ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাক

0
27

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্রিকেটে হঠাৎই অচলাবস্থা। ধর্মঘটের ডাক দিলেন ক্রিকেটাররা। গতকাল দুপুরে মিরপুর শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন একাডেমি মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা বেতন ও ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। ক্রিকেটাররা বলছেন, তাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তারা সব ধরণের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ও অনুশীলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। এই সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিমসহ অন্তত ত্রিশ জন ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন। এদের অধিকাংশই জাতীয় দলের খেলোয়াড়।
এমনিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে যাওয়ার কথা খুব একটা শোনা যায় না। এর আগে ১৯৯৯ সালে একবার ধর্মঘটে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এমন সময়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা, যখন আগামী মাসেই একটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ খেলবার জন্য ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের। সংবাদ সম্মেলনে এক একজন ক্রিকেটার এক একটি দাবির কথা তুলে ধরেন এবং তাদের বক্তব্য জানান। সাকিব আল হাসান বলেন, “ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ম্যাচ ফি হওয়া উচিৎ এক লাখ, স্যালারি ৫০ শতাংশ বাড়তি প্রয়োজন।” তিনি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা এবং আবাসন ভাতা বাড়ানোরও দাবি জানান। বাংলাদেশে যেভাবে ক্রিকেট লিগ চলছে তা নিয়ে আপত্তি জানান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তারা দাবি জানান, প্রিমিয়ার লিগ ও ক্রিকেট লিগ আগের নিয়মে হোক।
বিপিএল প্রসঙ্গে মুশফিকুর রহিম বলেন, “এবার যেটা হচ্ছে সেটা আমরা সম্মান করি, কিন্তু আগামী বছর থেকে আমরা আগের নিয়মের বিপিএল চাই।” স্থানীয় ও বিদেশী ক্রিকেটারদের আর্থিক বৈষম্য দূর করারও দাবি জানান মুশফিকুর রহিম। বোর্ড কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে নাইম ইসলাম বলেন, “আমরা কখনো পাইনি তারা ক্রিকেটারদের নিয়ে কিছু বলছেন বা করছেন।” তাঁরা ক্রিকেটারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে থাকায় অনূর্ধ্ব–১৯ দলকের খেলোয়াড়দের এ আন্দোলনের বাইরে রাখার বাইরে কথা জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় তামিম জানান, আমরা শুধু ক্রিকেট নিয়েই পড়ে থাকি। কিন্তু যদি একজন গ্রাউন্ডসম্যানের পারিশ্রমিকের কথা বলেন, সেটা কিন্তু বাড়ানো হচ্ছে না। তারা মাসে ৫ থেকে ৬ হাজারা টাকা দেওয়া হয়। আমরা বাংলাদেশি কোচ প্রমোট করতে পারছি না। যেখানে বিদেশি একজন কোচের পারিশ্রমিকের সমান বাংলাদেশের ২০ জন কোচ। এছাড়া, দেশি একজন কোচের পারফর্ম ভালো হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকে পরের ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হয় না।
চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়ানো, খেলোয়াড়দের বেতন বৃদ্ধি, বিসিবির গ্রাউন্সম্যান থেকে শুরু করে অন্য বেতনভুক্ত কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এই ১১ দফা দাবির মধ্যে আছে। এর পাশাপাশি আছে ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান। ঘরোয়া ক্রিকেটের টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও করেছেন আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা।
প্রসঙ্গত, গত মাসে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) ফ্রাঞ্চাইজ-ভিত্তিক প্রথা বাদ দেয়ার ঘোষণা দেয় বিসিবি। এতে পেশাদার ক্রিকেটারদের আয় বিগত সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কমে হবে। পাশাপাশি, চলতি মাসের শুরুর দিকে মাঠে গড়ানো প্রথম শ্রেণির লীগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি না বাড়ার ফলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসব নিয়ে পেশাদার ক্রিকেটাররা গত কয়েক মাস ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব স¤প্রতি গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রিকেটারদের শোষণ করা হচ্ছে, তাদের আরও ভালোভাবে ‘ট্রিট’করা উচিত।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের জন্য স¤প্রতি একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে বোর্ড। যেখানে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রত্যেকটি দলের প্রথম একাদশে অন্তত একজন লেগ-স্পিনার রাখতে হবে। নির্দেশ না মানায় দুই দলের হেড কোচকে নির্বাসিতও করেছে বোর্ড। আর এই বিষয়টিই শাকিবদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। তাঁর কথায়, এতে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সকে চেপে দেওয়া হচ্ছে।
শাকিব বলেন, “এতবছর ধরে আমাদের দল একটা লেগ স্পিনার বাছাই করতে পারেনি। আর হঠাৎ করে ঠিক হয়ে গেল বিপিএলে সাতজন লেগ-স্পিনার নিতে হবে। এমন সিদ্ধান্ত বেশ অবাকই করেছিল। বোর্ড নিশ্চয়ই ভাল কিছু ভেবেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছে।” তবে শাকিবের মতে, বিপিএল বোলার তৈরি করার জায়গা নয়। অলরাউন্ডার বলেন, “আমার মনে হয়, আত্মবিশ্বাসী আর ধারাবাহিক হয়ে উঠতে লেগ স্পিনারদের অনেক বেশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে হবে। এই টুর্নামেন্টটা (বিপিএল) আন্তর্জাতিক মানের। বিশ্বের নানা তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম এখানে শেয়ার করে নিতে পারেন বাংলাদেশিরা। তাই এটা লেগ-স্পিনার তৈরির জায়গা নয়।” সেই কারণেই বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট তিনি।
এদিকে, ৩ নভেম্বর থেকে ভারতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের। ৩, ৭ ও ১০ নভেম্বর যথাক্রমে নয়াদিল্লি, রাজকোট ও নাগপুরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে। তার পর রয়েছে টেস্ট সিরিজ। সূচি অনুসারে ১৪ নভেম্বর থেকে ইনদওরে ও ২২ নভেম্বর থেকে কলকাতায় হবে টেস্ট। কিন্তু এখন সবকিছুই দেখাচ্ছে অনিশ্চিত।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here