মন্দির বানানোর পক্ষেই রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

0
29

নিউজ ডেস্ক: পরাধীন ভারতে আইনি লড়াইটা শুরু হয়েছিল। স্বাধীনতার প্রায় ৭২ বছর পরে শেষ হল। ভারতের অযোধ্যায় বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানে একটি মন্দির গড়ার জন্যই সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে রায় দিয়েছে। মন্দির গড়ার জন্য সরকারকে একটি ট্রাস্ট গঠন করতেও বলা হয়েছে। বিকল্প পাঁচ একর জমি পাবে মুসলিমদের পক্ষের ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গতকাল এই রায় দিয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় বলে আদালত সূত্রে খবর। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের  আইনজীবী জাফরাইব জিলানি বলেন, ‘‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানাই। তবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব।’’ তবে কাউকে কোনও প্রতিবাদ-প্রতিরোধের রাস্তায় না যাওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন জাফরাইব। অন্য দিকে হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বরুণ কুমার সিংহ বলেছেন, ‘‘এটা ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।’’
প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আব্দুল নাজির। রায় পড়ে শোনান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মূল বিতর্কিত জমি পাবে ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস’। এই জমিতে মন্দির তৈরিতে কোনও বাধা নেই। তবে কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। ওই ট্রাস্টের তত্ত¡াবধানেই থাকবে বিতর্কিত মূল জমি। কী ভাবে, কোন পদ্ধতিতে মন্দির তৈরি হবে, তারও পরিকল্পনা করবে ট্রাস্ট।  অন্য দিকে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। নির্দেশে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কোনও জায়গায় ওই জমির বন্দোবস্ত করতে হবে সরকারকে।  রায় ঘোষণার সময় বিচারপতিরা ভারতের প্রতœতত্ত¡ বিভাগের (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া) একটি রিপোর্টও উল্লেখ করেছেন, যাতে বলা হয়েছিল বাবরি মসজিদের নিচে একটি স্থাপনা ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে-তবে সেই কাঠামোটি ঠিক কীসের তা স্পষ্ট নয়। ভারতে ঐতিহাসিকরা মোটামুটি একমত যে, মুঘল আমলে বাবরের একজন সেনাপতি মীর বাঁকি ১৫২৮ সাল নাগাদ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে এ দেশের হিন্দু সমাজের একটা বড় অংশ বিশ্বাস করেন, তাদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থানের ওপরই ওই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। ভারতের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে বহু দশক ধরে সবচেয়ে বিতর্কিত ও রক্তক্ষয়ী ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছে এই বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি বিরোধ। শীর্ষ আদালতের মাধ্যমে সেই বিরোধের নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ গতকালএই রায় ঘোষণা করে। ভারতীয় পুরাতত্ত¡ সর্বেক্ষণের খননে অন্য কাঠামোর প্রমাণ মিলেছে। তবে সেই কাঠামো থেকে এমনও দাবি করা যায় না যে, সেগুলি মন্দিরেরই কাঠামো। আবার সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের দাবি খারিজ করে শীর্ষ আদালত বলেছে, শুধুমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনও অধিকার দাবি করা যায় না। জমির মালিকানা আইনি ভিত্তিতেই ঠিক করা উচিত।

অযোধ্যা রায়ের পর এক সুর সব পক্ষের
শান্তি বজায় রাখুন
দীর্ঘ ১৩৪ বছরের আইনি লড়াইয়ে ইতি। শনিবার অযোধ্যা বিতর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর মামলাকারী সব পক্ষ থেকে রাজনৈতিক  নেতা, এক সুরে সকলেই শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। ইতিহাসে প্রায় পাঁচটি শতাব্দী জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অযোধ্যা বিতর্ক। আর আইনি লড়াই ধরলে এই বিতর্কের বয়স দাঁড়ায় ১৩৪ বছর। পরাধীন দেশ থেকে স্বাধীন ভারত, দুই ঐতিহাসিক সীমানা ছুঁয়ে রয়েছে এই বিতর্ক। এ দিন সেই লড়াইতেই কার্যত ইতি টেনে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়। অযোধ্যা মামলার অন্যতম পক্ষ নির্মোহী আখড়া। শীর্ষ আদালতের রায়ের পর আখড়ার মুখপাত্র কার্তিক চোপড়া বলেন, ‘‘শেষ ১৫০ বছর ধরে আমরা যে লড়াই চালাচ্ছি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাতে নির্মোহী আখড়া কৃতজ্ঞ। কেন্দ্র সরকার শ্রী রাম জন্মস্থান মন্দির নির্মাণের জন্য যে ট্রাস্ট গঠন করবে তাতে নির্মোহী আখড়ার প্রতিনিধি থাকবে।’’
