ব্যয় বেড়েছে ২৫৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর পাঁচ থেকে ছয়ফুট নিচে চলে গেছে। ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকারই ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট কোন কোন স্থানে চারফুট পর্যন্ত নিচে নেমেছে। ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুর এলাকায় পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবণতি হয়েছে। পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে চলে যাওয়ায় মিরপুর, পুরোনো ঢাকাসহ শহরের বিভিন্নস্থানে পানির সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছেনা। শহরের অনেক স্থানে পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। সরবরাহ করা পানিও জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের খাবার পানির সংকট দূর করতে কোরিয়ার অর্থায়নে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। সাভার উপজেলার তেতুলঝরা ভার্কুতা এলাকা হতে দৈনিক ১৫ কোটি লিটার নদীর পানি উত্তোলনের জন্য নেয়া এ প্রকল্পের ব্যয় পুন:নির্ধারিত হয় ৫৭৩ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের জন্য প্রকল্প ব্যয় ২৫৯ কোটি টাকা বেড়েছে। এজন্য তেতুলঝরা- ভার্কুতা ওয়েলফিল্ড নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয় ২০১২ সালে। শেষ হওয়ার কথা ২০১৭ সালে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় আরো একুশ মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কোরিয়ার হানকুম ইঞ্জিনিয়ারিং নামক একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পের আওতায় কাজ রয়েছে ৪২ কিলোমিটার ওয়াটার ট্রান্সমিশন লাইন, দুটি আয়রন অপসারণ প্ল্যান্ট, একটি ভুগর্ভস্থ জলাধার, একটি উপরিস্থিত জলাধার নির্মাণ ও ৪৬টি উৎপাদনযোগ্য কুপ খনন করা হবে। মিরপুর এলাকার ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর উদ্বেগজনকভাবে নেমে যাওয়ায় এখানে ভ‚গর্ভের পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছেনা। এ এলাকার ভ‚গর্ভস্থ পানিও আর্সেনিকযুক্ত। এ অবস্থায় ভ‚গর্ভস্থ পানি উত্তোলন না করে নদী থেকে ওয়াটার ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে পানি টেনে তেতুলঝরা-ভার্কুতায় ভ‚গর্ভস্থ জলাধারে রাখা হবে। পানি আর্সেনিকমুক্ত করে সরবরাহ করা হবে।
জানা যায়, ভুমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ও বহুগুনে বেড়েছে। মুল প্রকল্প ব্যয় নির্ধারিত হয় ৩১৪ কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ কোটি টাকা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here