গোলাপি ইতিহাসের সামনে ইডেন

নিউজ ডেস্ক: ১৯৩২-এ ইডেনে প্রথম টেস্টের বল গড়িয়েছিল। তা ইতিহাসে লেখাও আছে। এবার আবার এক ইতিহাস। গোলাপি বলে ভারতে প্রথম টেস্ট ম্যাচ। যা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে। সেই ইতিহাসের পাতায় থাকবেন অনেকেই। থাকবেন বাংলাদেেেশর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। থাকবেন পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ঐতিহাসিক ম্যাচে ক্রিকেটের সঙ্গে থাকছে নানা অনুষ্ঠান। রুনা লায়লা, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের গান। বাচ্চাদের ফান ক্রিকেট। রাহুল, লক্ষণদের ২০০১ টেস্ট ম্যাচের স্মৃতিচারণ। খেলার শেষে বিশিষ্টজনদের ভাষণও থাকছে। এমন দিনে শচীন কথা না বললে হয়। তাই শচীনের নোটবুকে এখনই তিনটি নাম উঠে এসেছে। তা হল- ইডেন, গোলাপি বল এবং সৌরভ। তিন, চার মিনিটের বেশি কথা বলার সুযোগ থাকবে না। খেলার শেষে টানা কথা শুনতে কার ভাল লাগে। শচীন তো এই তিনটি নাম নিয়ে অনেক কথাই বলে দিতে পারেন। তাঁর পক্ষে কঠিন হবে ভাষণ সংক্ষিপ্ত করা।
মুশকিলে পড়েছেন বোর্ড সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আজ সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতা যাচ্ছেন। তাঁকে ইডেনে আনতে সকালে এয়ারপোর্ট থাকবেন সৌরভ। এখানেই সব শেষ হয়ে গেলে কথা ছিল না। কিন্তু সকালে শহরে আসছেন শচীন তেÐুলকর। তাঁকেও নিয়ে আসার কথা সৌরভের। মাস্টার-বøাস্টার ক’টায় আসছেন? সেটা সিএবি জানাচ্ছে না। তা হলে! দু’য়ের মাঝে দাঁড়িয়ে স্বয়ং বোর্ড সভাপতি। ওঁরা আসছেন শুক্রবার দুপুর একটায় ইডেনে নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে।
এই ইডেনে কত স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছেন। হিরো কাপ শুরুতে আনলেও তালিকা ছোট হবে না। এরপর থাকবে বিশ্বকাপ, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। আরও কত ম্যাচ ও তাঁর ইনিংস। এরপর গোলাপি বল। গোলাপি বল নিয়ে ইতিমধ্যে ১১টি টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে। ১২ নম্বর টেস্টে লেখা থাকবে ইডেনের নাম। সৌরভের সঙ্গে গোলাপি বল নিয়ে তিনিও কি একমত? না, এ নিয়ে এখনই শেষ কথা বলতে পারছেন না শচীন। তাঁর ধারণা, আগে সব দেখে নিয়ে কথা বলা ভাল। এই ম্যাচ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা দেখে নিতে হবে। তারপর কথা বলা ভাল। আগের ১১টি টেস্ট এই বল নিয়ে নানা কথা শুনেছেন। মাঠে বসে সে সব দেখা হয়নি। ইডেনে প্রথমদিন হাজির থেকে সব দেখবেন।
দিনরাতের এই টেস্টে শুরুতে ব্যাটসম্যানরা কতটা চ্যালেঞ্জে পড়বে। সেই চ্যালেঞ্জ সামলে কেমন তাঁরা পারফর্ম করেন। টোয়ালাইটে বল কতটা ঝামেলায় ফেলে। এ সব দেখে নিজের কথা বলবেন। এবং সব শেষে সৌরভ। বর্তমান বোর্ড প্রেসিডেন্টকে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে শেষ করতে পারবেন না। অনুর্ধ্ব ১৫ থেকে তাঁদের দু’জনের একসঙ্গে পথ চলা শুরু। তারপর ক্রিকেট মাঠে ও মাঠের বাইরে কত কিছু ঘটেছে। এত কিছু বলাও সম্ভব নয়। সৌরভ নতুন দায়িত্ব নিয়ে দেশের মাঠে গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ শুরু করে দিলেন। এটাই বলবেন শচীন। তাই অনেক কিছু নিয়ে কথা বলার থাকলেও শচীনের নোটবুকে আপাতত তিনটি নাম। ইডেন, গোলাপি বল এবং সৌরভৃ।
গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ মানুষের মধ্যে কেমন সাড়া ফেলেছে, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। টিকিটের জন্য হাহাকার। টেস্ট শুরুর আগে চারদিনের টিকিট শেষ। এমন কবে হয়েছে? সৌরভ মনে করতে পারছেন না। একই অবস্থা বিরাটেরও। বৃহস্পতিবার সকালে ইডেনে পা দিয়ে অনুসিলনের আগে মিডিয়ার সামনে এলেন। বললেন, “ভাবতেই পারছি না দেশের মাঠে টেস্ট ম্যাচ নিয়ে মানুষ এভাবে ঝাঁপাচ্ছে। ওয়ান ডে বা টি টোয়েন্টিতে এ ছবি দেখেছি। কিন্তু টেস্টে সা¤প্রতিককালে টিকিট নিয়ে হাহাকার চোখে পড়েনি। মনে হচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে হারিয়ে দিয়েছে গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ।”
ভারত অধিনায়ক মাস খানেক আগেও গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ খেলতে রাজি ছিলেন না। সৌরভ বোর্ড সভাপতি হয়ে চেয়ারে বসার পর সব বদলেছে। তিনি রাজি করান বিরাটকে। আসলে কলকাতায় না এলে বিরাট গোলাপি বলের টেস্ট ম্যাচ নিয়ে মানুষের উত্তেজনা বুঝতে পারতেন না। বলছেন, “প্রায় ৭০ হাজার মানুষের সামনে খেলব। ইদানীং দেশের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে এমনটা হয় কোথায়? এখানে টিকিটের হাহাকার দেখে বুঝতে পারছি মাঠের চেহারা কেমন হবে। ভাল লাগছে, ঐতিহাসিক ম্যাচে আমরা খেলতে নামছি। এটা একটা ল্যান্ডমার্ক বলতে পারেন।”
শুরুতে এ সব বললেও বিরাটের মুখে অন্য কথাও শোনা যাচ্ছে। বলছেন, “গোলাপি বলে মেতে উঠে আমরা যেন লাল বলের ক্রিকেটকে ভুলে না যাই। ওটাই কিন্তু আসল ক্রিকেট। লাল বলে খেলতে আলাদা উত্তেজনা খুঁজে পাই। গোলাপি বল টেস্টের ভবিষ্যৎ, সেটা মানি না।” গোলাপি বল প্রথম খেলতে নামছেন বলে কি বিরাট কিছুটা ব্যাকফুটে? হতে পারে। যে কোনও জিনিস শুরু করার সময় নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।
পরে ঠিকও হয়ে যায়। ক’দিন আগে ক্রিকেটাররা বলছিলেন, এই বলে খেলতে অনেক ঝামেলা। বিরাট সেই কথার রেশ ধরে বললেন, ”ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা হবে না। মানিয়ে নিতে পারব। অসুবিধা ফিল্ডিং করার সময়। বুধবার বিকেলে ¯িøপ ক্যাচ নেওয়ার সময় মনে হল, আমরা হকি বল ধরছি। লাল বা সাদা বলের ক্ষেত্রে যা হয় না। আরও বেশি সমস্যা উঁচু ক্যাচ ধরার সময়। অন্য বলের থেকে বেশি গতিতে নিচে নেমে আসে গোলাপি বল। তাই লাইন ধরা কঠিন। তার উপর গ্যালারি ভর্তি মানুষের চিৎকারে ফোকাসে গরমিল হলে ক্যাচ হাতছাড়া। এটই সমস্যার। তবে এই বলে খেলা আমাদের সবার কাছে আলাদ চ্যালেঞ্জ। এখন অপেক্ষা, এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে আমরা নিচ্ছি।”
এবার সুবিধার কথাও শোনালেন ভারত অধিনায়ক। বলছিলেন, পেসাররা এই মাঠে ভাল পারফর্ম করবে। ওদের চার্জ করবে গ্যালারি ভরতি মানুষ। মাঠ ফাঁকা থাকলে কারই বা খেলতে ভাল লাগে। এখানে পুরো উলটো ছবি। তাই ওদের কথাই বললাম।” ভারতীয় দল গোলাপি বলের বিরোধী ছিল না। সময় চাইছিল। বিরাট বলছিলেন,“ বিদেশের মাঠে খেলার আগে দেশে খেলে নিতে চেয়েছিলাম। তারও আগে প্রাক্টিস পেলে ভাল হয়। কোনও সিরিজে দুটো টেস্টের পর গোলাপি টেস্ট রাখলে ভাল। মাথায় রাখতে হবে, তার আগে যেন একটা প্রাক্টিস ম্যাচ খেলতে পারি। এমন হলে সবারই সুবিধা।”

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here