জাহাজ বন্ধ, সেন্টমার্টিনে আটকা দেড় হাজার পর্যটক

0
12

কক্সবাজার প্রতিনিধি :  বেড়াতে এসে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আটকে পড়েছেন দেড় হাজারের মতো পর্যটক। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র কারণে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা সেখানে আটকা পড়েন। যারা শুক্রবার সেন্টমার্টিন যেতে চেয়েছিলেন, তারাও বিপাকে পড়েছেন। এক হাজারের বেশি পর্যটক টেকনাফ ঘাট থেকে ফিরে গেছেন। পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল অবস্থান করছে। এ কারণে কক্সবাজার সমুদ্র উপক‚লে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক। দুর্ঘটনা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের সমন্বয় কর্মকর্তা । তিনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া কারণে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রুটে সাতটি জাহাজ চলাচল করছিল। দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে রয়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের নৌযানকে দ্রæত নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ পর্যটকবাহী জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে আড়াই হাজারের মতো পযর্টক সেন্টমার্টিন বেড়াতে যান। প্রায় এক হাজারের মতো পর্যটক রাতে দ্বীপে অবস্থান করেন। এর আগের কয়েকদিন যাওয়া আরও পাঁচ শতাধিক পযর্টক দ্বীপে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পযর্টকেরা এসে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে ভিড় করেন। তবে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এক হাজারের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে চলে যান। আবার অনেকে টেকনাফের হোটেলে অবস্থান করছেন।সেন্টমার্টিনে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ। টেকনাফের আবাসিক হোটেল মিলকী রির্সোটের ম্যানেজার বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকরা আমার হোটেলে রুমের জন্য ভিড় করছেন। চাহিদা অনুযায়ী অনেককে রুম দিতে পারিনি। এখানে প্রায় সব হোটেল মোটেলের একই অবস্থা।’  এদিকে সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তার সঙ্গে ভ্রমণে আসা প্রায় শতাধিক পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। তবে তাদের টাকা সংকট রয়েছে।’  সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বলেন, ‘দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কোনও পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।’ সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন ছিল, ফলে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আয়োজন করছিল। আগামী রবিবার পর্যন্ত দ্বীপে হোটেল-মোটেল, জাহাজ ছাড়াও সেখানকার স্থানীয়দের অনেক ঘরবাড়ি বুকিং ছিল পর্যটকদের জন্য। কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় হোটেল মালিকসহ দ্বীপের ব্যবসায়ীদের দেড় কোটি টাকার মতো লোকসান হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here