প্রচন্ড গতিতে বুলবুলের আঘাত

0
16

নিউজ ডেস্ক: প্রবল সাইক্লোন ‘বুলবুলের’ কারণে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে প্রবল জলোচ্ছ¡াসের সঙ্গে শুরু হয়েছিল ঝোড়ো হাওয়া। হাওয়ার গতিবেগও প্রতিনিয়ত বেড়েছে। গতকাল থেকেই উপকুলের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।  বুলবুল নিয়ে ব্যাপক সর্তকতা উপকুল জুড়েই। শুক্রবার রাত থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল প্রশাসন। গতকাল সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। পরের দিকে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাতাসের গতিবেগও। সমুদ্র উপক‚ল এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে জলোচ্ছ¡াস। তার সঙ্গে এক নাগাড়ে বৃষ্টি। সকাল ছয়টা নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করেছে। গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ এই ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের সুন্দরবনের নিকট দিয়ে খুলনা উপক‚ল অতিক্রম করেছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৩০ কিলোমিটার ছিল, যেটি ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। উপক‚লীয় জেলা ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরায় দ্বীপ এবং চরসমূহ ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় ছিল। এছাড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, ল²ীপুর, চাঁদপুরের দ্বীপ এবং চরসমূহের জন্য ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি ছিল। সমুদ্র বন্দরগুলোতে পণ্য উঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ স্বাভাবিকের চেয়ে আরো পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে দিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপক‚লীয় এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কলাপাড়ার আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাবনাবাদ নদের জোয়ারের পানিতে সাগর পাড়ের বানাতিপাড়া, চাড়িপাড়া, নয়াকাটা, চৌধুরীপাড়া, নাওয়াপাড়া, ছোট পাঁচ নম্বর, বড় পাঁচ নম্বর ও মুন্সীপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লালুয়া ইউনিয়নের ৪৭/৫ নম্বর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ বহুদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে। যার কারণে ভাঙন কবলিত অংশ দিয়ে রাবনাবাদ নদের পানি ঢুকে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। ৮টি গ্রামের কমপক্ষে ৮-১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কলাপাড়া উপজেলায় দুর্গত মানুষকে আশ্রয় দিতে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯০০-১২০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এদিকে দুপুর একটা পর্যন্ত ১০ হাজার লোক উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বলে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান জানান।
গতকাল বিকেল ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক আয়েশা খাতুন সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেও বুলবুলের কারণে সবচেয়ে ক্ষতি বাংলাদেশেই হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সআয়েশা খাতুন জানান, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ল²ীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিসহ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here