গ্যাসের সকল আবাসিক সংযোগে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে

0
35

নিজস্ব প্রতিবেদক :  তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঢাকা শহরের গ্যাসের সকল গৃহস্থালী ও বাণজ্যিক সংযোগে মিটার স্থাপন করবে। আগামী দু’বছরের মধ্যে দশ লক্ষ এবং পরবর্তী এক বছরের মধ্যে আরো দশ লক্ষ আবাসিক সংযোগ মিটার সংযোগের পরিকল্পনা নিয়েছে।
জ্বালাানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ১ লাখ ৯৫ হাজার আবাসিক প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য আটটি বেসরকারি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হবে। আগামী দু’মাসের মধ্যেই তারা কাজ শুরু করবে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দরকার, গ্যাসের অপচয় বন্ধ করার পাশাপাশি জ্বালানির সাশ্রয়ী, দক্ষ, নিরাপদ ও টেকসই ব্যবহার এবং গ্যাসের গ্রাহক বান্ধব আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। বর্তমানে গ্যাসের ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ অপচয় ও সিস্টেম লস হয়। এটা বন্ধ করা, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, গ্যাস সাশ্রয়ের মনোভাব সৃষ্টির জন্য প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে চালু হলে সিস্টেমে গ্যাসের সঠিক হিসাব রাখা এবং গ্রাহক পর্যায়ে প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল আদায় করা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থায় তিতাস গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানির দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রকে দমিত করা যেমনি সম্ভব হবে, বিল সীমিত রাখতে গ্রাহকদের প্রয়োজন, অপ্রয়োজনে ব্যবহার, অহেতুক বার্ণার জ্বালিয়ে রাখার প্রবণতা কমে আসবে।
কেবলমাত্র সরকারি উদ্যোগে আবাসিক পর্যায়ের সকল গ্রাহকের জন্য গ্যাসের প্রি- পেইড মিটার স্থাপন অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এ জন্য বেসরকারি পর্যায়ে মিটার আমদানি ও উৎপাদন এবং গ্রাহকদের খোলাবাজার হতে মিটার সংগ্রহের নীতি নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবেও এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। খোলাবাজার থেকে কেনা মিটার বেসরকারি কোম্পানি গ্রাহকের বাসায় স্থাপন করবে।  ২০০৫ সাল থেকে সরকারি পর্যায়ে আবাসিক সংযোগে মিটার সংস্থাপনের কার্যক্রম চলছে। প্রায় ১৯ বছরেও তাদের কার্যক্রম অত্যন্ত হতাশাজনক। এদিকে গ্যাসের মজুদ দ্রæত নিঃশেষ হতে চলেছে। দেশে গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৫০০ এমএ সিএফটি। শিল্প খাতের চাহিদা ধরে মোট প্রয়োজন দৈনিক ৪০০ এমএমসিএফটি। আমদানি করা হচ্ছে ৫০০ এমএমসিএফটি নন এলজি। স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮০০ এমএমসিএফটি। দৈনিক ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ১৩০০ এমএমসিএফটি। নতুন ব্যবস্থায় অর্থাৎ সকল গ্রাহক প্রি-পেইড সংযোগ দেয়া হলে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছেন। কারণ দু’মাসের মধ্যে আরো ৫০০ এমএমসিএফটি গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে।
জানা যায়, আমদানির পাশাপাশি দেশীয় কোম্পানিকেও মিটার প্রস্তুতের সুযোগ দেয়া হবে। পেট্রোবাংলা-কর্তৃক প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বিদেশ থেকে মিটার আমদানি ও দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রি-পেইড মিটার প্রস্তুত করতে হবে। মিটারের কারিগরি মান ও স্পেশিফিকেশন চ‚ড়ান্ত করবে পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ কমিটি। মিটারের খুচরা মূল্য তারাই নির্ধারণ করে দেবেন। মিটারের সহজলভ্যতা, টেকসই, মান, বিক্রয়োত্তর সেবা, যন্ত্রঅংশের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে যথাযথ নির্দেশ ও পদক্ষেপ নেবে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
জানা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে প্রি-পেইড থেকে মিটার বিক্রি ও স্থাপনের বেসরকারি কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সেলস পয়েন্ট স্থাপন করবে। মিটার নষ্ট হলে কোম্পানির লোকজন তা ঠিক করে দেবে। নষ্ট হওয়া সময়েরও বিলিং ব্যবস্থা থাকবে। মিটারে বিশেষ নিরাপত্তা সীল সংযোজন করা হবে। গ্যাস কারচুপির জন্য আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি মিটারে স্বংক্রিয় মিটারিং ব্যবস্থা থাকবে। পর্যায়ে এ ব্যবস্থা সকল মহানগরের জেলা, উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। কোম্পানির প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রি- পেইড/স্মার্ট মিটার রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি, অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করবে। বিক্রেতা কোম্পানিকে মিটারের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ওয়ারেন্টি দেবে। ওয়ারেন্টিকালীন সময়ে মিটার অকেজো বা ত্রæটি দেখা দিলে কোম্পানি নিজ দায়িত্বে তা সারিয়ে দেবে, প্রয়োজনে গ্রাহককে নতুন মিটার দেবে। প্রত্যেক গ্রাহককে মাস্টার সার্ভিস কার্ড দেয়া হবে। কার্ডের তথ্যাদির গোপনীয়তা ও সার্বিক নিরাপত্তা গ্যাস কোম্পানি নিশ্চিত করবে। এই কার্ড সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানি ছাড়া অন্য কারো কাছে দেয়া যাবে না। মিটার প্রস্তুতকারী দেশি-বিদেশী প্রতিষ্ঠান তা নিশ্চিত করবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here