সিটি নির্বাচন ঝুলে যাচ্ছে

0
20

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গ্রীন সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল। ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষনার কথাও বলা হয়েছিল। ভাগ্যিস কমিশন তফসিল ঘোষনা করেনি। করলে কমিশন ও সরকারকেও চরম বিব্রতকরই নয়, অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববতী একশ আশি দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষনার কথা নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছিল। তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের হলেও স্থানীয় সরকার সংস্থা সমূহের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মতিসূচক পত্র পাওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচনী কোন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। অপর বড় দল বিএনপি কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা না করলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে ডিসেম্বরের কথাই বলছে। বড় দুই দলের কাউন্সিলের অজুহাতে নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠান না করার যুক্তি খুঁজে পেয়েছে। অবশ্য প্রকৃত কারণ ভিন্নতর।
রাজধানী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ও দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন একই সময়ে হয়েছিল। আগামী জুনে এদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ন হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিনের নব গঠিত ছত্রিশটি ওয়ার্ড নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত জটিলতা গোটা নির্বাচনকেই ভুন্ডল করে দিতে পারে। যা নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারের দক্ষতা, ভাবর্মূতি ধরেই টান দিবে। অথচ বিষয়টি না ভেবে ও বিবেচনায় না নিয়েই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের অভিপ্রায়ের কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল।
নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররাও পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত। তাদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ন হতে আরো তিন বছর বাকী। কর্পোরেশনের মেয়র ও অন্যান্য কাউন্সিলরদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পুর্ন হওয়ায় তাদের নির্বাচন করিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু ৩৬ টি ওয়ার্ডের ৩৬ কাউন্সিলরের বক্তব্য হচ্ছে যে, ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়া সত্তে¡ও মেয়াদ পূর্ন হওয়ার আগে তারা কেন নতুন করে নির্বাচন করবেন। পুরোনো কাউন্সিলরদের সঙ্গে তাদেরও নির্বাচন করিয়ে নেয়ার আইনগত বৈধতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। এ ব্যাপারে তারা বিশিষ্ট কয়েকজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়েছেন। তারা অভিমত দিয়েছেন যে, বিদ্যমান আইনের সংশোধনী ছাড়া তা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার সাথে সাথে ৩৬ ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা হাইকোর্টে নির্বাচনের স্থগিতাদেশ চেয়ে রীট করবেন। সেক্ষেত্রে গোটা নির্বাচনই ঝুলে যাবে, যা সরকারকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here