চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ প্রত্যাশীরা হতাশায় ভুগছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশাসনে যাদের চাকরীর মেয়াদ শেষ পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনেকেই চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রত্যাশী নন তাদের কথা আলাদা। অনেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষনে নানারকম কর্ম করছেন। দৃষ্টি আকর্ষনে এমন কর্মও করছেন যা মানবিক এবং নৈতিকতার দিক থেকে অপরাধ। অনেকে উচ্চ পর্যায়ে উঠে নিজেকে তাল গাছ মনে করেন। কিন্তু ভাবেন না যে, তালগাছ উঁচু হলেও ছায়া পর্যন্ত দিতে পারে না। এমনকি গাছের ফলটাও পরে নিজে ইচ্ছায়। আমরা জানি লেজ থাকলে মাঝে মাঝে নাড়াতে হয়। তবে লেজ কেউ নাড়িয়ে দেয়না। নিজের লেজ নিজেকেই নাড়াতে হয়। এ মুহুর্তে অনেকেই এরকম লেজ নাড়াচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি, পদায়নের ঘটনা সব সরকারের সময়ই হয়েছে। নিকট অতীতেও অনেক ঘটেছে। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা আঞ্চলিকতার সুযোগ নিয়েছেন। বেশ কয়েকজন সচিব পূর্ন মেয়াদে চাকুরি করে সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পরও চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। মেয়াদ শেষে তিনবার চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার নজিরও রয়েছে। সরকারের জন্য এদের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া জরুরি বলে অযৌক্তিক দাবি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাও করেন অনেকে। নিজেদের ক্যাডারের একান্ত আপনজনরা থাকায় এবং কোন কোন প্রভাবশালী নেতার সমর্থন পাওয়ায় অনেকে সফলও হন। কিন্তু সরকারের শীর্ষপর্যায়ে থেকে আর সুবিধা করতে পারছেন না চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ প্রত্যাশীরা। একটা সুশৃঙ্খল মেধাবী, দক্ষ যোগ্য প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক বলেই অনৈতিক, রাজনৈতিক কোন বিবেচনা এক্ষেত্রে স্থান পাচ্ছেনা। চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে নিচের দিকের অফিসারদের ভবিষ্যতের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়। এতে অফিসাররা হতাশ, অসন্তষ্ট হন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার আকাঙ্খা তাদেরও। যোগ্যতা, দক্ষতা থাকা সত্তে¡ও তারা উপরে উঠতে পারছেন না। একজন সচিবকে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিলে তার নিচের কমপক্ষে চল্লিশজন অফিসারের ভবিষ্যত রুদ্ধ হয়ে যায়, পদোন্নতি আটকে যায়। যার প্রভাব প্রশাসনে পড়ে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এই বাস্তবতা উপলব্ধি করা হচ্ছে বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিবদের মধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই নীতি ও পরিবর্তিত মন মানসিকতা গভীরভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন ব্যক্তিস্বার্থ সন্ধানী, সুবিধাবাদী কিছু সংখ্যক সিনিয়র অফিসার। যাদের চাকুরির মেয়াদ শেষ প্রায় এবং যারা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা তদবীর করছেন। চলতি ডিসেম্বরে এবং আগামী জানুয়ারি-ফেব্রæয়ারির মধ্যে প্রায় পনের জন সচিব এলপিআর এ যাবেন। এলপিআর এর প্রস্তুতি নেয়ার বদলে তারা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের।
এরা অনেক সময় আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বের চেয়েও অনেক বেশি সরকার দলীয় রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী বনে যান।
সরকারের এই মেয়াদে প্রায় সকল সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিবরা ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিরন্তর করে আসছেন। এই কর্মকর্তাদের অধিকাংশের পদোন্নতির পিছনে রাজনৈতিক বিশ্বাস স্পষ্টতই মুখ্য বিবেচ্য হয়ে এসেছে। উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব অতিরিক্ত সচিব প্রশাসনের সর্ব পর্যায়েই এখন ভিন্ন মতের অফিসার দৃশ্যত নেই। বিএনপি ও জামায়াত মনোভাবাপন্ন কিছু সংখ্যক অফিসার যে নেই তাও নয়। তবে তারা নিজেদের আসল পরিচয় রাজনৈতিক বিশ্বাস চেপে রেখে পদোন্নতিসহ সরকারি সুবিধা লাভকেই মুখ্য করে দেখছেন। রাজনৈতিক ময়দানে কার্যকর বিরোধী দলের অবর্তমানের কারনেই ভিন্ন মতের অফিসাররাও সরকারি দলের নীতি আদর্শের অনুরাগী, বিশ্বাসী বলে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলেছেন। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়েও তারা এতে সফলকাম হয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নিয়েছে। সচিবদের উপর অনেক মন্ত্রীর নির্ভরতা বেড়েছে। যার সুযোগ নিচ্ছেন অনেব সচিব।
রাজনৈতিক অতীত, বিশ্বাস দলীয় আনুগত্য প্রকাশ রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক প্রভৃতি প্রশাসনের চাকুরি বিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ। কিন্তু তার তোয়াক্কা করা হচ্ছেনা। ব্যক্তিগত পেশাগত সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা, গৌন হয়ে আসছে। এরফলে পেশাগতভাবে অফিসারদের যোগ্যতা দক্ষতার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। এই বাস্তবতা নিয়েই সরকার চলছে। দলবাজি, আঞ্চলিকতার বিষয়টি শীর্ষ পর্যায়ে থেকে ইদানিং আর গুরুত্ব না দিয়ে পেশাগত দক্ষতা, মানের উপর সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সুদক্ষ, পেশাদার হিসেবে অফিসারদের গড়ে উঠার বিষয়টি মুখ্য করে দেখা হচ্ছে। উপসচিব, যুগ্ম সচিব পদের অফিসারদের পেশাদারি মনোভাব গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here