একই পথে হেঁটে হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বরুণ কুমার সিংহ বলেন, ‘‘এটা একটা ঐতিহাসিক রায়, এই রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা রয়েছে।’’ হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মুসলিমদের ৫ একর বিকল্প জমি দিতে বলেছে।’’
অন্যদিকে, এই রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরআইব জিলানি বলেন, ‘‘আমরা রায়কে সম্মান জানাই। কিন্তু, এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করব।’’  তবে এ নিয়ে তাঁরা যে কোনওরকম বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ করবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যতম মামলাকারী ইকবাল আনসারি বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত যে রায় দিয়েছে তাতে আমি খুশি। আমি শীর্ষ আদালতের এই রায়কে সম্মান জানাচ্ছি।’’
সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে রাজনৈতিক নেতা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সকলেরই এক সুর।  প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘‘এটা একটা ঐতিহাসিক রায়। জন সাধারণকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করছি।’’কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি বলেন, ‘‘প্রত্যেকের এই রায় মেনে নেওয়া উচিত এবং শান্তি বজায় রাখা উচিত। ’’বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের রায়কে প্রত্যেকের স্বাগত জানানো উচিত। সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই রায় উপযুক্ত। এর পরে এই ইস্যুতে আর বিতর্ক থাকা উচিত নয়। এটাই আমি প্রত্যেকের কাছে আবেদন করতে চাই।’

এই মামলার ৫০০ বছরের ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক: ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক এবং সামাজিক মামলার নিষ্পত্তি হলো। গতকালই অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত রায়দান করেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। ২৭ বছর আগে ধ্বংস হয়েছিল অযোধ্যার বাবরি মসজিদ। তবে বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্ক, গন্ডগোল যাই বলা হোক না কেন সবই কিন্তু নয়ের দশকে শুরু হয়নি। বিবাদের সূত্রপাত আরও আগে। সিপাহী বিদ্রোহের চারবছর আগে বাবরি মসজিদ নিয়ে প্রথম বিবাদের কথা উল্লেখিত রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। হিসাবমতো অযোধ্যা বিতর্ক ৫০০ বছরের পুরনো। বিতর্কিত ভূখÐের দখল নিয়ে হিন্দু-মুসলিম স¤প্রদায়ের আইনি বিবাদ ১৩৪ বছর ধরে চলছে।
১) ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় নির্মিত হয় বাবরি মসজিদ। তাঁর নামেই এই মসজিদের নামকরণ হয়। যদিও হিন্দুদের দাবি ছিল, এটিই রাম জন্মভূমি এবং এখানে ভগবান রামের মন্দিরও ছিল। ২) ১৮৫৩ সালে সিপাই বিদ্রোহের চার বছর আগে প্রথম ধর্মীয় বিবাদের সূত্রপাত হয় এই মসজিদকে কেন্দ্র করে।
৩) ধর্মীয় বিবাদ আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় ছ’বছর পর ব্রিটিশ সরকার বিতর্কিত কাঠামোর চারপাশ ঘিরে দেয়। ভিতরের অংশে মুসলিম স¤প্রদায় এবং বাইরের অংশে হিন্দু স¤প্রদায়ের প্রবেশাধিকার করে দেওয়া হয়। প্রায় নব্বই বছর এইভাবেই ছিল সবকিছু।
৪) ১৮৮৫ সালে বিতর্কিত স্থানে মন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়ে ফৈজাবাদ জেলা আদালতে প্রথম মামলা দায়ের করেন মোহন্ত রঘুবর দাস।
৪) স্বাধীনতার ২ বছর পর ১৯৪৯ সালে স্থাপত্যের ভিতরে রামের মূর্তি উদ্ধার হয়। মুসলিমরা অভিযোগ তোলে, স্থাপত্যের ভিতরে হিন্দুরা মূর্তি রেখে এসেছে। গোটা ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পÐিত জওহরলাল নেহেরু অত্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করেন। গোটা বিষয় নিয়ে দুই স¤প্রদায়ই আইনি মামলার পথে যায়। স্থাপত্যটিকে বিতর্কিত তকমা দিয়ে চিরতরের জন্য বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
৫) ১৯৮৪ সালে বাবরির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সংযোজিত হয়। জাতীয় কংগ্রেসের পর এক নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হয়। ভারতীয় জনতা পার্টি। তার সঙ্গে গোটা দেশে মাথাচাড়া দেয় হিন্দুত্ববাদ। ভগবান রামের জন্মভূমিকে অশুভ শক্তি থেকে ‘মুক্ত’ করার ডাক দিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে গঠিত হয় রাম মন্দির কমিটি। তার পুরোধা করা হয় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানীকে।
৬) ঠিক দু’বছর পর জেলা আদালতের বিচারক আচমকাই নির্দেশ দেন, হিন্দুদের পুজো-অর্চনার জন্য বিতর্কিত কাঠামোর গেট খুলে দেওয়া হোক। নির্দেশের ঘন্টাখানেকের মধ্যে গেট খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুসলিম স¤প্রদায়ের মানুষরা বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি গঠন করে ফেলেন।
