জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকিতে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ : গুতেরেস

নিউজ ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোকে কয়লা ব্যবহার পরিহারের আহŸান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুঁতেরা। শনিবার ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহŸান জানান। বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এই অঞ্চল। এই সংকট মোকাবিলায় এই অঞ্চলকেই সবার আগে থাকতে হবে।  এ খবর দিয়েছে বিবিসি। গত সপ্তাহে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন টেনে গুঁতেরা বলেন, বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের মধ্যে অনেক দেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস হচ্ছে কয়লা। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে নিউ জার্সি ভিত্তিক বেসরকারি সংগঠন ক্লাইমেট কনট্রোলের এক গবেষণা প্রতিবেদনা বলা হয়, ২০৫০ সালের প্রতিনিয়ত বন্যার শিকার হবে বিশ্বের ৩০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এশীয় দেশগুলো। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ব্যাংকক, মুম্বাই, কলকাতা, সাংহাই  ও বাংলাদেশের উপক‚লীয় অঞ্চলসহ অন্যান্য শহর।  কেবল বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।
গুঁতেরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক সংকট। গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ঝুঁকির যথাযথতা নিয়ে বিতর্ক করা যায়। তবে এটা সত্য যে, বর্তমানে জলবায়ু সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে এশীয়ার অবস্থা খুবই স্পর্শকাতর। এই অঞ্চলটিতে বেশকিছু কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আরো উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।  জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করতে হবে। নতুন কয়লা-চালিত বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে।ক্লাইমেট সেন্ট্রালের প্রতিবেদন অনুসার, বিদ্যমান হারে জলবায়ু পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে ৩০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে ২৩ কোটি ৭০ লাখই হবে এশীয়। ২১০০ সালের মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে যাবে ৬৩ কোটি মানুষের বসতবাড়ি। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশগুলোতে যথাক্রমে বিধ্বংসী বন্যার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ৯ কোটি ৩০ লাখ, ৩ কোটি ৬০ লাখ, ৪ কোটি ২০ লাখ, ৩ কোটি ১০ লাখ, ২ কোটি ৩০ লাখ ও ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here