিতাটি। লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়েটিভ রাইটিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ার প্রোফেসর জন ডিগবি সিটি কালচারাল অফেয়ার্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই বইটি পাবলিক লাইব্রেরিসহ এদেশে বড়ো বড়ো বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে স্থান পাবে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা বাঙলা কবিতার স্বাদ পেতে এই বইটি হাতে তুলে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।” প্রোফেসর ডিগবি হাসানআল আব্দুল্লাহর সনেট ও ইংরেজী-ইটালিয়ান সনেটর একটি তুলনামূলক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “হাসানআল যেভাবে সনেটকে দেখেন আমরা কেউ সেভাবে দেখতে পারিনি, তিনি সনেটকে ডায়েলেকটিক ফর্মে নিয়ে এসে চোদ্দ লাইনের এই কবিতাকে একটি সেমেট্রি ভেতরে বেধে ফেলেছেন।” জোন ডিগবি সংকলন থেকে হাসানআল আব্দুল্লাহর ‘স্বতন্ত্র সনেট ৭৭’ আবৃত্তি করে শোনান। এর আগে দুপুর দেড়টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় অন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কবি বিল ওয়ালেকের আবৃত্তির ভেতর দিয়ে, তিনি শামসুর রাহমান ও শহীদ কাদরীর কবিতা পড়ে শোনান। তিনি বলেন, “এই সংকলনটি একটি অত্যন্ত সফল অনুবাদ, যা ইংরেজী ভাষি কাব্যমোদিদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলেই আমি মনে করি।” অন্যদিকে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর নিকোলাস বার্ন্স দীর্ঘ সময় ধরে এই সঙ্কলনটি নিয়ে হাসানআল আব্দুল্লাহ সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমা পাঠকদের দুর্ভাগ্য যে এরা শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদের মতো শক্তিশালী কবিকে চিনতে পারেনি।” ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর পরেও বেশ কয়েকজন বাঙলী কবির এই পুরস্কারটি পাওয়া উচিত ছিলো।” এ পর্যায়ে তিনি আবারো জোর দিয়ে উল্লিখিত দুই কবির নাম উচ্চারণ করেন। তিনি হুমায়ুন আজাদ ও রফিক আজাদের কবিতা পড়ে শোনান। তাঁর আলোচনায় আহসান হাবীব, সৈয়দ শামসুল হক ও নির্মলেন্দু গুণের কবিতাও উঠে আসে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি আরো বলেন, “শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে আমি হাসানআলের অনুরোধে একটি প্রবন্ধ লিখছি। তার শততম জন্মদিন উপলক্ষে আমি প্রবন্ধটি খুব আনন্দের সাথে লিখছি, কারণ শেখ মুজিব শুধু বাংলাদেশের প্র্রতিষ্ঠাতই নন, তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতা ছিলেন।” প্রাবন্ধিক আহমেদ মাযহার এই সঙ্কলনটিকে একটি মালা হিসেবে তুলে ধরে এর বহুল প্রচার কামনা করেন। বেলাল বেগ ও সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ এই বইকে বাংলাদেশের কবিতার একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থাপন হিসেবে বর্ণনা করে প্রকাশক ও অনুবাদককে ধন্যবাদ জানান। কবি শামস আল মমীন দ্বিভাষিক কবিতা পত্রিকা ‘শব্দগুচ্ছ’ প্রকাশ ও ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি কবিতা’ অনুবাদ ও সম্পাদনার ভেতর দিয়ে নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় বাঙলা কবিতার একটি উজ্জ্বল অবস্থান তৈরি করার জন্যে হাসানআল আব্দুল্লাহকে সাধুবাদ জানান। কবি নাজনীন সীমন সঙ্কলন থেকে কবি আবুল হাসান ও নিজের একটি করে কবিতা পড়ে শোনান। সঙ্কলন থেকে আরো কবিতা পড়েন নতুন প্রজন্মের দুই উজ্জ্বল মুখ মাহিরা রাহিম ও সামন্থা রহমান। কৌতুক পরিবেশন