চোরা চালানীদের রুট বদল : মায়ানমারে তৈরি ইয়াবা আসছে ভারত হয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইয়াবাসহ জীবন হানিকর অন্যান্য মাদক আমদানীতে চোরাচালানীরা রুট বদল করেছে। মায়ানমারের পাশাপাশি ভারত থেকেও ইয়াবা আসছে। আবার শুরু হয়েছে ফেনসিডিল আসা। ফার্মাসিউটিক্যাল ড্রাগ ছাড়াও আসছে এনপিএস নামক নতুন ধরনের ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর মাদক।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মায়ানমার থেকে সীমান্ত পথে বছরে কমপক্ষে বিশ কোটি পিস ইয়াবা আসে। গত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ৫ কোটি ৩০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ পিস ইয়াবা। বছর শেষে এই সংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তুলনামূলকভাবে ইয়াবা কম ধরা পড়েছে। অর্থাৎ চোরাই পথে আসা কমেছে। চোরাচালান বিরোধী ব্যাপক অভিযানের ফলে চোরাইপথে ইয়াবা আসা কিছুটা কমলেও চোরাচালানীরা রুট বদল করেছে। মায়ানমার সীমান্তের পাশাপাশি মায়ানমার থেকে ভারত হয়ে ইয়াবা পাচার শুরু হয়েছে। মেঘালয় ও চাপাইনবাবগঞ্জ বরাবর সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসছে। মায়ানমার থেকে ইয়াবা আসার প্রধান রুট ছিল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম উপক‚লবর্তী এলাকা। এসব জেলায় পুলিশ, কোস্টগার্ড অব্যাহত সাড়াশী অভিযান চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে চোরাচালানীরা রুট পরিবর্তন করেছে। ব্রাক্ষèনবাড়িয়া, আখাউড়া, চাপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি নতুন রুট দিয়ে চোরাচালানীরা মাদকদ্রব্য পাঠাচ্ছে। ইয়াবার সাথে ফেন্সিসিডিল, এনপিএস আসছে প্রচুর পরিমানে। এসব মাদক যৌনশক্তি ও জীবনশক্তি দ্রæত নি:শ্বেষ করে দেয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নতুন রুটগুলোর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। এসব সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষ ও যানবাহনের চলাচল গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ভারতের ব্যুরো অব নারকোটিক্সের মহাপরিচালক পর্যায়ে গত ১১ থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠানরত তিনদিনের বৈঠকে ইয়াবাসহ মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়। এব্যাপারে ভারত প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেয়ার কথা জানিয়েছে বলে জানা যায়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here