বিএনপি’র সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তা

0
147

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিসেম্বরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছেনা জেলা সম্মেলন না হওয়ায় এবং বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ প্রতিক‚লতায়।
বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন আগামী বছরের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত হিসেবে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে রাখা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে বিএনপির মধ্যে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। এতে আইনগত জটিলতা বাড়বে এবং নির্বাচন কমিশন ও সরকার এর সুযোগ নিয়ে আদালতের মাধ্যমে কাউন্সিল ও নির্বাচিত কমিটির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে কমিটি ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে পারে। অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের পদ পেতে দলের ভেতরে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দলের সিনিয়র নেতা কুমিল্লার অধিবাসী একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে পেতে আগ্রহী এবং নানানভাবে তৎপর। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং খালেদা জিয়া ও বিএনপির নিবেদিত প্রান। দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য, খ্যাতিমান আইনজ্ঞসহ আরো কয়েকজন নেতা এর বিপক্ষে । তারা বেগম খালেদা জিয়াকে চেয়ারপার্সন ও তার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানকেই ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান পদে রাখার পক্ষে। প্রতিদ্ব›দ্বী অপর নেতাকে ঠেকানোর জন্যই তাদের এই তারেক প্রীতি বলে বিএনপির অপর কোন কোন নেতা মনে করেন।
এদিকে মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্ব, সফলতা, দায়িত্বশীলতা নিয়ে বিএনপিতেই প্রশ্ন রয়েছে। একজন উচু মাপের মানুষ, আদর্শনিষ্ঠ নেতা হিসেবে দলে ও বাইরে তিনি সমাদৃত। তবে একটি মহল তার ব্যর্থতার, সীমাবদ্ধতার দিকটিই বড় করে দেখেছেন। এর কারনগুলো বিদ্যমান প্রতিক‚লতা বিবেচনায় নিচ্ছেন না। বিএনপির এই অংশটি চাচ্ছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মহাসচিব পদে। আমীর খসরুর মুল খুটি তারেক। সরকারের সঙ্গে আপোষরফায় না গিয়ে সরকার বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার মানসিক, সাংগঠনিক, রাজনৈতিক সক্ষমতা, দক্ষতা রাখেন এমন একজনকে নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার পক্ষে তারা। নেতৃত্বের এই অপ্রকাশ্য প্রতিযোগিতা দলের জেলা ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে ও নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগে সবগুলো জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠানের সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ পর্যন্ত একুশটি জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে। এখানেও চারটি জেলার নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ অমীমাংসিত রয়েছে। অপর জেলাগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তুতিও নেই। নেতৃত্বের দ্ব›দ্বও রয়েছে কয়েকটি জেলায়। এইসব দ্ব›দ্ব-বিরোধ শান্তিপূর্নভাবে মীমাংসার উদ্যোগও নেই কেন্দ্রের। সকল বিরোধ মিটিয়ে জেলা সম্মেলন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কয়েকজন নেতাকে। তাদের সময়ও বেধে দেয়া হয়েছে। তারা নির্ধারিত দায়িত্ব কতটা সফলভাবে সম্পাদন করতে পারবেন তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
জানা যায়, জেলা ও কেন্দ্রীয় সম্মেলন শেষে আগামী বছরের প্রথম ভাগে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। দেশের মানুষের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব প্রবলভাবেই রয়েছে বলে দলটির নেতারা মনে করেন। কিন্তু জীবন যুদ্ধে লিপ্ত দেশের মানুষ সরকারের প্রতি আশাহত, ক্ষুব্ধ হলেও বিএনপি ও তার সহযোগিদের ডাকে কতটা সাড়া দেয় সে প্রশ্নও রয়েছে। নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীকালে, বিশেষ করে সংসদ নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা এবং নতুন নির্বাচনের দাবি করেও নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ সংসদে যোগদান খালেদার প্যারোলের জন্য সরকারের সঙ্গে দেন দরবারের ঘটনাসমূহ দেশের রাজনীতি সচেতন, সাধারন মানুষও বিপন্ন বিস্ময়ে পর্যবেক্ষন করেছেন। ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কাউন্সিলে এর প্রতিফলন ঘটতে পারে।
অপরদিকে সরকার যে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে তাতে সরকারি দলের পাশাপাশি বিএনপি, জাতীয় পার্টিরও অনেক নেতা ভীতির মধ্যে আছেন। আয়ের সাথে অস্বাভাবিক অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ, অর্থ-বিত্তের মালিক হওয়ার বিষয় ছাড়াও মানি লন্ডারিং মামলায় পড়তে পারেন অনেকে। এমনি ত্রিশুঙ্ক অবস্থায় কাউন্সিল ও সরকার বিরোধী কার্যকর আন্দোলন সংগঠিত করা তাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে কিনা তাও দেখার বিষয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here