পায়রা সেতু পুণ: নির্ধারিত সময়েও শেষ হচ্ছেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্ধারিত সময়ের দু’ বছর পরও পায়রা (লেবুখালি) সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুই হলোনা। ২০২২ এর ৩০শে জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার পুন:নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
পায়রা সমুদ্র বন্দর ও দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষন কেন্দ্র কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানের সহজতর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য পায়রা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের ২৬ কিলোমিটারে লেবুখালি নামক স্থানে পায়রা নদীর উপর ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মানের প্রকল্প নেয়া হয় ২০১২ সালে। কথা ছিল তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। কিন্তু ২০১৫ পেরিয়ে পাঁচ বছর পরও বাস্তব নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ের কাজেই বড় ধরনের ক্রুটি ধরা পড়ে।
জানা যায় পায়রা সেতু হবে চার লেনের। পটুয়াখালী প্রান্তে ৬শ ৫৮ মিটার ও বরিশাল প্রান্তে সেতু হবে ৬১০ মিটার। তীর রক্ষার কাজ ১ হাজার ৪৭৫ মিটার। দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ মিটার ও প্রস্তে হবে ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। কম্পিউটারাইজড টোল প্লাজা, ওয়েব্রিজ, সেতুর আলোকসজ্বা হবে। মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। সেতুর ভিত্তির ক্রুটিপূর্ণ নকশা নির্মাণ কাজ পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ। এই নকশা পরিবর্তন নদীর তীর রক্ষা কাজের ধরণ পরিবর্তণ করা জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয়। সংযোগ সড়কের ওয়েব্রিজ নির্মাণ ও নদীর তীর রক্ষার শেষ প্রান্তে অতিরিক্ত ভ‚মি অধিগ্রহনের জন্য দীর্ঘ সময় লেগে যায় অথচ মূল পরিকল্পনাই এ বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত থাকা বাঞ্চনীয় ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় ডিপিপি সংশোধন করতে হয়। এতে নির্মাণ ব্যয় ৪শ কোটি টাকা বেড়ে যায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প সাহায্য আকারে কে এফ আইডি এবং এফ আইডি দিচ্ছে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। বাকী অর্থের যোগান দিচ্ছে সরকার। সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পাদনের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। মুল ডিজাইন সংশোধন করে নতুন ডিজাইনসহ প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে সময় লাগায় নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here