করেন শহীদ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে কবির একমাত্র পুত্র একক সৌবীর বলেন যে তার বাবা নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যম হিসেবে কবিতাকে বেছে নিয়েছেন। “তিনি কবিতাকে যাপন করেন,” বলে একক মত দেন। তিনি আরো বলেন, “সেদিন বেশি দূরে নয় যখন আমেরিকার কোনো ক্লাসরুমে প্রোফেসর দেড় ঘণ্টার লেকচার দেবেন বাঙলা কবিতা নিয়ে, আর মুগ্ধ হয়ে শুনবে ছাত্রছাত্রীরা।” বইটির অনুবাদক হাসানআল আব্দুল্লাহ বলেন, “আমি যখন এই বইটি বুকে চেপে ধরি আমার মনে হয় আমি বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আছি। দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার এরচে’ ভালো উপায় আমার জানা নেই।” অনুষ্ঠান শেষ হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে, পরিবেশন করেন শিল্পী মিনি কাদির। ‘শব্দগুচ্ছ’র পক্ষ থেকে মধ্যান্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। সার্বিক তত্ত¡াবধানে ছিলেন একক সৌবীর ও জীবন জমাদ্দার। আরো উপস্থিত ছিলেন বিবি বারকান, প্রোফেসর জন ডিগবি, শিল্পী অনুপ বডুয়া, নাজমুল কাদির, শিল্পী সুব্রত দত্ত, তানভির রাহিম, ফিল্মমেকার অনিন্দ আতিক, ও আনিকা হক প্রমুখ। অনুষ্ঠান চলে দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। উল্লেখ্য ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশি পোয়েট্রি’ গ্রন্থে ৩৮জন কবির ১৪৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। প্রচ্ছদ আর্ট পোলিশ শিল্পী ইয়াসেক ওজোয়োস্কি ও ডিজাইন আল নোমান। উৎসর্গ করা হয়েছে ’৫২ ভাষা আন্দোলনে শহীদদেরকে। অ্যামাজন ডট কম ও স্মল প্রেস ডিস্টিবিউশন ডট কম-এ বইটি পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকান পাঠকের কাছে সমকালিন বাংলাদেশী কবিতাকে তুলে দিতে প্রকাশিত হয়েছে ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশী পোয়েট্রি’। এই বইয়ে স্থান পেয়েছেন ৩৮জন বাংলাদেশের কবি। ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশী পোয়েট্রি’ একটি  অমূল্য কবিতা সংকলনের নাম। সম্পাদনা করেছেন প্রফেসর নিকোলাস বার্নস ও প্রফেসর জোন ডিকবি। এই বই এ স্থান পেয়েছেন ৩৮জন বাংলাদেশের কবি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমন একটি সংকলন এর আগে পশ্চিম থেকে প্রকাশিত হয়নি। ২০০ পৃষ্ঠার এই সংকলনে ১৫০টির উপরে কবিতা রয়েছে। সবগুলো কবিতাই অনুবাদ করেছেন ‘শব্দগুচ্ছ’ সম্পাদক ও  নব্বই দশকের অন্যতম প্রধান কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আজ হাতে পেলাম ‘কনটেম্পোরারি বাংলাদেশী পোয়েট্রি’। প্রকাশনার মান দেখে এতো বছরের অপেক্ষা আর শ্রমকে সার্থক মনে হলো। বইটি সম্পাদনা করেছেন প্রফেসর নিকোলাস বার্নস ও প্রফেসর জোন ডিকবি। প্রথমোক্ত জন ভূমিকা ও দ্বিতীয়োক্ত জন লিখেছেন ব্যাক কাভার। অনুবাদের জন্যে নিউইয়র্ক সিটি আর্ট অ্যাফেয়ার্সের গ্রান্ট পেয়েছেন অনুবাদক। যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ক্রস-কালচারাল কমিউনিকেশন্স ও নিউ ফেরল প্রেস। প্রচ্ছদ আর্ট পোলিশ শিল্পী ইয়াসেক ওজোয়োস্কি ও ডিজাইন আল নোমান।
বই সম্পর্কে সাহিত্য সমালোচক আহমাদ মাযহার বলেছেন, সংকলনটি প্রকাশ করেছে যৌথভাবে নিউইয়র্কের দুটি স্মলপ্রেস প্রকাশনা সংস্থা। বইটি প্রকাশিত হয়েছে যথেষ্ট পেশাদারিত্বের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ‘স্মলপ্রেস’ প্রকাশনা সংস্থা আছে যারা ঠিক খ্যাতিমান প্রকাশনা সংস্থার মতো অতটা বাণিজ্যিক নয়। এসব সংস্থাও বই প্রকাশ করেন বেশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে। সাধারণত গ্রাহকও তাদের হয়ে থাকেন পেশাদার পাঠকগণই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা লাইব্রেরির পক্ষ থেকেই তাদের বই কেনা হয় সাধারণ সেলফ-পাবলিকেশন হিসেবে প্রকাশিত বইয়ের লেখকদের ভাগ্যে সাধারণত যা জোটে না।
