সিটি নির্বাচন নিয়ে দুর্ভাবনায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কপালে ভাজ পড়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের গালভরা কথার বেলুন ফুটো হয়ে যাওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তাঁর সহযোগীরাও মুখে কুলুপ এটেছেন। কথাবার্তা বলছেন সতর্কতার সাথে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তারা কঠোরভাবে সতর্ক অতীতের সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি রোধে। কিন্তু সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েই কমিশন বিপাকে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের অভিপ্রায়ের কথা লিখিতভাবেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিল। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যার সুরাহা করা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বর্হিভ‚ত। কিন্তু চট্টগ্রামে ঢাকার মতো সমস্যা নেই। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকার দুই কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা করে জানুয়ারির শেষ দিকে নির্বাচন করিয়ে নিতে চায় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন চেয়েছিল তিন কর্পোরেশনের নির্বাচনই একই দিনে করতে। প্রয়োজনে নির্বাচনের তারিখ ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে নিয়ে একযোগে করার পক্ষে ছিল তারা। কিন্তু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন নিয়ে আইনগত জটিলতাসহ কোন ঝুঁকি নিতে চায়না নির্বাচন কমিশন। এদিকে ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। বিএনপিও ডিসেম্বরে কাউন্সিল করার কথা বলেছিল। কাউন্সিলকে পুঁজি করে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সময় পিছিয়ে নেয়ার পথ পেয়েছে। কিন্তু তারচেয়েও বড় সমস্যা হয়ে আসছে সম্ভাব্য আইনগত জটিলতা। সম্ভাব্য এ জটিলতার নিরসন না করে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন করে নিজেদেরকে যাতে আর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক কমিশন।
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ছয়ত্রিশটি নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারনের দাবি অনুযায়ী তাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই ওয়ার্ডগুলো কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্ত করেছে সরকার। এসব ওয়ার্ডে নির্বাচনও হয়েছে। নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত। মেয়াদ শেষ হতে তাদের আরো আড়াই বছর বাকী। এই আড়াই বছর অর্থাৎ মেয়াদ পূরণের পরই তাদের পদে নির্বাচন হতে পারে। এর আগে এ পদে নির্বাচনের আইনগত বৈধতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মেয়র পদে নির্বাচনসহ এই ৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করলে বর্তমান কাউন্সিলর ও তাদের পক্ষের লোকজন আদালতের শরনাপন্ন হবেন। এতে আদালত নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ দিতে পারেন এবং রায় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ঝুলে যেতে পারে। সম্ভাব্য এ অবস্থাটা সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে বলেই সরকারি মহল মনে করছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এ অবস্থার অবসানে বিদ্যমান আইনের সংশোধনী দরকার। এতে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত কোন সংস্থা বা কোন প্রতিনিধির মেয়াদ পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত সেই সংস্থা ভেঙ্গে দেয়া বা তার কোন প্রতিনিধির নির্বাচনের সুযোগ নেই। কর্পোরেশনের সমস্ত প্রতিনিধিরা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত কর্পোরেশন গঠনের ব্যবস্থাও নেই। মেয়র ও কাউন্সিলরদের নির্বাচনের সাথে পরবর্তীতে নির্বাচিত ৩৬ জন কাউন্সিলরদের একই সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য নতুন করে নির্বাচন করতে হলে আইনের সংশোধনী প্রয়োজন। এ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন সমস্যায় পড়েছেন। তারা অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন। হাইকোর্টের মতামত নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। সরকার ও সরকারি দল থেকে সংক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের মনোনয়ন দেয়াসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রæতি দিয়ে রীট করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনি অবস্থায় ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানে দুভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এ ধরনের সমস্যা না থাকায় তারা এ নির্বাচন মার্চের শেষের দিকে করিয়ে নেয়ার পক্ষে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী একশ আশি দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় সমস্যাটি সরকারের জন্যও দুর্ভাবনা হয়ে দেখা দিয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here