‘খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে খাদ্য অপচয় রোধে সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে একদিকে যখন প্রায় ৪ কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় কিলোক্যালরী সম্পন্ন গ্রহণ করতে পারছে না, অপরদিকে তখন দেশে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার খাদ্য অপচয় হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনের সাথে জড়িতদের শ্রম, সময় ও উপকরণ যোগ দিলে সেই অপচয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। সুতরাং দেশের সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য অপচয় রোধে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক নাগরিক মতবিনিময় সভার বক্তাগণ।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বিসেফ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম ও হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড যৌথভাবে ২ ডিসেম্বর, সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর কনফারেন্স রুমে এই মতবিনিময় সভাটি আয়োজন করে। সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আবদুর রৌফ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মনসুর আলম খান, বিসেফ ফাউন্ডেশন এর সদস্য ও বিটিভি’র মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক ও বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বণিক বার্তা’র সিনিয়র রিপোর্টার সাঈদ শাহিন। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও বিসেফ ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মিটন। পঠিত প্রবন্ধের উপর বক্তব্য রাখেন বিসেফ ফাউন্ডেশন এর সহ-সভাপতি ড. সৈয়দ মনোয়ার হোসেন, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবির, সার্ক কৃষি কেন্দ্র এর পরিচালক ড. ইউনূস আলী, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর পরিচালক ড. আজিজ জিলানী চৌধুরী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও গবেষক ড. তাজুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষিকে লাভজনক করার জন্য সরকারের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে তা অর্জন করতে হলে নতুন ধরণের দৃষ্টিভঙ্গী ও কর্মসূচী প্রয়োজন। পুরনো অভ্যাস এবং প্রচেষ্টা দিয়ে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা কঠিন। এসডিজি’র খাদ্য ও পৃষ্টি সম্পর্কিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হলে কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য অপচয় কমানোর দিকেও নজর দেয়া দরকার। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কৃষি জমির পরিমাণ কমছে এবং জমির উৎপাদনশীলতাও হ্রাস পাচ্ছে। আমরা যদি খাদ্য অপচয় মাত্র ৫% কমাতে পারি তাহলে দেশ টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। সভার প্রধান অতিথি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আমদানী নির্ভরতা কমাতে হবে। আমাদের নিজেদের সামর্থ্য বাড়াতে হবে। খাদ্য অপচয় রোধ করতে হলে পারিবারিক ও স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কর্মসূচী হাতে হবে। সামগ্রিকভাবে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারী-বেসরকারী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য অপচয় রোধে ইতোমধ্যে যে ‘উত্তম অনুশীলন’গুলো রয়েছে তা একটা জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। খাদ্য অপচয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত এবং গবেষণাগুলোকে একটা জায়গায় এনে তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া প্রয়োজন বলে ডঃ রৌফ গুরুত্ব আরোপ করেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here