হাসানআলের এই অনুবাদ সংকলনটির কপি-সম্পাদনা করেছেন দু’জন সম্পাদক। একজন ড. জোন ডিগবি–যিনি নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজির অধ্যাপক। অপরজন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ইংরেজির অধ্যাপক ড. নিকোলাস বার্নস। দু’জনই অনুবাদের টেক্সটের ইংরেজিকে মার্কিন চারিত্রানুগ করে সম্পাদনা করেছেন, চেষ্টা করেছেন যেন আমেরিকার পাঠকদের রুচিগত দিক থেকে মানসম্পন্ন হয় বইটি। প্রফেসর নিকোলাস বার্নস লিখেছেন বইটির ভূমিকা ও প্রফেসর জোন ডিকবি লিখেছেন ব্যাক কাভার। এই বই অনুবাদের জন্যে নিউইয়র্ক সিটি আর্ট অ্যাফেয়ার্সের গ্রান্ট পেয়েছেন অনুবাদক। যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ক্রস-কালচারাল কমিউনিকেশন্স ও নিউ ফেরল প্রেস।
যাঁদের কবিতা স্থান পেয়েছে, বয়ঃক্রমিক তালিকায় তাঁরা হলেন আহসন হাবীব, শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, সিকদার আমিনুল হক, রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ, হুমায়ুন আজাদ, হেলাল হাফিজ, আবুল হাসান, হুমায়ুন কবীর, খোন্দকার আশরাফ হোসেন, আবিদ আজাদ, নাসির আহমেদ, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, আবু হাসান শাহরিয়ার, কামাল চৌধুরী, নাসিমা সুলতানা, মারুফ রায়হান, রাজা হাসান, তসলিমা নাসরিন, রুকসানা রূপা, আহমেদ স্বপন মাহমুদ, হাসানআল আব্দুল্লাহ, মতিন রায়হান, বায়তুল্লাহ কাদেরী, টোকন ঠাকুর, রহমান হেনরী, আলফ্রেড খোকন, সৌমিত্র দেব, শামীম রেজা, নাজনীন সীমন, জাহানারা পারভীন, রনি অধিকারী ও জাহিদ সোহাগ। সংকলক হিসেবে কবিতার নির্বাচন করেছেন এ সংকলনের অনুবাদক কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ নিজেই। ফলে কবিতা নির্বাচনের যাথার্থ মূল্যায়নের সময় সকল দায়িত্ব বর্তায় তাঁরই ওপর। বাংলা কবিতার ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার নেই বলে এ নিয়ে কিছু বললাম না। তবে বাংলা কবিতার নিয়মিত পাঠক হিসেবে এটুকু অনুমান করি যে, কবি ও কবিতা নির্বাচন নিয়ে, কিংবা অনূদিত কবিতার এ সংকলন বা সংখ্যাটিকে ঘিরে অজস্র প্রশংসার দাবি রাখেন। মূলত তিনি মেধাবী কবি ও অনুবাদক। হ্যাঁ, তিনি অজস্র প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য বটে। পাশাপাশি আরো বলে রাখা ভালো যে, হাজারও কবি তাঁকে ঈর্ষাও করবেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হয়তো আড়ালে বিস্তর কথা শুনতে হবে তাঁকে। তাতে কী, কোন সংকলকইবা এ রকম তিরস্কার থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন!
বইটি অনুবাদক-সংকলকের দীর্ঘনিমগ্ন কবিতা পাঠের ও কবিতা বিচারের নিদর্শন, এটি কোনো নির্বিচার অপরিশীলিত অনুবাদের কবিতাস্তূপ নয়। এটি প্রকাশিত হয়েছে সযতœ পেশাদারিত্বের সঙ্গে। বইয়ের শেষে কবিদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় আছে। একজন বিদেশি হলেও ড. নিকোলাস বার্নস বাংলাদেশের কবিতার সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে যথেষ্ট যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। নিউইয়র্কে অ্যামাজন ডট কম ও স্মল প্রেস ডিস্টিংশন ডট কমে পাওয়া যাচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here