ভারতে ১০ লক্ষ মে.টন এলপিজি রফতানি করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়সহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে দশ লক্ষ মে.টন তরলিকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রফতানীর অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের দুটি কোম্পানি। কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এই গ্যাস আমদানী করে সড়ক পথে ভারতে সরবরাহ করা হবে। ক্রয়মূল্যের উপর দশ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করবে বাংলাদেশ। চার বছরের মধ্যে এই রাজ্যগুলোর এলপিজির পুরো চাহিদাই বাংলাদেশের আমদানীকারকরা মেটাবে। বছরে তাদের মোট চাহিদার পরিমান হবে ৪০-৫০ লাখ মে.টন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায় যে, আমদানীকৃত এলপিজি ভারতে পুন: রফতানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুটি এলপিজি আমদানীকারক কোম্পানিকে অনুমতি দিয়েছে। কোম্পানি দুটি হচ্ছে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধিন ব্যাক্সিমকো এলপিজি ও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, ব্যাংকার আজম জে, চৌধুরীর মালিকানাধীন ওমেরা এলপিজি। সালমান এফ রহমান এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে থাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও নেপথ্যে তিনিই নিয়ন্ত্রক। অপরদিকে আজম জে, চৌধুরী বিএনপির ঘরানার ব্যবসায়ী এবং জোট সরকারের সময় বিপুল অঙ্কের ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। বাণিজ্যিক কারনেই বর্তমান সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্কও উন্নত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এলপিজি গ্যাস রফতানির জন্য স্থানীয় বিশটি কোম্পানি আবেদন করেছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ উল্লেখিত দুই কোম্পানিকেই বেছে নিয়েছে। তাদের অনাপত্তির প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এদেরকে রফতানির অনুমতি দিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এদেরকে পাঁচ লাখ মে. টন করে মোট দশ লাখ মে.টন এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানী ও তা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সরাসরি রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ বর্তমানে আঠারটি কোম্পানির মাধ্যমে এলপিজি ও এনএলজি গ্যাস আমদানী করছে। এরমধ্যে সাত লাখ মে.টন এলপিজি। এলপিজি জাহাজযোগে বন্দর থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বোতলজাতকরণ প্লান্টে নেয়া হয়। বোতলজাতকরনের পর বিশেষ ধরনের ট্রাকে করে ভারতে নেয়া হবে। চট্টগ্রাম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আশুগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাবে। ২ হাজার ২শ কিলোমিটার পথ ঘুরে পরিবহন করতে হয় বলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পন্য পরিবহনে ব্যয় পড়ে অস্বাভাবিকরকম অধিক। বাংলাদেশ থেকে নেয়ার সুবিধা পাওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় বহুগুনে কমে আসবে। স্থানীয়ভাবে ৫৬টি বেসরকারি কোম্পানি এলপিজি, এনএলজি আমদানী ও বোতলজাতকরণের অনুমতি পেয়েছে। কিন্তু ৩২টি কোম্পানি এখনও বোতল উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারেনি। সবগুলো কোম্পানিই ভারতে গ্যাস রফতানির সুযোগ চাচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যেই ভারতে ২০-২৫ লাখ মে.টন এলপিজি সরবরাহ করা হবে। সড়ক, মহাসড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ শেষ করার পর ভারতে গ্যাস রফতানির পরিমানও বেড়ে যাবে। এই রফতানির পরিমান ৪০-৫০ লক্ষ মে.টনও হতে পারে বছরে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীন চাহিদা থাকায় স্থানীয়ভাবে বোতলজাত গ্যাস বিক্রির পরিমান বর্তমান ৭ লাখ মে.টন থেকে বেড়ে ২৫ লাখ মে.টন হবে বলে মন্ত্রণালয় মনে করেন।
এ দিকে ভারতে রফতানির ফলে বাংলাদেশ দশ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করবে। ক্রেতাদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় এ বাবদ অর্থ আদায় করা হবে। এটাই বাংলাদেশের আর্থিক লাভ। উল্লেখযোগ্য  সংখ্যক কর্মীরও কাজের সংস্থান হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here