পাকিস্তানে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩

0
21

নিউজ ডেস্ক : বিধ্বংসী অগ্নিকাÐে চলন্ত ট্রেনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন অন্তত ৭৩ জন যাত্রী, আহত অসংখ্য। গতকাল বৃহস্পতিবার এই বিধ্বংসী দুর্ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের পঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান এলাকার কাছে লিয়াকতপুরে। নিহতরা সবাই তেজগাম এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন। দ্রæতগতির এই ট্রেনটি করাচি থেকে রাওয়ালপিন্ডি যাচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সিলিন্ডার ফেটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কিছু যাত্রী চলন্ত ট্রেনে জলখাবার তৈরি করছিলেন। তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রæত আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনটি কামরায়।দুর্ঘটনার পরেই শুরু হয়েছে উদ্ধারপর্ব। প্রত্যক্ষদর্শী এবং উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুন থেকে বাঁচার জন্য ট্রেন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণ হারিয়েছেন অনেক যাত্রী। আবার কিছু যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচাতেও সক্ষম হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে দ্রæত পৌঁছয় সেনাবাহিনী, চিকিৎসক, অগ্নি নির্বাপণ কর্মী এবং উদ্ধারকারীরা। একসঙ্গেই চলে উদ্ধার এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ। মুলতান থেকে পাঠানো হয় সেনাবাহিনীর বিশেষ কপ্টারও। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের জন্য সুচিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আহতদের পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। গত পাঁচ মাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা হল পাকিস্তানে। সেপ্টেম্বরে চারজন প্রাণ হারান রেল দুর্ঘটনায়। তার আগে জুলাই মাসে সাদিকাবাদে যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি হয় ২০ জনের বেশি যাত্রীর। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৮০। জুন মাসে পাকিস্তানের হায়দরাবাদ প্রদেশে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিন জন। পাকিস্তান রেলের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ট্রেনের কামরায় সিলিন্ডার বা অন্য দাহ্য পদার্থ নিয়ে ওঠা আইনবিরুদ্ধ। তা সত্তে¡ও যাত্রীরা তাঁদের পোশাকের আড়ালে সিলিন্ডার নিয়ে তেজগাম এক্সপ্রেসে ওঠেন বলে তাঁর অভিমত। পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রাশিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই ট্রেনে তাবলিগ জামাতের একটি দল ছিল, যারা লাহোরে একটি জমায়েতে যোগ দিতে যাচ্ছিল। ট্রেনে থাকা কেরোসিন সিলিন্ডার এবং স্টোভ বিস্ফোরণ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সকালের নাস্তা তৈরির সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তিনটি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়নি। এই ঘটনার পর পাকিস্তানের ১৩৪টি ট্রেন চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। রেলমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ার কারণে। তবে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ার কারণে অনেকের জীবনও রক্ষা পেয়েছে বলে জানান রেলমন্ত্রী। পাকিস্তানে দীর্ঘ রেলযাত্রার সময় যাত্রীদের অনেকেই খাবার তৈরির জন্য গোপনে ট্রেনের ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডার যুক্ত চুলা নিয়ে উঠে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ট্রেন এবং যাত্রীদের বীমা করা ছিল। ফলে তারা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here