বৈদেশিক ঋণের সুদের হার বেড়েছে

0
14

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরনের ফলে এতদিন প্রাপ্ত বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদেশি ঋণের সুদের হার বেড়েছে, কনসেশনাল ঋণ সুবিধা দিচ্ছেনা উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও দাতা সংস্থাগুলো। তারা এখন আর অনমনীয় ঋণ দিচ্ছেনা। বাংলাদেশের প্রদত্ত ঋণ হবে অনমনীয়। এমনি পরিস্থিতিতে বৈদেশিক ঋণ আহরনের গতি উদ্বেগজনক হারে কমেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি ও নিশ্চিত প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে রয়েছে। এরমধ্যে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা পাইপ লাইনে রয়েছে। পাইপ লাইনের অর্থের জন্য বাংলাদেশকে বর্ধিত হারে সুদে দিতে হবে। নিশ্চিত প্রতিশ্রুত ও প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বর্ধিত হার প্রযোজ্য হবে। সকল ঋণই হবে অনমনীয়। এশীয় উন্নয়ন বিশ্ব ব্যাংক, জাইকাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী শুন্য দশমিক দুই থেকে শুন্য দশমিক সাত সতাংশ এবং সর্বোচ্চ দুই শতাংশ হারে সুদ নিয়ে আসছিল। এখন এই সুদের হার হবে দুই শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উৎস হতে প্রাপ্ত ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারনে এ ঋণসমূহ অনমনীয় হয়ে যাচ্ছে। এ কারনে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার সাথে ঋণচুক্তি করার পূর্বে অনমনীয় ঋণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এতে করে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া প্রলম্বিত হচ্ছে। বৈদেশিক ঋণ আহরনের গতিও শ্লথ করে দিচ্ছে।
জানা যায়, দি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট (ওইসিডি) এর মডেল অনুযায়ী গ্রান্ট ইলিমেন্টের ৩৫ শতাংশের কম হলে তা অনমনীয় ঋণ হিসেবে গন্য হয়। বর্তমানে দেশে বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী গ্রান্ট ইলিমেন্টের মান ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের আপত্তি রয়েছে। অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ না তার কম গ্রান্ট ইলিমেন্ট থাকলে সেই অনমনীয় হিসেবে গন্য হবে। সেক্ষেত্রে ঋণ গ্রহিতার দায় অনেক বেড়ে যায়। এ ব্যবস্থায় বিদেশি ঋণের বিপরীতে সরকারের ৩৫ শতাংশ হারে বিনিয়োগ থাকতে হবে। জমির মূল্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে সরকারি অংশ হিসেবে গন্য হবে। এছাড়াও সরকারি আর্থিক বিনিয়োগের পরিমানও বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় বিদেশি ঋণ সংগ্রহ কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুদহার বেড়ে যাওয়া এবং প্রায় সকল বিদেশি ঋণই অনমনীয় হওয়ার ফলে ঋণ আহরন আগের মতো সহজ হবেনা। এতে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে, গতি হ্রাস পেতে পারে। সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছরই মোটা অঙ্কের অর্থ বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদই ব্যয় হয়ে যাবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here