৭) তিন বছর পর ১৯৮৯ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এক অভিযান শুরু করে। বিতর্কিত কাঠামো লাগোয়া জমিতে রাম মন্দির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এই অভিযানের মধ্য দিয়ে।
৮) পরের বছর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য-সমর্থকরা বিতর্কিত কাঠামোর উপর রাম মন্দির নির্মাণ করতে যাওয়ায় গম্বুজের আংশিক ক্ষতি হয়। এরপরই উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব করসেবকদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দেন। রাম মন্দির নির্মাণের সমর্থনে আডবানী দেশ জুড়ে রথযাত্রা বের করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর গোটা ঘটনায় মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও তা বিফলে যায়।
৯) এক বছর পরই সবাইকে চমকে দিয়ে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। কেন্দ্রে যথারীতি কংগ্রেস।
১০) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২। ভারতের ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ভিএইচপি, বিজেপি এবং শিব সেনার সমর্থকরা চড়াও হয়ে গুঁড়িয়ে দেয় বাবরি মসজিদের বিতর্কিত কাঠামো। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা। প্রায় দু’হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ যায় এই দাঙ্গায়।
১১) ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপির জোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী হন অটল বিহারী বাজপেয়ী।
১২) চার বছর পর বাজপেয়ী নিজের অফিসে একটি অযোধ্যা সেল গঠন করেন।
১৩) ওই বছরই মার্চ মাসের মধ্যে মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার চ্যালেঞ্জ নেয় ভিএইচপি। ফেব্রæয়ারির ২৭ তারিখ অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় গুজরাতের গোধরার কাছে সবরমতী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাÐে মৃত্যু হয় ৫৮ জন করসেবকের। তিনদিনের মধ্যে গোধরাকে কেন্দ্র করে দুই স¤প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা বাধে। বহু মানুষের মৃত্যু হয় তাতে।
১৪) এপ্রিল মাসে বিতর্কিত কাঠামোয় অধিকার কোন স¤প্রংদায়ের, সেই মর্মে এলাহাবাদ হাই কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হয়।
১৫) আদৌ বিতর্কিত কাঠামোর মধ্যে রাম মন্দির ছিল কি না তা জানার জন্য পরের বছর জানুয়ারি মাসে আদালত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে সার্ভে করার দায়িত্ব দেয়।
১৬) ২০০৩ সালের আগস্ট মাসে এএসআই রিপোর্টে জানায়, মসজিদের নিচে রাম মন্দির থাকার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। এই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে মুসলিম ল’ বোর্ড।
১৭) দু’বছর পর নির্মীয়মাণ রাম মন্দিরের সাইটে জিপবোঝাই বিস্ফোরক-সহ হামলা চালায় বেশ কিছু ইসলামিক জঙ্গি। সেনা প্রত্যেককে নিকেশ করে দেয়।
১৮) ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাস। আরও এক অধ্যায় সংযোজিত হল অযোধ্যার ইতিহাসে। এলাহাবাদ হাই কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায় দেয়। বিতর্কিত কাঠামোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এক ভাগ পায় উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এবং বাকি দুই ভাগ দেওয়া হয় নির্মোহী আখাড়া এবং রাম লালা কমিটিকে। কাঠামোর কর্তৃত্ব যায় হিন্দুদের দখলে। মুসলিমদের হয়ে এক আইনজীবী এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানান। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
১৯) পরের বছর মে মাসে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধানে পৌঁছনো যাযনি এই ইস্যুতে। তাই বিতর্কিত কাঠামো এখনও বন্ধই পড়ে রয়েছে।
২০) ২০১৭ সালের ২১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহের নির্দেশ দেন, আদালতের বাইরে অযোধ্যা বিতর্কের মীমাংসা করে নিতে।
২১) ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট মামলার জন্য তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করা হয়।
২২) ওই বছরই ৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং এন আবদুল নাজিরের বেঞ্চে ফের নতুন করে শুরু হয় অযোধ্যা মামলা।
২৩) ২০১৯ সালের ৮ মার্চ বিচারপতি এফ এম কলিফুল্লা, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশংকর এবং আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে তিন সদস্যের মধ্যস্থাকারী প্যানেল তৈরি করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই বছরই ২ আগস্ট মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রধান বিচারপতি তখন জানান, ৬ আগস্ট থেকে রোজ শুনানি হবে অযোধ্যা মামলার।
২৪) টানা ৪০ দিন ম্যারাথন শুনানির পর মামলার রায়দান স্থগিত রাখা হয়। এবং ঘোষণা করা হয় ১৭ নভেম্বরের মধ্যে হবে রায়দান।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here