প্রকল্পটি কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন সংক্রান্ত হলেও কাজটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১৯১ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৮৬ কোটি টাকা

0
29

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন কাজে ৪৫দশমিক ২৩ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি ঘটেছে। প্রকল্পের জন্য চুক্তি হয়েছিল ১৯১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এই চুক্তিমুল্যে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করার পর এখন ৮৬ কোটি ৭১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দিকে বিমান বন্দর উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করারও সম্ভাবনা নেই।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন সংক্রান্ত হলেও কাজটি করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। কারণ প্রকল্পের এ অংশটি বিমান বন্দর সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত ভ‚মিহীনদের খুরুশকুল মৌজায় পুনর্বাসনের জন্য মহেশখালি চ্যানেল পাড়ে ও বাঁকখালী নদীর তীরে সেøাপ প্রতিরক্ষা ও আশ্রায়ন সংক্রান্ত। এ কাজ করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় দুটি রেগুলেটর মাটি ভরাট ও বাধসহ প্রতিরক্ষামূলক কাজ। এসব কাজের আশি শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। কাজ সমাপ্ত করে আনার পর্যায়ে মাস্টারপ্লানে আকস্মিক পরিবর্তন আনা হয়। বাঁকখালী নদীর ডান তীরে প্রতিরক্ষামূলক কাজের পরিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। বাঁধের প্রশস্ততা বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী রেগুলেটর নির্মাণ, ৩টি ব্রীজ, ওয়াকওয়ে, ঘাটলা নির্মাণ, সেøাপ প্রতিরক্ষাসহ বাধ সম্প্রসারনের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রকল্পব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নতুন করে ২১২ একর জমিতে মাটি ভরাট করা, দুটি অতিরিক্ত রেগুলেটর নির্মাণ প্রতিরক্ষা কাজসহ বাধ নির্মাণ, মহেশখালী চ্যানেল পাড়ে ২ দশমিক ০৮০ কিলোমিটার, বাকখালী নদীর পাড়ে ২ দশমিক ৬৯৪ কিলোমিটার এবং খাল খনন ২ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার, নয়টি ঘাটলা নির্মাণ এবং ৩টি ব্রীজ নির্মাণ করা হবে।
অতিরিক্ত এই কাজের যৌক্তিকতা নির্ধারনের জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশে কাজের পরিধি ও অঙ্গ বাড়ানো হয়। যার ফলে ব্যয় বেড়েছে। মূল চুক্তিমূল্য অপেক্ষা ৮৬ কোটি ৭১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে অতিরিক্ত কাজের জন্য। বাড়তি এই কাজের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ যেমনি খরচ করতে হচ্ছে বিমান বন্দর উন্নয়ন কাজও বিলম্বিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে কারিগরি কমিটি নিশ্চয়ই যৌক্তিকভাবে প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের ভেরিয়েশন প্রস্তাবের পক্ষে সুপারিশ করেছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ মূল প্রকল্প প্রস্তাবে এ বিষয়গুলো অন্তভর্‚ক্ত করেননি কেন। তাদের দক্ষতা এতে প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, ৮০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হলেও এজন্য নতুন করে দরপত্র আহŸানের প্রস্তাব করা হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে নারায়নগঞ্জের ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়াক্স লি:। অতিরিক্ত কাজ এদের মাধ্যমেই সম্পাদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার জন্য রেট নিগোসিয়েশন কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটি কি নিগোসিয়েট করেছে জানা যায়নি। তবে রেট কমানো হয়নি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here