জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনও ভূমিকা নেই। কিন্তু এর প্রভাবে আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। একদিন আগেই আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই এবং এটাকে মোকাবিলাও করতে হবে। আমরা সেটা করবোও। দুর্যোগকালীন কী কী পদক্ষেপ নিতে হয়, তা আমরা জানি।’ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের শান্তি নিরাপত্তায় কৌশলগত নীতি প্রণয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার ‘ঢাকা গেøাবাল ডায়ালগ ২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। সেমিনারে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মধ্যে কীভাবে যোগসূত্র স্থাপন করে বাংলাদেশসহ অন্যান্য সমমনা দেশগুলো তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পথযাত্রা নির্ধারণ করতে পারে, সেটি নিয়ে আলোচনা হবে। এতে প্রায় ৫০টি দেশের মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, ক‚টনীতিক, আমলা, একাডেমিশিয়ান, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাসহ প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। সেই অর্থ দিয়েই দুর্যোগ মোকাবিলায় যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৯৪ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। সবার ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। সাগর ও মহাসাগরের গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নানা কারণে সাগর ও মহাসাগর গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগরের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট রয়েছে, যা দিয়ে পণ্য, তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এ অঞ্চলের ৮০ শতাংশ তেল বাণিজ্য হয় এ রুট দিয়ে। সাগর ও মহাসাগর বিপুল পরিমাণ মৎস্য ও খনিজ সম্পদের ভান্ডার। এই সম্পদ দেশের উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। ভূমি থেকে আমরা যে সম্পদ পাই সমপরিমাণ সম্পদ সমুদ্রসীমার মধ্য থেকে আহরণ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যেন মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ আহরণ করা না হয়। সেটা আবার সাগর ও মহাসাগরের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও বলেন, ভারত মহাসাগরের তীরে ৪০টি স্বল্পোন্নত দেশ এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশের বাস। আর বঙ্গোপসাগরের তীরে এশিয়ার ছয়টি দেশের অবস্থান। সাগর ও মহাসাগর দ্বারা এসব মানুষের অথনৈতিক জীবন নানাভাবে প্রভাবিত হয়। এই দেশগুলোর অথনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সাগর ও মহাসাগরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের সব সাগর ও মহাসাগর নানা সমস্যায় আক্রান্ত, যা পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। কারোর একার পক্ষে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটা সমাধান করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে সব থেকে বড় শত্রæ হচ্ছে দারিদ্র্য। আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করতে পারলে এটা মোকাবিলা করা যাবে। সমুদ্র তীরবর্তী দেশ হিসেবে এদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্রের ভূমিকা ব্যাপক। আমরা দেশের অথনৈতিক উন্নয়নেও কাজ করে যাচ্ছি।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় এটা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। আমরা এই নীতি নিয়ে কাজ করছি। মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এটা নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে ঝগড়া করছি না। বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মিয়ানমারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই সমস্যার আশু সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এটা আমাদের দেশের জন্য হুমকিজনক। বিশ্ব স¤প্রদায়কে এই সমস্যার গুরুত্ব বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার আহŸান জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী থাকলে সমস্যা থাকবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব। আমরা ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় করেছি। এটা বিশ্বের একটি উদাহরণ। শান্তি স্থিতিশীলতা বজায় রাখলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় থাকে। এতে সবচেয়ে উপকৃত হবে এই অঞ্চলের মানুষগুলো। মানুষের কল্যাণে সবাই মিলে কাজ করবো।’ সবশেষে নিয়মিত ঢাকা ডায়ালগের আয়োজন হোক এই আশাবাদ ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here