শরণাথী শিবিরগুলোতে সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

0
13

কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণাথী শিবিরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিবিরগুলোতে কোনো ধরনের সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয় কেন্দ্র নেই বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।
শনিবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপক‚লে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে আছেন উখিয়া-টেকনাফে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গারা। তবে এ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।কক্সবাজারের টেকনাফের জাদিমোরা শালবাগান, লেদা, নয়াপাড়া ও জাদিমোরা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দুই-এক স্থানে ১/২টি সতর্ক সংকেত পতাকা উঠানো হয়েছে। এর বাহিরে আর কোনো কিছুই চোখে পড়েনি। তবে রোহিঙ্গারা এ ঘূণিঝড় নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। কারণ, তাদের অধিকাংশ বসতঘর ত্রিপল, বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরী। বাতাস ছুঁটলে এসব ঘর উড়ে যাবে বলে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।টেকনাফ শালবাগান ক্যাম্পের রমিজা খাতুন বলেন, ঘূর্ণিঝড় হলে খাবার পানি নিয়ে বিপাকে পড়তে পারি। তাই কলসী ও জারিকেন নিয়ে পানি সংগ্রহ করে রাখছি। একই শিবিরে আলী ও শুক্কুর বলেন, ঝড়-তুফানের হলে আমাদের খুবই ভয় লাগে। বাতাসের শুরুতে ত্রিপল ছিঁড়ে যায়। পরিবার নিয়ে খুবই শঙ্কায় থাকি। এখানে হাজার হাজার মানুষের বসবাস করলেও কোনো ধরনের সাইক্লোন শেল্টার নেই।লেদা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আলম ও জাদিমুরা ক্যাম্পের ছৈয়দুল আমিন বলেন, ঘূণিঝড় আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় মাইকিং করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ ঘরগুলো ঝুপড়ি হওয়ায় পাশাপাশি আশ্রয় নেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা শিবিরে কোনো ধরনের সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শিবিরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রেডক্রস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দমকল বাহিনীসহ এনজিও সংস্থার কর্মীসহ রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয় শিবির না থাকলেও আশেপাশের স্কুল-কলেজ ও মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সরানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাদের সেখানে নেওয়া হবে। তারপর জন্য ক্যাম্প এলাকার রাস্তাঘাটগুলো সচল রাখা হয়েছে। এছাড়াও সেনা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here