স্পেশাল আবাসিক জোন হবে শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষের জন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকাসহ দেশের সকল মহানগরের অদূরে স্পেশাল আবাসিক জোন গড়ে তোলা হবে। শ্রমজীবী কর্মজীবী দরিদ্র মানুষের আবাসিক ব্যবস্থা হবে এখানে।
জাতীয় নগরায়ন পলিসিতে এ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ পলিসি প্রণয়ন করেছে। রাজধানীসহ সকল মহানগর ও জেলা শহর থেকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও কল-কারখানা সরিয়ে নেয়ার এবং শহরাঞ্চলে নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার অনুমতি না দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। মহানগর ও জেলা শহরের বাইরে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক জোনসমূহ নতুন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে।
সরকারের এ পরিকল্পনা দরিদ্র, শ্রমজীবী, কর্মজীবী সীমিত আয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক হলেও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকারের বাস্তবায়নকারি সংস্থাগুলোর আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার উপর। প্রত্যেক সিটি কর্পোরেশন ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে নিজ নিজ নগর উন্নয়নে পৃথক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন এবং নিজস্ব বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে ধাপে ধাপে স্পেশাল আবাসিক জোন গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। এজন্য তাদেরকে কেন্দ্রীয়ভাবেও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসমূহ ও স্থানীয় জনসাধারনের আবাসনের জন্য পৃথক মাস্টারপ্ল্যান করতে বলা হয়েছে। আগামী দশ বছরের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
জানা যায়, জাতীয় নগরায়ন নীতিতে ঢাকাসহ প্রতিটি মহানগরে শ্রমজীবী কর্মজীবী দরিদ্র মানুষদের জন্য শহরের কাছাকাছি এলাকায় আবাসনের জন্য স্পেশাল জোন গড়ে তোলা হবে। রাজধানীর সন্নিকটস্থ সাভার, গাজিপুর, কেরানীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ এলাকায় এসব জোন স্থাপন করা হবে। ভোরে ঢাকা শহরে এসে কাজ শেষে সন্ধ্যার মধ্যেই যাতে ফিরে যেতে পারেন সেই চিন্তা থেকেই এব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজধানীর চারদিক ঘিরে সারকুলার ট্রেন সাবওয়ে, এমআরটি, গাজিপুর -ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে নিম্নমানের দরিদ্র শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষ কম খরচে স্বল্প সময়ে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এতে রাজধানীর জনস্রোত, যানজট, জনজট কমে আসবে।
ঢাকাসহ মহানগর, জেলা শহরগুলোতে জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কাজের আশায় গ্রামের মানুষ এখন শহরমুখী। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগর ও বিভিন্ন জেলা শহরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীসহ ছোট-মাঝারি শিল্প গড়ে উঠেছে। এতে দরিদ্র, শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পাশাপাশি মহানগর ও জেলা শহরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। স্পেশাল আবাসিক জোন গড়ে তোলার জন্য সরকার জমির ব্যবস্থা করে দেবে। ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বহুতল ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার তিনটি কোম্পানি এতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here