ওয়াসার ভুলের মাশুল দিচ্ছে সরকার ও নগরবাসী : বিদেশী পরামর্শকের পিছনেই ৪৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকার খাবার পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্দেশে পদ্মা (জললদিয়া) পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প চলতি ২০১৯ সালের জুনে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজে প্রত্যাশিত অগ্রগতি আনতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ লাঘব করতে সম্প্রতি কাজের আংশিক অগ্রগতি হয়েছে। তবে গোটা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসময় লেগে যাবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন সরকার ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ উদ্যোগে জি-টু-জি ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার এ প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার অবশিষ্ট অর্থের যোগান দিচ্ছে। ২০১৩ সালে নেয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শুরু থেকেই বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ওয়াসার ঢিলেমি পরিলক্ষিত হয়। কিছু প্রতিক‚লতাও দেখা দেয়। কিন্তু ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তা দ্রæত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়হীনতা বাস্তবায়ন কাজ বিলম্বিত করেছে। প্রকল্পের জন্য ভ‚মি অধিগ্রহণে সমস্যা নিরসনে তারা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিত আন্তরিক প্রয়াস নেয়নি। কয়েকজন জমির মালিক আদালতেরও আশ্রয় নেন। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় ওয়াসা কর্তপক্ষকে জমির মালিকদের সঙ্গে আপষরফায় আসার নির্দেশ দেয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রকল্পের রিসিভিং অয়েল নির্মাণেরও জমি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার নিরসন করতে পারেনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় জমির জটিলতা দূর হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতেই দুবছর লেগে যায়। বিভিন্ন অবকাঠামোর ডিজাইন নিয়ে ঠিকাদারের সাথে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের বিরোধ দেখা দেয়। চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স চীনা সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিঃ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ করছে। তারা ওয়াসার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মেসার্স গ্রæন্টামিজ এ এস নামক এক বিদেশী প্রতিষ্ঠান। এদের পিছনে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি টাকা। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরামর্শকের কর্মকাল আরো দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য তাদের পিছনে ব্যয় হবে আরো ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিদেশী পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্যই যাচ্ছে ৫৫ কোটি টাকার বেশি।
জানা যায়, ডিজাইন নিয়ে ঢাকা ওয়াসা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যে জটিলতার সম্মুখীন হয় বিদেশী পরামর্শকের হস্তক্ষেপেই তার নিরসন হয়। বিদেশীরা দেখিয়েছেন যে, ভুলটা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নয়, ঢাকা ওয়াসার। ওয়াসাও মন্ত্রণালয়ের কাছে স্বীকার করেছেন যে, এ ধরনের কাজে তাদের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণেই ভুল হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ভুল সিদ্ধান্ত এবং জটিলতা, সমস্যা নিরসনে আন্তরিক উদ্যোগ না থাকার ফলে বাস্তবায়ন কাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঋণদাতা চীনা এক্সিম ব্যাংক ও স্থানীয় সরকার বিভাগকেও জানিয়েছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চাপের মুখে ঢাকা ওয়াসা কাজ ত্বরান্বিত করছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here