মালয়েশিয়ায় দুই লক্ষ কোটি টাকা পাচার

0
22

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আ্ইনগতভাবেই তারা সে সুযোগ পেয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েই তারা মালয়েশিয়ায় সরকারের সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হয়ে সেদেশের নাগরিক ও অন্যান্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ এই সেকেন্ড হোম প্রকল্পের আওতায় মালয়েশিয়ায় বাড়ি ফ্লাটের মালিক হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। বিদেশিদের অধিকাংশই চীন, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানের নাগরিক। এদের মধ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছেন সাত হাজারের বেশি। মালয়েশিয়ায় তারা প্রত্যেকে বাড়ি, ফ্লাটের মালিক।
জানা যায়, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আট বছর আগে মালয়েশিয়ায় সরকার নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থানে সুযোগ দেয়। বিদেশিদের মধ্যে চীনাদের অবস্থানই শীর্ষে। প্রায় নয় হাজার চীনা নাগরিক মালয়েশিয়ায় এভাবে অবস্থান করছেন। মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রচারিত তথ্যের উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ কথা জানান।
জানা যায় পঞ্চাশ বছর ও তার বেশি বয়সী বিদেশিদের মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য সেদেশের ব্যাংকে জনপ্রতি দেড় কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট আকারে জমা রাখতে হয়। মাথাপিছু মাসিক আয় দেখাতে হয় দশ হাজার রিঙ্গিত। আবার যেসব বিদেশির বয়স পঞ্চাশের নিচে সেকেন্ড হোম প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদের প্রত্যেককে ৩ কোটি টাকা করে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রাখতে হয়।  জনপ্রতি ৩ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট আকারে পাচ হাজার জন পঞ্চাশ অনুর্ধ্ব বাংলাদেশি বৈদেশিক মুদ্রায় পনের হাজার কোটি টাকা জমা রেখেছেন। পঞ্চাশ উর্ধ্বের অপর দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি তিন কোটি টাকা ডিপোজিট রেখেছেন। জানা যায়, গত দুবছরে আরো চার হাজার বাংলাদেশি জনপ্রতি দেড় থেকে তিন কোটি টাকা জমা রেখে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করছেন। তাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রাখা ছাড়াও এরা বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ পাচার করেছেন। পাচার করা অর্থের পরিমান কত হবে সে সর্ম্পকে নিশ্চিত তথ্য নেই, সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ধারণা পাচার করা অর্থের পরিমান দেড় থেকে দুই লক্ষ কোটি টাকার কম হবেনা।
জানা যায়, মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থানকারি ও অবস্থানের জন্য আবেদনকারিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি, আমদানী-রফতানীকারক, সরকার দলীয় ও বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ আমলা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here