অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শেখ হাসিনা : আতঙ্কে পদাধিকারি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২১-২২শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অনেকেরই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণী কাউন্সিলে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ১৮ থেকে ২০ জন পদপদবী হারাবেন। সমসংখ্যক, তারও অধিকসংখ্যক তরুণ, যোগ্য নেতাকে নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করা হবে। আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাউন্সিলে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা, প্রশ্নহীন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব সামনে আনার মাধ্যমে দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। অন্যতম অঙ্গ সংগঠন আওয়ামী যুব লীগের কাউন্সিলে এর অধিকতর স্বচ্ছ ও স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাবে।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃস্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যে চমক দেখিয়েছেন দলের কাউন্সিলে নেতৃত্বে উজ্জ্বল ভাবমূর্তির, নিষ্ঠাবান, বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা নবীনদের আধিক্য হবে আরো, চমক সৃষ্টিকারী। নিজ নিজ ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সুখ্যাতি অর্জনকারী কয়েকজনকেও মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রখ্যাত ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজাকে আওয়ামী যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও দেখা যেতে পারে। কয়েকজন পেশাজীবী, খ্যাতিসম্পন্নকে পদাধিকারি করা হবে। দলের প্রভাবশালী কোন কোন সিনিয়র নেতাও কাউন্সিলে বাদ পড়তে পারেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিলেন না, সাংগঠনিক রাজনৈতিক কর্মকাÐে অনাগ্রহী ও বযসের ভাড়ে যারা ক্লান্ত তাদের নাম বাদের তালিকায় উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক ক্যাসিনো কাÐ ছাড়াও অনেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে, অনিয়ম, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ে নিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানির শিকার করা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এরা সংখ্যা স্বল্প হলেও তাদের অনৈতিক, অবৈধ কর্মকাÐের দায় বর্তেছে আওয়ামী লীগের উপর। দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরা এর সুযোগ নিয়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজেরা বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। কেন্দ্র থেকে নিয়ে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে অবৈধভাবে সুবিধাভোগী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, জমি দখলবাজ এবং বিএনপি, জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারীদের পৃথক পৃথক তালিকা করা হয়েছে। সাবেক ও বর্তমান এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রভাবশালী নেতা Ñ যারা বেআইনি কর্মকাÐে প্রভাব সৃষ্টি করে ফায়দা নিয়েছেন এমন প্রায় শতাধিক নেতার তালিকা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় পনের জনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। জেলা, উপজেলার শতাধিক নেতার নাম রয়েছে অবৈধ সুবিধাভোগী, অর্থ-বিত্ত সম্পদের মালিক হওয়ার। কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা কমিটিতে এদের স্থান দেয়া হবে না। অনুপ্রবেশকারীদের কোন স্তরেই রাখা হবে না।
দলের মধ্যে নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী অনেক নেতাই পিছনের সারিতে রয়ে গেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা, উপজেলা কমিটিতে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে, কর্মী ও জনসাধারণের প্রতি সহানুভ‚তিশীল, আদর্শনিষ্ঠাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে টেনে আনা হবে। শীর্ষস্থানীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সন্তানদের যোগ্যতা বিবেচনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদাধিকারী করার চিন্তাও রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোতে সৎ, নিষ্ঠাবান, কর্মী ও জনসাধারণের প্রতি দরিদ্রদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংগঠনের হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধার করা হবে। কেন্দ্রই নয়, জেলা উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়েও নতুনভাবে সংগঠন গড়ে তোলা হবে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দল থেকে সুবিধাভোগী, অসৎ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ লাভকারীদের বিদায় করার এবং দল বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধীকে গ্রেফতার, বিচারের মুখোমুখি করার যে সংস্কৃতি, যে প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শুরু করলেন দেশের ইতিহাসে তা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here